249159

কর্ণফুলীতে এবার নামছে ওয়াটার বাস

নিউজ ডেস্ক।। যানজট এড়াতে এবার কর্ণফুলী নদীপথে নামানো হচ্ছে ওয়াটার বাস। চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরগামী ফ্লাইটের যাত্রীদের সুবিধার্থে ওয়াটার বাস চালু করা হচ্ছে। চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ এই উদ্যোগ নিয়েছে। বন্দর পরিচালনা পরিষদের সদস্য (প্রশাসন ও যোগাযোগ) মো. আবু জাফর বলেন, নগরীর ব্যস্ততম কালুরঘাট-শাহ আমানত বিমানবন্দর সড়কের ২০ কিলোমিটারের অন্তত ১৫টি মোড়ে তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়। যানজটে পড়ে বিমানের যাত্রীরা অনেক সময় সিডিউল মতো বন্দরে পৌঁছতে পারেন না। এতে জনভোগান্তি যেমন হয়, তেমনি বিমানেরও লোকসান হয়। এসব বিবেচনা করে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ কর্ণফুলী নদীপথে ওয়াটার বাস নামানোর উদ্যোগ নেয়।

তিনি বলেন, নগরীর ব্যস্ততম বাণিজ্যিক প্রাণকেন্দ্র হিসেবে ধরা হয় জিইসির মোড়কে। এই স্পট থেকে শাহ আমানত বিমানবন্দরের দূরত্ব প্রায় ১৮ কিলোমিটার। নগরীর কেন্দ্রস্থল হিসেবে পরিচিত নিউমার্কেট মোড় থেকে শাহ আমানত বিমানবন্দরের দূরত্ব প্রায় ১২ কিলোমিটার। দুটি স্পট থেকে বিমানবন্দরে যেতে স্বাভাবিকভাবে আধঘণ্টার বেশি সময় লাগার কথা নয়। কিন্তু দুটি স্পট থেকে অন্তত ৭-৮টি স্পটের যানজট এড়িয়ে বিমানবন্দরে দুই ঘণ্টায়ও পৌঁছানো সম্ভব হয় না। বিশেষত নগরীর দেওয়ানহাট, চৌমুহনী, আগ্রাবাদ বাদামতল মোড়, কাস্টম মোড়, ইপিজেড মোড়ের যানজটে আটকে থাকতে হয় ঘণ্টার পর ঘণ্টা।

ফলে বন্দর কর্তৃপক্ষ ইতিমধ্যে নগরীর মূল পয়েন্ট থেকে পতেঙ্গা পর্যন্ত যাতায়াত সহজ করতে ওয়াটার বাস চালুর প্রক্রিয়া শুরু করেছে। বিশেষ করে নগরীর সদরঘাট থেকে পতেঙ্গা ১৫ নম্বর ঘাট পর্যন্ত কর্ণফুলী নদীতে নতুন একটি নৌরুট চালুর প্রক্রিয়া চলছে।  চট্টগ্রাম বন্দরের সচিব ওমর ফারুক বলেন, সদরঘাটে আমরা একটি টার্মিনালের মতো নির্মাণ করছি। এর কাজ প্রায় শেষপর্যায়ে। ওয়াটার বাসগুলো একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে নির্মাণের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। সেটাও খুব দ্রুতই পাব বলে আমরা আশা করছি। ওয়াটার বাসটি চালু হলে ফ্লাইট যাত্রীদের দুর্ভোগ অনেকটাই লাঘব হবে বলে আমরা মনে করছি।

সূত্রমতে, পতেঙ্গার ১৫ নম্বর ঘাট এলাকায় একটি জেটি নির্মাণেরও প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। সেখানে ওয়াটার বাসগুলো অবস্থান করবে। এছাড়া ওই জেটি এলাকায় বিমান সংস্থাগুলোর অফিস করার চেষ্টা চলছে। যাত্রীরা জেটিতে পৌঁছেই তাদের লাগেজ সেই অফিসে জমা দেবেন। সেখান থেকেই লাগেজ তল্লাশি করে পাঠিয়ে দেয়া হবে ফ্লাইটে। প্রাথমিকভাবে চারটি ওয়াটার বাস নির্মাণের জন্য বন্দর কর্তৃপক্ষ চট্টগ্রামের বেসরকারি জাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ওয়েস্টার্ন মেরিনকে দায়িত্ব দিয়েছে। ফেব্রুয়ারির মধ্যে ওয়াটার বাস চালুর প্রক্রিয়া শুরু করা যাবে বলে মনে করছেন বন্দরের কর্মকর্তারা।

পরিকল্পিত চট্টগ্রাম ফোরামের সহ-সভাপতি সুভাষ বড়ুয়া বলেন, সদরঘাট থেকে ওয়াটার বাসে নির্বিঘ্নে যাওয়া যাবে, ঠিক আছে। কিন্তু সদরঘাট পর্যন্ত যাবে কীভাবে? সড়ক ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা না আনলে ওয়াটার বাস চালুর সুফল তো পাওয়া যাবে না। চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সিভিল এভিয়েশনের ব্যবস্থাপক উইং কমান্ডার এবিএম সারওয়ার-ই-জামান বলেন, চট্টগ্রাম বিমানবন্দরে প্রতিদিন আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ মিলিয়ে ২৮টির মতো ফ্লাইট অপারেট করা হয়। গড়ে ২৮টি ফ্লাইটে সাড়ে চার হাজারের মতো যাত্রী থাকেন। গত বছর এই বিমানবন্দর দিয়ে ১৫ লাখ যাত্রী আসা-যাওয়া করেছেন। এই বিশালসংখ্যক ফ্লাইটের যাত্রীর দুর্ভোগ যানজটের কারণে চরম অবস্থায় পৌঁছেছে। নগরীর সদরঘাট থেকে ওয়াটার বাসে করে পতেঙ্গা ১৫ নম্বর ঘাট পর্যন্ত গেলে যানজট প্রবণ স্পটগুলো এড়ানো যাবে। এতে দুর্ভোগ যেমন কমবে, তেমনি শিডিউল মিসও হবে না।  উৎস: মানবজমিন।

ad

পাঠকের মতামত