‘বিএনপিকে আরামপ্রিয়তা ছাড়তে হবে’
নিউজ ডেস্ক।। ‘আমাদের নতুন সময়’র সম্পাদক নাঈমুল ইসলাম খান বলেছেন, বিপ্লব নিজে নিজে হয়ে যায় না। বিপ্লবের জন্য দীর্ঘ প্রয়াস লাগে। আগে আরামপ্রিয়তা ছাড়তে হবে বিএনপিকে। মঙ্গলবার ডিবিসি নিউজ’র টকশোতে তিনি আরো বলেন, ত্যাগ-তিতীক্ষা ছাড়া জনগণকে কাছে পাওয়ার আশা করা যায় না। বঙ্গবন্ধু কিন্তু পাকিস্তানের সময় এত আরাম-আয়েশ করে রাজনীতি করেননি। এমনকি আওয়ামী লীগও ২১ বছর আরাম করে রাজনীতি করেনি। বঙ্গবন্ধুর উপর রচিত বই আর আওয়ামী লীগের একুশ বছরের রাজনীতির বই পড়ে বিএনপির শিক্ষা নেয়া উচিত।
তিনি আরো বলেন, স্বাধীনতাউত্তর সাম্প্রতিক সময়ে স্বাধীনতাবিরোধী জোয়ান তাগড়া ছিলো প্রচুর। ওই সময়ে তাদের ভোটের মাধ্যমেই বিএনপি গঠিত হয়েছিলো। আজকে ৪৭ বছর পার হয়ে গেছে। আজ কিন্তু ওরকম তাগড়া রাজাকারের সংখ্যা তেমন নেই। এমনকি আজ স্বাধীনতাবিরোধীদের সন্তানরাও লেখাপড়া করে স্বাধীনতা নিয়ে গৌরব করে। সুতরাং আজকে এসে কোনোরকম পরিশ্রম ছাড়াই বিপ্লব হয়ে যাবে এমন আশা করা যুক্তিসঙ্গত নয়।
নাঈমুল ইসলাম খান বলেন, নির্বাচন নিয়ে আপত্তি থাকতে পারে এবং এটার জন্য তারা কোর্টে যেতে পারে, প্রেসক্লাবে সেমিনার-সিম্পোজিয়াম বছরব্যাপী করতে পারে, পার্লামেন্টের ভেতরেও নির্বাচনী রিফর্মের জন্য তারা প্রস্তাব দিতে পারেন। রাজনীতিতে বিরোধীদলের এটিই সৌন্দর্য। কিন্তু সংসদে না যাওয়াটা বিরাট বোকামী হবে। সংসদে না গেলে জনগণের ম্যান্ডেটকে অপমান করা হবে, যেহেতু সমস্ত নিয়ম-কানুন মেনে নিয়েই তারা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছেন।
নাঈমুল ইসলাম খান আরো বলেন, ১০ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে বিএনপি যখন একের পর এক সিটি কর্পোরেশন ও উপ-নির্বাচনগুলোতে জিতছিলো, তখন তারা জনগণের সঙ্গে একধরনের বিশ্বাসঘাতকতা করে নানা শর্তে নির্বাচনে গেলো না। অথচ তাদের উচিত ছিলো, শর্ত বা দাবিগুলো করতে থাকা আর নির্বাচনেও যাওয়া। এই একটি ভুলের খেসারত দিতে ২০/২৫ বছর লেগে যাবে। দ্বিতীয়বার ভুল করবেন, যদি আসন কম পাওয়ার রাগে সংসদ সদস্য পদটা ত্যাগ করে।
জাতীয় পার্টি দ্বিতীয় বৃহত্তম রাজনৈতিক দল সংসদের ভেতরে। কিন্তু বাইরে দেশের মোট ভোট হিসেব করলে দ্বিতীয় বৃহত্তম দল ঠিকই বিএনপি। তাই বিরোধিতার খাতিরে বিরোধিতা না করে উন্নত বিশ্বের মতো সরকারের নানা কাজে বিরোধীদলের অংশ নেয়া উচিত বলে মনে করেন এই সিনিয়র সম্পাদক। তিনি বলেন, টেলিভিশনে দেখেছি, নির্বাচনে কিছু অনিয়ম আর কারচুপি হয়েছে। কিন্তু এই কারচুপিটা হতে পারতো না, তারা যদি জনগণনকে উদ্বুদ্ধ করতে পারতো। সবার মাঝেই একটি আশংকা ছিলো যে, বিএনপি ক্ষমতায় আসলে ভোটের দিন রাত থেকেই হানাহানি-খুনাখুনী হবে, এই ধারণার বিপরীতে তারা মানুষকে আশ্বস্ত করতে পারেননি।
সকল প্রাইমারীতে একইসময়ে নতুন বই বিতরণ এবং বাচ্চাদের জন্য এই আনন্দকে জাতীয় উৎসবে পরিণত করা সরকারের সৃজনশীল ও প্রগতিশীল সিদ্ধান্ত উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রাইমারী শিক্ষা খুবই গুরুত্বপূর্ণ এবং এই সরকার প্রাইমারী শিক্ষাকে কতটুকু গুরুত্ব দেয়, এটি তারই প্রমাণ বলে প্রশংসা করেন এই সিনিয়র সম্পাদক।




