245590

সেই ড. কামালই এই ড. কামাল

২০১৯ সাল শুরুর আগমুহূর্তে এবং ২০১৮ সাল শেষের শেষমুহূর্তে বাংলাদেশ একটি নতুন সময়ে পা রেখেছে। এর জন্য বিশিষ্ট আইনজীবী ও গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেনের উদ্যোগী ভূমিকা ছিলো। কারণ একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপিকে আনার পেছনে তিনিইতো সর্বে সর্বা।আমরা যদি ১৯৮৬ সালে অনুষ্ঠিত দেশের তৃতীয় জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিকে ফিরে তাকাই তাহলেই দক্ষ কামাল হোসেনের দক্ষতা আপনারাও বুঝতে পারবেন।১৯৮৬ সালের নির্বাচন আয়োজন করেছিলো স্বৈরশাসক এইচ এম এরশাদ। সেই নির্বাচনে অংশ নিতে চাননি বঙ্গবন্ধু কন্যা ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। কিন্তু ড. কামাল হোসেন তাকে নির্বাচনে যাওয়ার জন্য অনুরোধ করেন। ড. কামাল বলেন, এই নির্বাচনে না গেলে কোনো দিনও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করা সম্ভব হবে না। অনেক অনুরোধের পর অবশেষে আওয়ামী লীগ সেই নির্বাচনে অংশ নেয়।

ভোটগ্রহণের দিন হঠাৎ করেই মধ্যরাতে নির্বাচনের ফল ঘোষণা করা হয়। আর এতে বিজয়ী হয় জাতীয় পার্টি। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে মিডিয় ক্যু করেন স্বৈরশাসক এরশাদ।তবে মজার ব্যাপার হলো, এই নির্বাচনে আওয়ামী লীগকে আনতে ড. কামালের সবচেয়ে উদ্যোগী ভূমিকা থাকলেও নির্বাচন শেষ হয়ে গেলে ভোল পাল্টে ফেলেন তিনি। বলতে শুরু করলেন, আওয়ামী লীগের এই নির্বাচনে যাওয়া ঠিক হয়নি, অনেক বড় ভুল হয়েছে।অন্যদিকে এই নির্বাচনে অংশ নেয়ার জন্য আওয়ামী লীগকে শুনতে হয় অনেক বদনাম। কিন্তু ডিগবাজিতে দক্ষ কামাল হোসেনের গায়ে বিন্দু পরিমাণ আচঁও লাগেনি।

এবার আসছি ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনী দিনে। সেদিন সকালে ড. কামাল হোসেন রাজধানীর ভিকারুননিসা স্কুলে ভোট দেন। পরে গণমাধ্যমের সামনে এলেন সৌম্য-শান্ত ভঙ্গিতে। বললেন, নির্বাচনের শুরু থেকেই মিনিটে মিনিটে ফোন পাচ্ছিলেন। আশা করছিলেন এই বোধহয় একটা ফোন পাবেন। যেটাতে তিনি শুনবেন, নির্বাচন ভালো হচ্ছে। কিন্তু এরকম একটিও ফোন তিনি পাননি বলে অনুযোগ করলেন।কয়েকদিন আগেই নির্বাচন কমিশনে যে মারমুখী ড. কামাল ছিলেন, ভোটের দিন দুপুরে তার চেহারায় লেশমাত্র ছিল না। রাত ৮টায় সংবাদ সম্মেলন করার কথা ছিল সেটাও বাতিল করলেন। পরে রাতে বৈঠক করেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে। ওই বৈঠকে তিনি সাফ জানিয়ে দেন, হরতাল অবরোধের মতো কোনো সহিংস এবং আক্রমণাত্মক কর্মসূচির মধ্যে তিনি নেই।

বৈঠকে উপস্থিত একাধিক নেতা জানান, ড. কামাল আপাতত বিশ্রামে যাওয়ার অভিপ্রায়ও জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিবকে।ড. কামাল হোসেনের ঘনিষ্ঠসূত্রগুলো বলছে, আগামী কয়েকদিনের মধ্যেই বিদেশে যাচ্ছেন। কিছুদিন ধরেই তার শরীরের উপর দিয়ে ধকল গেছে। ডিসেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহেই তার চিকিৎসার জন্য দেশের বাইরে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু নির্বাচনের জন্য তিনি যাননি।৩০ ডিসেম্বর জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের জন্য ‘অবিশ্বাস্য’ এই ফলাফলের পরও কেন শান্ত, স্নিগ্ধ ড. কামাল হোসেন? এ ব্যাপারে বিএনপির অনেক নেতা বলছেন, ড. কামাল হোসেন আসলে সরকারের এজেন্ট। বিএনপিকে নির্বাচনে আনার দায়িত্ব নিয়েই তিনি জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠন করেছিলেন। ড. কামাল হোসেনের আচার আচরণে মনে হচ্ছে তার দায়িত্ব শেষ। ‘অপারেশন সাকসেসফুল’।

অনেক বিএনপি নেতা আরেকটু আগ বাড়িয়ে বলেন, কারো এজেন্ট হিসেবেই ড. কামাল মিশনে নেমেছিলেন। তিনি নিজে নির্বাচন করলেন না। সারাটা সময় বললেন, ভোট বর্জন করবো না। এর অর্থ কী?নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএনপির এক নেতা বলেন, ‘আওয়ামী লীগের জন্য একটা বড় চ্যালেঞ্জ ছিল অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলার জন্যই ড. কামাল হোসেনের একমাত্র দায়িত্ব ছিল বিএনপিকে নির্বাচনে আনা এবং শেষ পর্যন্ত নির্বাচনে রাখা।’৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনের পর বিএনপিতে এখন জোরেসোরেই ড. কামাল হোসেনের ভূমিকা নিয়ে কথা হচ্ছে। অনেকেই বলছেন, ‘ড. কামাল হোসেনের সঙ্গে যাওয়ার সিদ্ধান্তটাই ছিল ভুল। জামায়াতের সঙ্গে যেমন কখনো আওয়ামী লীগের ঐক্য হবে না, ঠিক তেমনি সাবেক আওয়ামী লীগারদের সঙ্গেও বিএনপির ঐক্য হতে পারেনা। ড. কামালের সঙ্গে ঐক্য তার সত্যতা প্রমাণ করল।’ সূত্র: বাংলাদেশ জার্নাল

ad

পাঠকের মতামত