সাংবাদিকদের প্রতিপক্ষ ভাবছে নির্বাচন কমিশন : শওকত মাহমুদ
সাংবাদিকদের নির্বাচন কমিশন প্রতিপক্ষ হিসেবে ভাবছে। অথচ কোনো সাংবাদিক কখনো কোনো নির্বাচনে বাধা হয়ে দাঁড়ায়নি, বরং সাংবাদিকদের প্রচারের কারণে মানুষ অনুপ্রাণিত হয়েছে।ইকোনমিক টাইমস’র সম্পাদক শওকত মাহমুদ বলেছেন, সাংবাদিকদের নির্বাচন কমিশন প্রতিপক্ষ হিসেবে ভাবছে। অথচ কোনো সাংবাদিক কখনো কোনো নির্বাচনে বাধা হয়ে দাঁড়ায়নি, বরং সাংবাদিকদের প্রচারের কারণে মানুষ অনুপ্রাণিত হয়েছে।বৃহস্পতিবার ডিবিসি নিউজ’র রাজকাহনে তিনি বলেন, সাংবাদিক প্রথমে পুলিশের অনুমতি নেবেন, তারপর প্রিসাইডিং অফিসারের অনুমতি নেবেন, এরপর ভেতরে ঢুকবেন, তাও একজনের বেশি থাকতে পারবেন না। মনে হয় সাংবাদিকরা যেনো নির্বাচন কমিশনের প্রতিপক্ষ। যখন লাইভে দেখানো হয় যে, ভোটকেন্দ্রের সবাই লাইন ধরে সুশৃঙ্খলভাবে ভোট দিচ্ছে, তখন স্বাভাবিকভাবে ঐ এলাকারই অন্য ভোটাররা অনুপ্রাণিত হয়।
তিনি আরো বলেন, একজন নিন্দুকই বলতে পারে, ভোটকক্ষের ভেতর কোনো অনিয়মের ছবি কেউ তুলতে পারবেন না। ব্যালটপেপারে সিল মারা হচ্ছে আর এসব দেখেও পোলিং অফিসার অসহায় এসব অনিয়ম কিন্তু আমরা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে দেখেছি। এখন হঠাৎ করে নিষেধাজ্ঞা আসলো কেনো আমার কাছে আশ্চর্য মনে হয়েছে। টোটাল প্রক্রিয়াটা সাংবাদিকতার ক্ষেত্রে যেনো স্বাভাবিক বিপত্তি নয়, এটি আরোপিত বিপত্তি।তিনি আরো বলেন, সাংবাদিকরা একটি প্রান্তিক শ্রেণীতে পরিণত হয়েছে। নাগরিকদের পক্ষে সাংবাদিকরা তথ্য সংগ্রহ করেন, এরপর তারা গণমাধ্যমে ছড়িয়ে দেন। তাদের এই বাড়তি দায়িত্বটুকু আছে। এই বাড়তি দায়িত্বের কারণে, তাদের বাড়তি অধিকার আছে। এই দায়িত্বের কারণে তাদের কিছু বাড়তি অধিকার আছে। যারা ঝুঁকি নিয়ে সত্য সংবাদ সমাজের সামনে তুলে ধরেন, কথা ছিলো তাদেরকে পেশাগত নিরাপত্তা দেয়ার।
শওকত মাহমুদ বলেন, জাতীয় নির্বাচনের ক্ষেত্রে সাংবাদিকতাকে কঠিন নীতিমালা থেকে মুক্ত রাখা দরকার। বিতর্কিত ডিজিটাল আইনের ব্যাপারে আমাদের বক্তব্য, নির্বাচনের আগে এই আইন নির্বাচনে স্বাধীন মতপ্রকাশের এবং স্বাধীনভাবে সংবাদ চর্চার ক্ষেত্রে একটি প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করবে। সে আইনের প্রয়োগ হয়তো নেই, কিন্তু খড়গটা আছে, যে কোনো সময় প্রয়োগ হতে পারে। বিদেশী সংস্থাগুলোও বলেছে, জাতীয় নির্বাচনের আগে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা অপরিহার্য।শওকত মাহমুদ আরো বলেন, ২০১৪ সালের আগে তথ্যপ্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারাটি সংশোধন করা হয়েছিলো। এরপর ৫৭ ধারায় এত অপপ্রয়োগ হয়েছে, সাংবাদিকরাই বেশি আক্রান্ত হয়েছে। আইনমন্ত্রী বলেছিলেন, ৫৭ ধারা আর থাকবে না, এর পরিবর্তে আমরা নতুন ধারা আনছি। এখন ৫৭ ধারাকেই ছড়িয়ে ছিটিয়ে এই ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মধ্যে রাখা হয়েছে। এই আইনের একটি হুমকি তো রয়ে গেছে। যদিও সাংবাদিকদের চলাচলের ক্ষেত্রে বিশেষ করে মোটর সাইকেলে এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় যাওয়ার ক্ষেত্রে একটি নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়েছিলো, তা প্রত্যাহার করা হয়েছে। সূত্র: আমাদের সময়.কম




