243869

খালেদা জিয়াকে ‘ভুলে গেলো’ বিএনপি

আগামীকাল ৩০ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এই নির্বাচনে নেই দেশের অন্যতম বড় রাজনৈতিক দল বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। তিনি এখন কারাগারে। বিএনপি নেতারা বলেছিলেন, খালেদা জিয়াকে জেলে রেখে তারা নির্বাচনে যাবেন না। কিন্তু সেই নেতারা এখন নির্বাচনে, বেগম জিয়া জেলেই। কী প্রহসনের রাজনীতি!দশম সংসদ নির্বাচনে অংশ না নেয়ার সিদ্ধান্ত খালেদা জিয়া নিজেই নিয়েছিলেন। তাকে বাদ দিয়ে নির্বাচন হয়েছে। সে নির্বাচনে বিজয়ী সরকার পাঁচ বছর দেশ শাসন করেছে। খালেদা জিয়া সরকারের পতন ঘটাতে চেয়েছিলেন। পারেননি। প্রমাণ হয়েছে তিনি আর বাংলাদেশের রাজনীতিতে অপরিহার্য নন। তাকে ছাড়াই সব কিছু হতে পারে।

খালেদা জিয়া গুরুতর অসুস্থ বলে দলের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছিলো। তাকে বিনা চিকিৎসায় মেরে ফেলার ষড়যন্ত্র নাকি সরকার করছে! গুরুতর অভিযোগ!! তো, এখন কেমন আছেন বেগম জিয়া? তার শারীরিক অবস্থা ভালো তো? বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীও বেগম জিয়ার শারীরিক অবস্থা নিয়ে কোনো কথা বলছেন না। প্রেস ব্রিফিং করছেন না।যদিও মাঝে মাঝে বিএনপির কিছু নেতা খালেদা জিয়ার মুক্তির কথা বললেও সময়ের সাথে আজ খালেদা জিয়ার কোন খবর রাখছে না কেউ। সবাই নির্বাচন নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন।

আসলেই কী সবাই ভুলে গেলো খালেদা জিয়াকে? না, দুই জন অন্তত ভোলেননি। একজন ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী আরেকজন ঋণফেলাপি কাদের সিদ্দিকী। জাফরুল্লাহ বলেছেন, ২ জানুয়ারি আইনি প্রক্রিয়ায় খালেদা জিয়া মুক্তি পাবেন। কাদের সিদ্দিকী অবশ্য একদিন আগেই, ১ জানুয়ারিই জেল ভেঙ্গে তাকে বের করে আনবেন।বড় সৌভাগ্য বেগম জিয়ার। নিজের দল তার খোঁজখবর না রাখলেও দলের বাইরের দুইজন মানুষ তাকে মুক্ত জীবনের স্বপ্ন দেখিয়েছেন।এদিকে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় ১০ বছরের সাজা পেয়ে কারাগারে রয়েছেন খালেদা জিয়া। গত ৮ ফেব্রুয়ারি এই মামলায় খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেয় বিচারিক আদালত। সেই থেকেই তিনি কারাবন্দী রয়েছেন। তারেক রহমানসহ বাকি পাঁচ আসামিকে বিচারিক আদালত ১০ বছর করে কারাদণ্ড দেন।

এরপর ১৯ ফেব্রুয়ারি এই মামলায় খালাস চেয়ে খালেদা জিয়া আপিল করেন। এছাড়া কারাবন্দী দুই আসামি কাজী সলিমুল হক কামাল ও ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদও আপিল করেন।অপরদিকে, এ মামলায় খালেদা জিয়ার পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেয়া অপর্যাপ্ত হয়েছে উল্লেখ করে তা বৃদ্ধির জন্য হাইকোর্টে আবেদন জানায় দুদক। এরপর ৩০ অক্টোবর আদালতের ৫ বছরের সাজা বাড়িয়ে ১০ বছর করার আদেশ দেয় হাইকোর্ট।এই মামলার রায় ঘোষণার দিন চলতি বছরের ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে নাজিমউদ্দিন রোডের পুরাতন কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দী আছেন খালেদা জিয়া। সূত্র: বাংলাদেশ জার্নাল

ad

পাঠকের মতামত