বিএনপির সমর্থনে জয়ী হয়ে যোগ দিচ্ছেন আওয়ামী লীগে!
বগুড়া-৭ (গাবতলী-শাজাহানপুর) আসনে বিএনপির সমর্থন নিয়ে বিপুল ভোটে এমপি হওয়া স্বতন্ত্র (ট্রাক) প্রার্থী রেজাউল করিম বাবলু আওয়ামী লীগে যোগ দিচ্ছেন বলে গুঞ্জন উঠেছে। তিনি এ ব্যাপারে আওয়ামী লীগের দায়িত্বশীল নেতাদের সঙ্গে ইতিমধ্যে যোগাযোগ শুরু করেছেন।জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও জেলা পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান আসাদুর রহমান দুলু বলেন, বাবলু আমাদের সঙ্গেই রাজনীতি করেন। আগামী সপ্তাহে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে আওয়ামী লীগে যোগ দেবেন।এদিকে শাজাহানপুর উপজেলা জাপা দাবি করছে, বাবলু এখনও তাদের কমিটির তথ্য ও প্রযুক্তিবিষয়ক সম্পাদক।
এসব খবরে বিএনপির নেতাকর্মীরা ধিক্কার ও ব্যঙ্গ করে বলছেন, ‘বাবলু ধানের শীষবোঝাই ট্রাক নিয়ে নৌকায় উঠছেন।’ তবে নব-নির্বাচিত সংসদ সদস্য রেজাউল করিম বাবলু ফোন বন্ধ রাখায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।জানা যায়, হাতে আলাদিনের চেরাগ পাওয়ার মতোই রাতারাতি আইনজীবীর সহকারী থেকে জাতীয় সংসদ সদস্য বনে গেছেন বগুড়ার স্বতন্ত্র প্রার্থী রেজাউল করিম বাবলু ওরফে গোলবাগী। বগুড়া-৭ (গাবতলী-শাজাহানপুর) ভিআইপি আসনের এখন সংসদ সদস্য তিনি। শেষ মুহূর্তে বিএনপির সমর্থন পাওয়ায় একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রায় সোয়া লাখ ভোট বেশি পেয়ে প্রতিপক্ষ স্বতন্ত্র প্রার্থীকে হারিয়ে জয় পেয়েছেন রেজাউল করিম বাবলু।
রেজাউল করিম বাবলুর বাবার নাম মইন উদ্দিন গোলবাগী। তার বাড়ি শাজাহানপুর উপজেলার ডোমনপুকুর গ্রামের নতুনপাড়া এলাকায়। আইনজীবীর সহকারী ছাড়াও তিনি একাধারে বহু পেশার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তিনি শাজাহানপুর ইউনিয়ন জামায়াতের একজন সক্রিয় কর্মী ছিলেন। উপজেলা জামায়াতের সাবেক আমির আব্দুর রহিম মাস্টার এই তথ্যের সত্যতা স্বীকার করেছেন। জামায়াত কর্মী থাকাকালে তিনি সাংবাদিকতা পেশায় জড়িয়ে পড়েন। এছাড়া ওই আসনের জাতীয় পার্টির এমপি আলতাফ আলীর সঙ্গে সহকারীর কাজও করেছেন তিনি। এক সময় অভ্যন্তরীণ মনোমালিন্যে আলতাফ আলী তাকে দূরে সরিয়ে দেন।
বিগত উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে শাজাহানপুর উপজেলা থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করেন রেজাউল করিম বাবলু ওরফে গোলবাগী জামানত হারান।খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ১৯৬২ সালের ১৩ নভেম্বর গোলবাগীয়া দরবার শরীফের মেহেদীবাগী সিলসিলার কামেল মোরশেদ বাবার দরিদ্র পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন রেজাউল করিম বাবলু। চার ভাই ও এক বোনের মধ্যে তিনি তৃতীয়। অপর তিন ভাইয়ের মধ্যে একজন মারা গেছেন, একজন স্থানীয় ব্যবসায়ী অপরজন শিক্ষক।১৯৭৮ সালে গোহাইল ইসলামিয়া উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ থেকে তিনি এসএসসি পাস করেন। বৈবাহিক জীবনে তার চার মেয়ে ও এক ছেলে। মেয়েদের বিয়ে দিয়েছেন। ছোট ছেলে পবিত্র কোরআনের হেফজ শেষ করে স্থানীয় একটি কামিল মাদরাসায় অষ্টম শ্রেণিতে লেখাপড়া করছে। মেয়ে জামাই সবাই স্থানীয় ব্যবসায়ী।
আইনজীবীর সহকারী ছাড়াও ম্যাট থেকে মেডিকেল ট্রেনিং নিয়ে দীর্ঘদিন স্থানীয় চিকিৎসক হিসেবে চিকিৎসা দিয়েছেন রেজাউল করিম বাবলু। এরপর নেকটার থেকে ট্রেনিং নিয়ে কম্পিউটার ট্রেনিং সেন্টার চালিয়েছেন।নব্বইয়ের দশক থেকে রেজাউল করিম বাবলু সাংবাদিকতা পেশার সঙ্গে জড়িত। বগুড়া থেকে প্রকাশিত দৈনিক করতোয়া পত্রিকায় লেখালেখির মধ্য দিয়ে তার সাংবাদিকতার জীবন শুরু হয়। এরপর দুর্জয় বাংলা, চাঁদনী বাজার, আজ ও আগামীকাল, দৈনিক বগুড়া, এস টিভিসহ স্থানীয় একাধিক পত্রিকায় তিনি কাজ করেন। শাজাহানপুর উপজেলা গঠিত হওয়ার পর স্থানীয় সাংবাদিকদেরকে নিয়ে শাজাহানপুর প্রেসক্লাব গঠন করেন। বর্তমানে তিনি অনলাইন নিউজ পোর্টাল জিটিভি নিউজের সম্পাদক হিসেবে কর্মরত আছেন এবং মাঝিপাড়া বিএম কলেজের প্রতিষ্ঠাতা।
এক সময়ের জামায়াতের কর্মী রেজাউল করিম বাবলু এক পর্যায়ে জাতীয় পার্টির রাজনীতির সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন। এখনো তিনি দলটির সঙ্গে জড়িত। এবারই প্রথম তিনি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে অংশগ্রহণ করেন এবং বিএনপির সমর্থন পেয়ে বিপুল ভোটে জয়লাভ করেন।বগুড়া-৭ (গাবতলী-শাজাহানপুর) আসন বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের জন্মভূমি হওয়ায় বিএনপির দুর্গ বলে পরিচিত। এই আসন থেকে বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া তিনবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এবার একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির দুর্গখ্যাত এই আসন থেকে মনোনয়ন উত্তোলন করেন খালেদা জিয়া এবং বিকল্প প্রার্থী হিসেবে গাবতলী উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোরশেদ মিল্টন ও শাজাহানপুর উপজেলা চেয়ারম্যান সরকার বাদল।
দুর্নীতির দুই মামলায় দণ্ডিত হওয়ায় খালেদা জিয়া এবং উপজেলা চেয়ারম্যান থেকে পদত্যাগ বৈধ না হওয়ায় মোরশেদ মিল্টন ও সরকার বাদলের মনোনয়ন বাতিল হয়ে যায়। ফলে বিএনপির এই আসনে বিএনপির প্রার্থী শূন্য হয়ে পড়ে।শেষ মুহূর্তে দলীয় প্রার্থী না থাকায় আসনটি ধরে রাখতে স্বতন্ত্র প্রার্থী রেজাউল করিম বাবলুকে সমর্থন দেয় বিএনপি। বিএনপির সমর্থন পেয়ে ১ লাখ ৮৯ হাজার ৩৮ ভোট পেয়ে বিপুল ভোটের ব্যবধানে ট্রাক প্রতীকে জয়লাভ করেন তিনি। সূত্র: বাংলাদেশ জার্নাল




