অঝোরে কাঁদলেন সালমা ইসলাম
নিউজ ডেস্ক।। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শুরুর চার ঘন্টার মাথায় ভোট থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা এসেছে ঢাকা-১ (দোহার-নবাবগঞ্জ) আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী সালমা ইসলামের পক্ষ থেকে। রোববার দুপুরে ঢাকার এক প্রান্তের নবাবগঞ্জে কামারখোলা এলাকার বাড়িতে প্রার্থীর পক্ষে সংবাদ সম্মেলন করে ভোট বর্জনের এই ঘোষণা দেন প্রার্থীর স্বামী ব্যবসায়ী নুরুল ইসলাম বাবুল।
নিজেদের বাড়িতে বাবুল যখন সংবাদ সম্মেলনে কথা বলছিলেন, তখন পাশে বসা তার স্ত্রী সালমাকে অঝোরে কাঁদতে দেখা যায়। বারবার টিস্যু দিয়ে চোখের জল মুছতে ছিলেন তিনি। স্ত্রী সালমাকে উদ্ধৃত করে বাবুল বলেন, ‘আমার এজেন্ট ও ভোটারদের জানমালের রক্ষার্থে সরে দাঁড়ালাম। পুনরায় ভোট করার দাবি করছি। প্রধানমন্ত্রী এখানে আবার সুন্দর ও ভালো পরিবেশে একটা নির্বাচনের ব্যবস্থা করাবেন। এটা আমি আশা রাখি।’
দোহার-নবাবগঞ্জে পুনরায় নির্বাচন অনুষ্ঠানের দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, জনগণ, ভোটারদের নিরাপত্তা- সমস্ত কিছু বিবেচনা করে আমরা নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ালাম। এ নির্বাচন স্থগিত চাই। পুনরায় ঢাকা-১ আসনে নির্বাচন চাই। বিএনপিবিহীন ২০১৪ সালের নির্বাচনে জাতীয় পার্টির লাঙ্গল প্রতীক নিয়ে নৌকার আবদুল মান্নান খানকে হারিয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন সালমা। বিএনপি নেতা আবু আশফাক খন্দকারের প্রার্থিতা বাতিলের প্রেক্ষাপটে এবার সালমার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগের সালমান এফ রহমান।
সালমার সরে দাঁড়ানোর ব্যাখ্যায় ব্যবসায়ী বাবুল বলেন, গতরাতে আওয়ামী লীগের কিছু লোক আমাদের এজেন্টদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে পুলিশের সহায়তা গ্রেপ্তার করেছে। কাউকে বাড়িতে থাকতে দেয়নি। হত্যা-ক্রসফায়ারের ভয়ভীতি দেখানো হয়েছে। কারো বাড়িঘরে আগুন লাগানো হয়েছে। ‘বহু কষ্টে আমরা এজেন্ট দিয়েছিলাম। ভয়ের কারণে আমাদের এজেন্টদের অধিকাংশই আসেনি। কেউ কেউ কেন্দ্রে এসেছিল। পৌনে ১১ টার মধ্যে আমাদের ১৫০টি কেন্দ্রই এজেন্টবিহীন করা হয়। ১১ টা বাজতেই ১৭১টি কেন্দ্রেই একজনও থাকতে পারল না, বের করে দিয়েছে।’
নুরুল ইসলাম বাবুল বলেন, আমি একজন ব্যবসায়ী। আমি সব সময় আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে বিশ্বাস করি। প্রধানমন্ত্রীর আদর্শে বিশ্বাস করি। উনার উপরে শ্রদ্ধা রেখে সরে দাঁড়ালাম, প্রধানমন্ত্রীর কাছে দাবি রাখলাম এখানে সুন্দর নির্বাচন দিবেন।




