244489

সারা দেশে যেসব আসনে বিএনপির ভোট বর্জন

ভোট কারচুপি, কেন্দ্র দখল, পোলিং এজেন্টদের বের করে দেয়া ও দলীয় কর্মী-সমর্থকদের ভোট দিতে না দেয়াসহ অসংখ্য অভিযোগ তুলে সারা দেশে ধানের শীষ ও স্বতন্ত্রসহ প্রায় অর্ধশতাধিক প্রার্থী নির্বাচন বর্জন করেছেন। প্রার্থীদের অভিযোগ, পুলিশ এবং আওয়ামী লীগ কর্মীরা বেপরোয়াভাবে তাদের কর্মী-সমর্থকদের লাঠিপেটা করেছে এবং ভোটকেন্দ্রের আশেপাশেও যেতে দিচ্ছে না।রবিবার (৩০ ডিসেম্বর) সকালে ভোট শুরুর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই এসব প্রার্থীরা সরে দাঁড়ান। এর মধ্যে বিএনপি-জামায়াত-ঐক্যফ্রন্ট মনোনীত একাধিক প্রার্থীসহ স্বতন্ত্র প্রার্থীও রয়েছেন।

ঢাকা-১ : দুপুর ১২টার দিকে এ আসন থেকে ভোট বর্জনের ঘোষণা দেন স্বতন্ত্র প্রার্থী অ্যাডভোকেট সালমা ইসলাম। ভোটের আগের রাতেই ব্যালট পেপারে সিল মেরে বাক্স ভর্তি করা হয়েছে অভিযোগ করে ভোট বর্জন করেন তিনি।ঢাকা-১৭ : আসনটিতে বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) প্রার্থী আন্দালিব রহমান পার্থ নির্বাচন বর্জন করেছেন। রবিবার দুপুর সোয়া ১টার দিকে এ সিদ্ধান্ত জানান তিনি।ফরিদপুর-২ (নগরকান্দা–শালথা) : এ আসনে বিএনপির প্রার্থী শামা ওবায়েদ ইসলাম নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দিয়ে সংবাদমাধ্যম কর্মীদের জানান, তার আসনে ১২৩টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ১০০টি কেন্দ্রেই ভোটের আগের রাতেই ব্যালটে সিল মেরেছে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী-সমর্থকরা। আসনটিতে শামার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগ প্রার্থী সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী।

খুলনা-১ (দাকোপ-বটিয়াঘাটা) : দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে খুলনা-১ আসনের বিএনপি প্রার্থী আমির এজাজ খান ও জাতীয় পার্টির প্রার্থী সুনীল শুভ রায় ভোট বর্জন করেন। আসনটিতে নৌকার প্রার্থী হিসেবে লড়ছেন পঞ্চানন বিশ্বাস।খুলনা-৩ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী রকিবুল ইসলাম বকুল ভোট বর্জন করেছেন। আসনটিতে নৌকার প্রার্থী হিসেবে লড়ছেন মুন্নুজান সুফিয়ান।খুলনা-৪ আসনের বিএনপির আজীজুল বারী হেলাল ভোট বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন। তার অন্যতম প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী নৌকার প্রার্থী আবদুস সালাম মুর্শেদী।আরে আগে সকাল ১০টার দিকে খুলনা-৫ আসনে নির্বাচন বর্জন করেছেন ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী জামায়াতের কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির মিয়া গোলাম পরওয়ার।

খুলনা-৬ আসনে ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচনে অংশ নেওয়া জামায়াতের খুলনা মহানগর আমির আবুল কালাম আজাদ ভোট বর্জন করেন। বর্তমানে নাশকতার মামলায় তিনি কারাবন্দি আছেন।শেরপুর-৩ আসনে বিএনপি প্রার্থী ও দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য মো. মাহমুদুল হক রুবেল ভোট বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন।বাগেরহাট-৩ আসনে ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচনে অংশ নেয়া জেলা জামায়াতের নায়েবে আমির মোহাম্মদ আবদুল ওয়াদুদ নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন।বাগেরহাট-৪: এ আসনে জেলা জামায়াতের শুরা সদস্য মো. আবদুল আলীম বেলা ১১টা থেকে সাড়ে ১১টার মধ্যে ভোট বর্জন করেন। এ আসন থেকে জাপার উন্মুক্ত প্রার্থী সোমনাথ দে ভোট বর্জন করেছেন।

পাবনা-৫ আসনে ভোট বর্জন করেছেন ঐক্যফ্রন্ট থেকে মনোনীত প্রার্থী ইকবাল হোসেন।জামালপুর-২ (ইসলামপুর) : আসনটিতে দুপুরের দিকে ধানের শীষের প্রার্থী সুলতান মাহমুদ বাবু ভোট বর্জন করেছেন।গাইবান্ধা-১ : আসনটিতে ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচনে অংশ নেওয়া জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মো. মাজেদুর রহমান ভোট বর্জন করেছেন।গাইবান্ধা-৪ (গোবিন্দগঞ্জ) : জাতীয় পার্টির কাজী মশিউর রহমান এ আসন থেকে ভোট বর্জন করেছেন।

সাতক্ষীরা-২ আসনে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে জামায়াত নেতা মুহাম্মদ আবদুল খালেক ও ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে জামায়াত নেতা সাতক্ষীরা-৪ আসনে জি এম নজরুল ইসলাম নির্বাচন বর্জন করেছেন।দিনাজপুর-৬ : এ আসনে ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচনে অংশ নেওয়া জেলা জামায়াতের আমির মো. আনোয়ারুল ইসলাম ভোট বর্জন করেছেন।শরীয়তপুর-২ : এ আসনে বিএনপির সফিকুর রহমান কিরণ ভোট বর্জন করেছেন।বরিশাল-৪ আসনে ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচনে অংশ নেওয়া নাগরিক ঐক্যের জে এম নুরুর রহমান জাহাঙ্গীর ভোট বর্জন করেন।

ad

পাঠকের মতামত