ইসলামি আইনে বিশ্বাস করে না বিএনপি
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জিতলে ঐক্যফ্রন্ট সরকারে জামায়াতের কেউ থাকবে না বলে জানিয়েছেন ওই ফ্রন্টের মুখপাত্র ও বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে নিজের দলের সঙ্গে জামায়াতের পার্থক্য টেনে তিনি বলেছেন, বিএনপি জামায়াতের মতো ইসলামি আইনে বিশ্বাস করে না।বিএনপির এই নেতা দাবি করেন, দীর্ঘদিন ধরে ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বিএনপি। সেজন্য বেশ কয়েকবার তার দল ভারতের ক্ষমতাসীন দল বিজেপি নেতাদের সঙ্গে দেশের বাইরেও বৈঠকের চেষ্টা করেন। কিন্তু বিজেপি নেতারা বিএনপির সঙ্গে বৈঠক কিংবা কোনো ধরেনের যোগাযোগে আগ্রহ দেখাননি।
ফখরুলের ভাষায়, ‘আমরা দেশের বাইরেও ভারতীয় নেতাদের সঙ্গে দেখা করার চেষ্টা করেছি। আমরা ভারতীয় হাইকমিশনের কাছে অ্যাপয়েন্টমেন্ট চেয়েছি। এ নিয়ে আমরা মোট তিনবার তার সঙ্গে দেখা করেছি।’তিনি মনে করেন, নয়াদিল্লি বাংলাদেশের শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারকে হতাশ করতে চায়নি বলেই ভারতীয় কূটনীতিকরা বিএনপি নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে আগ্রহ দেখাননি।বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘আমরা ভারতের বন্ধুত্ব চাই। আমরা কোনো সাম্প্রদায়িকতা, গোড়ামিতে বিশ্বাসী নই, যেমনটি ভারত মনে করে থাকে।’‘আমাদের সম্পর্কে আরো একটা ভুল ধারণা প্রচলিত রয়েছে যে আমরা নাকি ভারত বিরোধী,’ বলছিলেন মির্জা ফকরুল। তার মতে, এটি সম্পূর্ণ মিথ্যা এবং তার দল বিএনপির বিরুদ্ধে ‘আওয়ামী লীগের প্রপাগান্ডা।’
বিএনপির এই বাস্তববাদী নেতা আরো বলেন, ‘আমরা বার বার ভারতীয় নেতাদের সঙ্গে দেখা করার চেষ্টা করেছি। ২০১২ সালে আমাদের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া দিল্লি সফরের সময়ও আমরা সে চেষ্টা করেছি। ২০১৪ সালে বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর আমরা ভেবেছিলাম এবার পরিস্থিতির উন্নতি হবে। কেননা মোদির সঙ্গে আন্তরিক পরিবেশে বৈঠক করেছিলেন খালেদা জিয়া। কিন্তু এরপরও ইতিবাচক কিছুই ঘটেনি। এরপর কোনো ফলো আপ নেই।’ফখরুল ভারতীয় সংবাদ মাধ্যম ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসকে বলেন, ‘সব মিলিয়ে আমরা হতাশ। চলতি বছরের আগস্টেও আমরা ব্যাংককে বিজেপি মহাসচিব রাম মাধবের সঙ্গে বৈঠকের চেষ্টা করেছিলাম। কিন্তু এতে কোনো সাড়া দেয়নি ভারত।’
ওই সাক্ষাৎকারে ধর্মভিত্তিক দল জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে বিএনপির সম্পর্ক নিয়েও কথা বলেন মির্জা ফখরুল। জামায়াতের সঙ্গে বিএনপির সম্পৃক্ততার কথা নাকচ করে দিয়ে তিনি বলেন, ‘বিএনপি ইসলামিক আইনে বিশ্বাস করে না। তারা কোনো মৌলবাদী দল নয়। জামায়াতের প্রতি বিএনপির আলাদা কোনো আকর্ষণ নেই।’তিনি বলেন, ‘বিজেপি একটি ডানপন্থি দল, তাদের সঙ্গে আরএসএস আছে। কিন্তু এতে বিজেপির সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপনে আমাদের কোনো সমস্যা নেই। কিন্তু আমি বুঝতে পারি না ভারত কেন আওয়ামী লীগ সরকারের নানা অপকর্ম (নির্যাতন, গুম) অগ্রাহ্য করছে। আওয়ামী লীগ হচ্ছে একটি প্রতিহিংসা পরায়ন দল। কেবল ভারতের কারণেই দলটি টিকে আছে। ভারতই আওয়ামী লীগকে শক্তিশালী করেছে।’
তার ভাষায়, জামায়াতের সঙ্গে বিএনপির যে সম্পর্ক তা কেবল কৌশলগত এবং ভোটে জেতার কৌশল ছাড়া কিছুই নয়। তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশের পুলিশ আর ব্যুরোক্রেটদের সঙ্গেও ভারতীয় হাই কমিশনের ‘ভালো সম্পর্ক’ আছে। মির্জা ফখরুল আরো বলেন, তার প্রধান এজেন্ডা হচ্ছে ‘ভোটের স্বাধীনতা ও ‘মুক্তভাবে বেঁচে থাকা’।বেগম খালেদা জিয়াকে একজন ‘ক্যারিশমাটিক নেতা’ হিসেবে উল্লেখ করে ফখরুল বলেন, নির্বাচনে বিজয়ী হলে তাকে কারামুক্ত করাই হবে বিএনপির প্রধান কাজ। কেননা তার ভাষায় ‘জিয়া পরিবারকে ছাড়া বিএনপিকে কল্পনা করা যায় না’।




