এমপি হওয়ার দৌড়ে যে নারী আইনজীবীরা
জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত ৫০টি নারী আসনে মনোনয়ন পেতে দৌড়ঝাঁপ শুরু করে দিয়েছেন বেশ কয়েকজন নারী আইনজীবী। এরমধ্যে রয়েছেন অ্যাডভোকেট জেসমিন সুলতানা, ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজ, অ্যাডভোকেট কাজী শাহানারা ইয়াসমিন, অ্যাডভোকেট নাসরিন সিদ্দিকা লীনা, অ্যাডভোকেট জান্নাতুল ফেরদৌসী রুপা, অ্যাডভোকেট সালমা হাই টুনি, অ্যাডভোকেট শাহানা পারভিন, অ্যাডভোকেট জিনাত সোহানা চৌধুরী প্রমুখ।একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নির্বাচিতদের গেজেট প্রকাশের পর এরই মধ্যে তাদের শপথও হয়ে গেছে। নিয়ম অনুযায়ী, এর ৩০ দিনের মধ্যে তফসিল ঘোষণা করে ৯০ দিনের মধ্যেই নির্বাচন সম্পন্ন করতে হবে।
একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্র বলছে, এরই মধ্যে দল ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করে দিয়েছেন সংরক্ষিত এমপি পদে আগ্রহীরা। পাশাপাশি তাদের অনেকে গণভবনে প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার সঙ্গেও দেখা করছেন। প্রায় প্রতিদিনই গণভবনে ভিড় করছেন তারা।এদিকে আওয়ামী লীগ আগামীকাল মঙ্গলবার (১৫ জানুয়ারি) থেকে সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়ন পত্র বিতরণ শুরু করবে। একাদশ জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনে আওয়ামীলীগ থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশী নারী আইনজীবীদের সংক্ষিপ্ত পরিচয় নিম্নরূপ –
অ্যাডভোকেট জেসমিন সুলতানা : বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের আইনবিষয়ক উপ-কমিটির সদস্য, বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদের সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির সদস্য, সাবেক সহ সম্পাদক মহিলা আওয়ামী লীগ কক্সবাজার জেলা কমিটি। নির্বাচন পর্যবেক্ষণ কমিশনের আইন সহায়তা পর্যবেক্ষণ কমিটি। সদস্য, সাবেক সহ- সভাপতি মহিলা আওয়ামী আইনজীবি পরিষদ, সাবেক সহ-সভাপতি আওয়ামী আইনজীবি পরিষদ, সহ-সভাপতি আইন সহায়তা কমিটি একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি। এবার তিনি সংরক্ষিত নারী আসনে সংসদ সদস্য হতে চান।
ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজ : সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ও আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর। তিনি একাত্তরের ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটির আইন বিষয়ক সম্পাদক এবং বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনের অধ্যাপক। তিনি নীলফামারী অঞ্চল থেকে সংরক্ষিত নারী আসনে সংসদ সদস্য হতে চান।
অ্যাডভোকেট কাজী শাহানারা ইয়াসমিন : ঢাকা আইনজীবী সমিতির সিনিয়র সহ-সভাপতি। ০১/১১ এর সময় বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মামলায় অ্যাডভোকেট সাহারা খাতুন ও অ্যাডভোকেট মোঃ কামরুল ইসলামকে সার্বিক আইনি সহযোগিতা করেছেন। তিনি ২০০৪ সালে একুশে আগস্ট গ্রেনেড হামলার একজন ভিকটিম। একাদশ জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়ন প্রত্যাশী তিনি।অ্যাডভোকেট জান্নাতুল ফেরদৌসী রুপা সুপ্রিম কোর্টের সহকারী এ্যাটর্নী জেনারেল ও বাংলাদেশ মহিলা আওয়ামী আইনজীবী পরিষদের সাধারণ সম্পাদক। এছাড়া ২০০৬ সালে তিনি সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের কার্যকরি কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনিও সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়ন প্রত্যাশী।
অ্যাডভোকেট নাসরিন সিদ্দিকা লীনা : বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী। একইসঙ্গে তিনি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ আইন উপ-কমিটির সদস্য। এছাড়া তিনি কক্সবাজার সদর আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা মণ্ডলীর সদস্য। তিনি কক্সবাজার সদর-রামু আসনে আওয়ামীলীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী।
অ্যাডভোকেট সালমা হাই টুনী : সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী। তিনি ঢাকা আইনজীবী সমিতির সাবেক সাংস্কৃতিক সম্পাদক ও আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর ছিলেন। তিনি স্বেচ্ছাসেবক লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য। ওয়ান ইলেভেনের সময় দলীয় প্রধান শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের পক্ষে আইনি লড়াইয়ে সহযোগিতা করেছেন। প্রসিকিউটরের দায়িত্ব নেওয়ার পর তিনি সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর মামলা পরিচালনা করেন। এছাড়াও তিনি বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে কটূক্তি ও একাধিক জন্মদিন পালনের মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী হিসেবে কাজ করছেন। মুন্সীগঞ্জের সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য হতে চান তিনি।
অ্যাডভোকেট শাহানা পারভিন : সুপ্রিম কোর্টের এই সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতির বর্তমান কার্যকরি কমিটির বাংলাদেশ আওয়ামী আইনজীবী পরিষদ সমর্থিত সম্মিলিত আইনজীবী সমন্বয় পরিষদ থেকে নির্বাচিত একমাত্র নারী সদস্য। নোয়াখালী মহিলা আওয়ামী লীগের সভানেত্রী (১৯৮৬- আমৃত্যু ২০০৪ পর্যন্ত) মরহুমা কহিনুর আক্তার খানমের কন্যা অ্যাড. শাহানা নোয়াখালী অঞ্চল থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশী।
অ্যাডভোকেট জিনাত সোহানা চৌধুরী : চট্টগ্রাম জজ কোর্টের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর এবং চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের পরিদর্শক। এছাড়া তিনি চট্টগ্রাম আইনজীবী সমিতির সাবেক সদস্য। একইসঙ্গে তিনি সুচিন্তা বাংলাদেশ চট্টগ্রাম বিভাগের সমন্বয়ক। একাদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত আসনে তিনি চট্টগ্রাম অঞ্চল থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশী।প্রসঙ্গত, আইন প্রণয়নে নারীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে ১৯৭২ সালে সংবিধানে বিশেষ কোটা চালু করা হয়। সেই থেকে প্রতিটি জাতীয় সংসদ নির্বাচনেই নারীদের জন্য সংরক্ষিত আসন বরাদ্দ থাকছে। ২০০৪ সালে সংবিধানের চতুর্দশ সংশোধনীর মাধ্যমে ৪৫টি নারী আসন ১০ বছরের জন্য সংরক্ষণ করা হয়। এর আগে সংসদে সংরক্ষিত নারী আসন ছিল ৩০টি। পরে নবম সংসদে পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে ৫০টি সংরক্ষিত নারী আসন করা হয়। গত বছর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনসহ আরো ২৫ বছর নারীদের জন্য সংরক্ষিত আসন বহাল রাখতে সংবিধান (সপ্তদশ সংশোধন) বিল-২০১৮ পাস করা হয়েছে।সূত্র : ল’ইয়ার্স ক্লাব বাংলাদেশ ডটকম




