247121

ড. কামালের আকুতি বিদেশি কূটনীতিকদের কাছে

নিউজ ডেস্ক।। একাদশ নির্বাচনের ভোটে নানা অনিয়মের অভিযোগ তুলে ধরে আরেকটা ‘ভালো’ নির্বাচন দিতে সরকারকে বুঝাতে ঢাকায় নিযুক্ত বিভিন্ন দেশের কুটনীতিকদের প্রতি অনুরোধ রেখেছেন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের আহ্বায়ক ড. কামাল হোসেন। রোববার বিকালে রাজধানীর গুলশানে হোটেল আমারই’তে কুটনীতিকদের সাথে রুদ্ধদ্বার বৈঠকের পর সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের আহ্বায়ক ড. কামাল হোসেন এ জানান।

কামাল হোসেন বলেন, ভালো আলোচনা হয়েছে। ভোটের দিন যা ঘটলো সেটা আমরা তুলে ধরেছি। তারাও (কুটনীতিকরা) স্বচক্ষে দেখেছেন। অর্থাত এটা নিয়ে কোনো বির্তক হয়নি। ওনারা শুনলেন, আমরা কি বললাম। আমি বলেছি, তোমরা সরকারকে বুঝাও যে, এর সমাধান করতে হলে আরেকটা ভালো নির্বাচন দিতে হবে। তিনি বলেন, তারা বলেছে যে, তোমরা কী চাও? আমরা বলি যে, এই নির্বাচন যেহেতু হয়নি। আরেকটা ভালো নির্বাচন সরকার দিলে শান্তিপূর্ণভাবে সবাই ভোট দিতে পারে। এটা হলে শান্তিপূর্ণ সমাধান হবে। দেশের উজ্জ্বল ভবিষ্য আমরা সবাই মিলে গড়ব।

কুটনীতিকরা আপনাদের কথা শুনে কী বললেন- এই প্রশ্নের জবাবে ড. কামাল বলেন, এখন আমাদের কথা হলো যে, ঠিক আছে ‍যা হয়েছে হয়েছে। এখন একটা ভালো নির্বাচন দেয়া হোক। আমরা বলেছি, সবাই গঠনমূলক একটা ভুমিকা রাখতে পারে। আমরা কারো বিপক্ষে নই। সরকারকে আমরা বলব যে, আমরা মনে করি, সকলের শুভাকাঙ্খি হিসেবে দেশে শান্তিপূর্ণভাবে আরেকটা নির্বাচন হলে তার যা ফলাফল হয় তার ভিত্তিতে একটা গণতান্ত্রিক সরকার হবে। সেই সরকারই মানুষের আকাংখা পুরণ করতে পারে।

বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ডেভিড আর্ল মিলারসহ যুক্তরাজ্য, কানাডা, ফ্রান্স, ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূতসহ ৩০টি বেশি দেশের কুটনীতিকরা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া রাশিয়া, চীন, কোরিয়া, ফ্রান্স, সুইডেন, স্পেন, জার্মানী, নরওয়ে, ভারত, পাকিস্তান, জাপান, অস্ট্রেলিয়া, ইতালী, সুইজারল্যান্ড, তুরস্ক, নেদারল্যান্ড, ডেনমার্ক, নেপাল, ভুটান, শ্রীলংকার কুটনীতিকরাও ছিলেন বলে জানিয়েছেন ফ্রন্টের নেতারা।

বৈঠকে ড. কামাল হোসেন একাদশ নির্বাচনের ভোট পরিস্থিতি ও নির্বাচনের আগে ও পরের ঘটনাবলী তুলে ধরে কুটনীতিকদের ব্রিফিং করেন। পরে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরও সারাদেশে নির্বাচনী সহিংসতা নিয়ে কথা বলেন। বৈঠকে নির্বাচনে ভোটের নানা অনিয়মের একটি ভিডিও পাওয়া পয়েন্টও উপস্থাপন করা হয়। কুটনীতিকদের তথ্য প্রমাণাদিসহ কাগজপত্র সরবারহ করা হয়। বৈঠকে নির্বাচনের প্রচারনায় ক্ষমতাসীন দলের সন্ত্রাসী ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যৌথভাবে বিভিন্ন স্থানে বিরোধী দলের প্রার্থীদের নির্বাচনী প্রচারনায় হামলার শিকার ধানের শীষের প্রার্থী গয়েশ্বর রায়, আফরোজা আব্বাস, রুমানা মোর্শেদ কনক চাঁপা, জেবা খানও উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকে বিএনপির মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, আবদুল মঈন খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, আবদুল আউয়াল মিন্টু, সাবিহ উদ্দিন আহমেদ, আসাদুজ্জামান রিপন, মাসুদ আহমেদ তালুকদার, ফাহিমা নাসরিন মুন্নী, তাবিথ আউয়াল, গোলাম মওলা রনি, জেএসপির আসম আবদুর রব, গণফোরামের সুব্রম চৌধুরী, মোস্তফা মহসিন মন্টু, নাগরিক ঐক্যের মাহমুদুর রহমান মান্না, গণস্বাস্থ্যের ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন। উৎস: বিডি-জার্নাল।

ad

পাঠকের মতামত