বিএনপির প্রশ্ন শেখ হাসিনার কাছে?
নিউজ ডেস্ক।। বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ দলটির নেতাদের ওপরে কারা হামলা করেছে, আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার কাছে জানতে চেয়েছে বিএনপি। শুক্রবার রাজধানীর নয়াপল্টন বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে এ প্রশ্ন করেন। পরাজয় বুঝতে পেরে নাশকতার পরিকল্পনায় বিএনপি- আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার এই বক্তব্যের সমালোচনা করে রিজভী বলেন, ‘আওয়ামী লীগ এমন দল যেটি একটি উন্নতমানের মিথ্যা প্রোডাকশন কেন্দ্র। এখন প্রধানমন্ত্রীর কাছে কয়েকটি প্রশ্ন করতে চাই-বিএনপি মহাসচিবের গাড়ী বহরে হামলা করেছে কে?
গয়েশ্বর চন্দ্র রায়কে আঘাত করে রক্তাক্ত করেছে কে? ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকনকে গুলি করেছে কে? রোমানা মাহমুদকে গুলি করেছে কে? হাবিবুর রহমান হাবিবকে আপনি ভালভাবেই চেনেন, তাকে হত্যা করার জন্য তার শরীরে ছুরি ঢুকিয়েছে কে? মির্জা আব্বাসের মিছিলে, আফরোজা আব্বাসের মিছিলে, ড. মঈন খানের মিছিলে, মওদুদ আহমদের মিছিলে, মেজর হাফিজ, হাসিনা আহমেদের মিছিলে হামলা করেছে কে? শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানীর ওপর হামলা চালিয়েছে কে? হাফিজ ইব্রাহিমের ওপর হামলা করেছে কে? ধানের শীষের নবীন প্রার্থী ডা. সানসিলা প্রিয়াংকার ওপর হামলা চালিয়েছে কে? তেমনিভাবে সারাদেশে ধানের শীষের শতাধিক প্রার্থীর ওপর রক্তাক্ত হামলার ঘটনা ঘটেছে, কারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে’?
তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী, আপনার নৌকা মার্কার প্রার্থী হাজী সেলিম রাস্তা বন্ধ করে পথসভা করাকে আপনি কি বলবেন? সে বিষয়ে আপনি চুপ কেন? বগুড়ায় হোটেল নাজগার্ডেনে নাগরিক ঐক্যের আহবায়ক ও ধানের শীষের প্রার্থী মাহমুদুর রহমান মান্নাকে পুলিশ দিয়ে অবরুদ্ধ করে রাখা কি শান্তি মিশনের কাজ, নাকি সেটিকে রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস বলে, তা আপনার কাছ থেকে জানতে চায় জাতি’।
রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘শুধু চর নয়, নির্বাচনে নদীসহ চর দখল করবে বলেই বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে বন্দী করা হয়েছে। এই পরিকল্পনা বর্তমান শাসকগোষ্ঠী শুরু করে প্রায় অনেক দিন থেকেই। সেইজন্য বানোয়াট মামলা সাজিয়ে নির্বাচনের প্রায় বছর খানেক আগেই সাজা দিয়ে বেগম জিয়াকে বন্দী করা হয়েছে। কারণ রাষ্ট্রশক্তি সম্পূর্ণভাবে শেখ হাসিনার হাতের মুঠোয়। প্রশাসন, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা, আদালত কারো টু শব্দ করার উপায় নেই। টু শব্দ করলে পরিণতি কি হবে তারও দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন শেখ হাসিনা’।
তিনি বলেন, আইন শৃঙ্খলা বাহিনী ও আওয়ামী ক্যাডারদের গুণ্ডামিতে গতকাল দেশের বিভিন্ন স্থানে ধানের শীষের প্রার্থীদের মিছিলে বাধা দেয়া হয়েছে। আইন শৃঙ্খলা বাহিনী এবং আওয়ামী সন্ত্রাসীরা বিএনপি’র নির্বাচনী এজেন্ট, কর্মী ও সমর্থকদের এলাকা ছাড়া করেছে। আওয়ামী সন্ত্রাসীদের গ্রামে-গ্রামে সশস্ত্র মহড়া চলছে। সারাদেশে এখনও ভীতিকর অবস্থা বিদ্যমান। সেনাবাহিনীকে মাঠে নামিয়ে হাত-পা বেঁধে রেখেছেন সিইসি। তাদেরকে স্বাধীনভাবে কাজ করতে দেয়া হচ্ছে না। এগুলো সবই হচ্ছে প্রধানমন্ত্রীর ইশারায় এবং সিইসির তত্ত্বাবধানে।
বিএনপির এই মুখপাত্র বলেন, গত ৮ নভেম্বর তফসিল ঘোষণার পর হতে গতকাল ২৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত বিএনপির ১০৩২৯ জন নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, নেতাকর্মীদের গায়েবী ও মিথ্যা মামলার সংখ্যা ৮৪৪টি। মোট হামলার সংখ্যা ২৮৯৬, মোট আহতের সংখ্যা ১৩২৫২ জন, মৃতের সংখ্যা ৯ জন। গতকালই বিভিন্ন জেলায় বানোয়াট মামলা দায়ের হয়েছে ৩৮টি, গ্রেপ্তার করা হয়েছে ১১২৭ জন নেতাকর্মী, হত্যা করা হয়েছে ১ জনকে। উৎস: বিডি-জার্নাল।




