‘দুই আসন পাওয়া বিজেপিও ক্ষমতায় এসেছে’
নির্বাচনের পর গতকাল সোমবার গণভবনে দেশি বেদেশি সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী ও ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের সভানেত্রী শেখ হাসিনা। তিনি এ নির্বাচনে নিজ দলের বিপুল ভোটে জয়লাভ এবং বিরোধী দল বিএনপির ভরাডুবি নিয়ে নানা কথা বলেন।তিনি মনে করেন, নির্বাচনে হেরে যাওয়া কোনো বড় ঘটনা নয়, কেননা এমন অনেক দল আছে যারা বিপুল ভোটে পরাজিত হওয়ার পরও ক্ষমতায় এসেছেন। এ প্রসঙ্গে তিনি ভারতের ক্ষমতাসীন দল বিজেপি ও বিরোধী দল কংগ্রেসের দৃষ্টান্ত তুলে ধরেন। এমনকি তিনি নিজেও কখনো ‘ক্ষমতায় আসতে পারবো’ ভাবেননি।’ সূত্র: ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস।
প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে নির্বাচনে বিরোধী দলের ভরাডুবি সংক্রান্ত এক প্রশ্নের হাসিনা ভারতের বিরোধী দল কংগ্রেসের দৃষ্টান্ত টেনে আনেন। বলেন, ‘গত নির্বাচনে তারা (কংগ্রেস) কত আসন পেয়েছিল? এমনকি নির্বাচনে জিতলে কে দেশের প্রধানমন্ত্রী হবে তারা তো সেটাই ঠিক করতে পারেনি। এত পুরনো আর ঐতিহ্যবাহী দল হয়েও তারা নিজেদের নেতৃত্ব নিয়ে কোনো সিদ্ধান্তে আসতে পারেনি। তাই লোকজন তাদের ভোট দেয়নি।’‘আপনাদের মনে আছে, যে নির্বাচনে রাজীব গান্ধী বিজয়ী হয়েছিলেন, সেই নির্বাচনে বিজেপি কত ভোট পেয়েছিলেন? এখন তো তারা ক্ষমতায়। তাই কোনো দল কাজ ভালো করলে তাদেরও সুযোগ আছে।’ দলের নেতা কর্মীদের তুমুল করতালির মধ্যেই এসব কথা বলেন হাসিনা।
রোববারের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন দল ২৯৮ আসনের মধ্যে ২৮৮ আসন পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। এতে মাত্র সাত আসন পেয়েছে বিএনপি।‘আমি সামরিক শাসন কিংবা কোনো কর্তৃত্ব পছন্দ করি না। আমি সম্পূর্ণ উদারভাবে দেশ চালাচ্ছি। তাই বলে সন্ত্রাসবাদ, মাদক আর দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দেব না। এসব দুষ্ট চক্র থেকে দেশের জনগণকে রক্ষার জন্য আমি সর্বোচ্চ চেষ্টা করব।’ বলছিলেন হাসিনা।নির্বাচন সম্পর্কে তিনি বলেন, জনগণ সম্পূর্ণ স্বাধীন ও মুক্ত পরিবেশে ভোট দিয়েছে , বিশেষ করে নারী ও তরুণরা। তার ভাষায়, ‘দেশের উন্নয়ন করতে চাইলে গণতন্ত্রকে জোরদার করতে হবে।’
সোমবার গণভবনে অনুষ্ঠিত ওই সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম ও গওহর রিজভীও আরো উপস্থিত ছিলেন।এসময় তিনি বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব কথা স্মরণ করে বলেন, ‘আমাদের অনেক খারাপ পরিস্থিতি পার করতে হয়েছে। কিন্তু আল্লাহর অশেষ রহমতে আমরা দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে পেরেছি। তাই এই নির্বাচন আমাদের জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ।’তিনি বিরোধী দল সম্পর্কে বলেন, ‘তারা কারা? তারা তো সামরিক শাসক দ্বারা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। ওই সামরিক স্বৈরাচার প্রথমে ক্ষমতা দখল করেছেন এবং পরে রাজনীতিতে আসার পর সবকিছু দখল করেছিলেন।’বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা এবং দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার স্বামী জিয়াউর রহমান সম্পর্কে তিনি এ কথা বলেন।
এরপরই তিনি জামায়াতে ইসলামীর প্রসঙ্গ তুলে বলেন, ‘তাদের দোসর তো যুদ্ধাপরাধীরা। তাদের (বিএনপি) তো কোনো নেতা নেই। দুর্নীতি মামলায় শাস্তি পেয়ে তিনি (বেগম খালেদা জিয়া) এখন জেল খাটছেন। আর তার পুত্র তারেক জিয়া অপরাধী ও ফেরারি। ‘একটি দলের নেতা যদি দোষী সাব্যস্থ হন এবং আর একজন ফেরারি হন ,তবে তাদের কাছ থেকে আপনারা কি আশা করতে পারেন?’বলছিলেন শেখ হাসিনা।এরপরই দলের বিপুল জয় সম্পর্কে তার কথা, ‘আপনারা জানতে চেয়েছেন লোকজন কেন আমাকে ভোট দিয়েছে? আমি আপনাদের কাছে জানতে চাই,তারা কেন ভোট দেবে না? জনগণ উন্নয়নের সুফল ভোগ করছে এবং তারা উপকৃত হচ্ছে। আমি, আমার পরিবারের সদস্য কিংবা আমার সরকার কিন্তু এই উপকৃত হচ্ছি না।’
এরপরই সাংবাদিকদের কাছে তার প্রশ্ন ‘জনগণ কি চায় জানেন? তারা নিজেদের মৌলিক চাহিদাগুলো পূরণ করতে চায়। যখন তারা দেখে সরকার তাদের এসব চাহিদাগুলো পূরণ করছে, তখন তারা তাদেরই ভোট দিতে চায়।’শেখ হাসিনার মতে, ‘সন্ত্রাসী তৎপরতার’আর দুর্নীতির কারণেই বিএনপি-জামায়াত জোটের কাছ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে ভোটাররা। তার ভাষায়, ‘তাদের কোনো অগ্রগতি নেই। এখন তো লোকজন উন্নত জীবন উপভোগ করছে। আমার স্বপ্ন দেশের একজন মানুষও পিছনে পরে থাকবে না।’এরপর আওয়ামী লীগ সভানেত্রী বলেন, ‘বিএনপি কেন হেরেছে জানেন? নিজেদের দোষেই তারা হেরেছে।’সূত্র: ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস




