243968

খালেদা জিয়া কারাগারে যেভাবে পাবেন ভোটের খবর!

নিউজ ডেস্ক।। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনটি আসনে প্রার্থী হতে মনোনয়ন নিয়েছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। কিন্তু, দুর্নীতি মামলায় সাজাপ্রাপ্ত হওয়ায় তার প্রার্থিতা বাতিল করেন সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তারা। পরে নির্বাচন কমিশনে আপিল এবং সুপ্রিম কোর্ট ঘুরেও টেকেনি তার প্রার্থিতা। ফলে প্রথমবারের মতো নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারেননি সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া। শুধু তাই নয়, কারাবন্দি হওয়ায় এই প্রথম তিনি ভোটও দিতে পারছেন না।

দুটি দুর্নীতি মামলার সাজা মাথায় নিয়ে খালেদা জিয়া এবার ভোটের দিনও কারাগারে কাটাবেন। তবে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তার দল বিএনপি অংশ নিয়েছে। ২০ দলীয় জোট ছাড়াও প্রবীণ আইনজীবী ড. কামাল হোসেনকে সামনে রেখে গড়েছে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। ধানের শীষের প্রার্থীরা সারা দেশে ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী হিসেবেই পরিচিত হয়েছেন। প্রার্থীরা প্রচারণায় তাদের পোস্টারে খালেদা জিয়ার ছবিই ব্যবহার করেন। যদিও শেষ দিকে তা আটকে যায়।

ভোটের দিন খালেদা জিয়া কারাগারে কী করবেন, তা নিয়ে বাড়তি কৌতূহল রয়েছে সবার। বিএনপি নেতা ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নির্বাচনের খবর জানার জন্য খালেদা জিয়াকে একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত মাধ্যম বিটিভি’র ওপর নির্ভর করতে হবে। কারণ, কারাগারে তার কক্ষে শুধু বিটিভি’র সংযোগই রয়েছে।

আগে একমাত্র পত্রিকা হিসেবে জনকণ্ঠ দেয়া হতো। বেতন-ভাতা জটিলতায় কর্মীদের আন্দোলনের মুখে পত্রিকাটির প্রকাশনা হঠাৎ বন্ধ হয়ে যায়। পরে পত্রিকা চালু হলেও খালেদা জিয়া সেটি পাচ্ছেন না বলে জানা গেছে। ফলে বিটিভি নির্বাচনের যে ফলাফল দেবে, তাই তার একমাত্র ভরসা। চলতি বছরের ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় খালেদা জিয়াকে ৫ বছরের কারাদণ্ড দেন বিচারিক আদালত। পরে আপিলে এই সাজা ১০ বছর করা হয়।

এই মামলার রায়ের পর থেকেই তাকে পুরান ঢাকার নাজিম উদ্দিন রোডের কারাগারে রাখা হয়। মাঝে চিকিৎসার জন্য বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালেও এনে রাখা হয়।কারাবন্দি থাকা অবস্থায় গত ২৯ অক্টোবর জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় খালেদা জিয়াকে ৭ বছরের কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দেন বিচারিক আদালত। নাজিম উদ্দিন রোডের কারাগারে খালেদা জিয়ার নিরাপত্তায় ৬ জন বাই রোটেশন দায়িত্ব পালন করেন। তার সঙ্গে সার্বক্ষণিক আছেন গৃহকর্মী ফাতেমা বেগম।

বিএনপি নেতারা বলছেন, বিগত ২৮ বছরের মধ্যে এবারই প্রথম খালেদা জিয়া নির্বাচনে অযোগ্য বিবেচিত হয়েছেন। সংসদীয় গণতন্ত্র ফিরে আসার পর থেকে তাকে ছাড়া কোনো নির্বাচনে বিএনপি অংশ নেয়নি। দলের ভরাডুবি হলেও ব্যক্তি খালেদা জিয়া কখনও হারেননি। ১৯৯১ সাল থেকে যতগুলো আসনে নির্বাচন করেছেন, সব’কটিতেই জয়ী হয়েছেন তিনি। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান পরিবর্তন ডটকমকে বলেন, ‘দেশনেত্রী খালেদা জিয়া মিথ্যা মামলায় নির্জন করাগারে দিন কাটাচ্ছেন। সরকার ষড়যন্ত্র করে তাকে নির্বাচন থেকে সরিয়ে রেখেছে। কারাগারে থাকায় এবার তিনি ভোট দিতে পারছেন না।’

জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতা গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী পরিবর্তন ডটকমকে বলেন, ‘বাংলাদেশে কোনো বন্দি ভোট দিতে পারেন না। খালেদা জিয়াও পারবেন না।’ বিএনপি চেয়ারপারসনের প্রেস উইংয়ের সদস্য শায়রুল করিবর খান পরিবর্তন ডটকমকে বলেন, ‘খালেদা জিয়া ক্যান্টনমেন্টের শহীদ মঈনুল হোসের রোডের ঠিকানায় ভোটার হয়েছেন। কিন্তু, এবার তিনি ভোট দিতে পারছেন না।’ বিএনপি চেয়ারপারসনের প্রেস উইংয়ের আরেক সদস্য শামসুদ্দিন দিদার পরিবর্তন ডটকমকে বলেন, ‘প্রথমবারের মতো খালেদা জিয়া ভোট দেয়া থেকে বঞ্চিত হলেন। ফলে কারাগারে বসেই তিনি হয়তো ভোটের খোঁজ-খবর রাখবেন।’

যদিও গতকাল শুক্রবার খালেদা জিয়ার ভোট দেয়ার সুযোগ প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে নির্বাচন কমিশন সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ বলেন, ‘বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ভোট দেয়ার জন্য পোস্টাল ব্যালটের আবেদন করেছেন কি না, তা জানা নেই। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং অফিসার বলতে পারবেন।’ তবে বিএনপি নেতারা বলেছেন, খালেদা জিয়ার পক্ষে পোস্টাল ব্যালট সংগ্রহ করা হয়নি।

ভোটের মাঠে না থাকলেও কারাগারে থেকেই ধানের শীষের নেতাকর্মী, সমর্থক ও ভোটারদের উদ্দেশে বার্তা দিয়েছেন খালেদা জিয়া। তিনি আগের দিন বিকেল থেকেই ভোট কেন্দ্র পাহারা এবং ভোটের দিন রোববার ফজরের নামাজ পড়ে ভোটের লাইনে দাঁড়ানোর জন্য সবার প্রতি অুনরোধ করেছেন। কারাগার থেকে পাঠানো এক বার্তায় খালেদা জিয়া এই অনুরোধ করেছেন বলে জানিয়েছেন বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। শনিবার দুপুরে নয়াপল্টন কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি একথা জানান। তবে কার মাধ্যমে খালেদা জিয়া কারাগার থেকে এই বার্তা পাঠিয়েছেন, তা রিজভী উল্লেখ করেননি।

রিজভী বলেন, ‘সাধারণ ভোটার, ধানের শীষের সমর্থক ও নেতাকর্মীদের উদ্দেশে আওয়ামী দুঃশাসনবিরোধী বার্তা দিয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। তিনি নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বলেন— আগামীকাল (রোবার) আপনাদের সুযোগ আসবে স্বৈরশাসকদের হাত থেকে মুক্তি লাভের। দেশকে মুক্ত করার। সকল হুমকি-ধামকি ও ভয়ভীতি উপেক্ষা করে দলে দলে ভোটকেন্দ্রে যাবেন। আপনাদের এক একটি ভোট নিশ্চিত করতে পারে জনগণের মুক্তি ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ। ফলাফল না নিয়ে আপনারা ভোটকেন্দ্র ত্যাগ করবেন না।’

খালেদা জিয়া আরও বলেন, ‘আপনারা ভোটকেন্দ্র পাহারা দেয়ার মাধ্যমে জনগণের ভোটাধিকার রক্ষা করবেন। আজ (শনিবার) বিকেল থেকেই পালাক্রমে ভোট কেন্দ্র পাহারা দিবেন। ফজরের নামাজ পড়েই ভোটের লাইনে দাঁড়ানোর জন্য আপনাদেরকে অনুরোধ করছি। ভোট শুরুর আগে ব্যালট বাক্স পরীক্ষা করবেন। ভোট দিয়ে কেন্দ্রের আশপাশে থাকবেন। আপনারা শুধু সাধারণ ভোটারই নন, ভোটারদের অতন্দ্র প্রহরী। ভোট গ্রহণ শেষে ভোট গণনা করে কে কত ভোট পেল, তা নিশ্চিত না হয়ে সাদা কাগজে সই করবেন না। কোনো অবস্থাতেই প্রিজাইডিং অফিসারের সই ছাড়া কোনো কাগজে সই করবেন না। ফলাফল নিয়ে প্রিজাইডিং অফিসারের সঙ্গে রিটার্নিং অফিসার বা সহকারী রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ে যাবেন।’ উল্লেখ্য, এবারের নির্বাচনে খালেদা জিয়া ফেনী-১, বগুড়া-৬ ও ৭ আসনে প্রার্থী হয়েছিলেন। উৎস: পরিবর্তন।

ad

পাঠকের মতামত