243586

সহিংসতা দমনে রাজধানীতে থাকবে সোয়াট-বোমা ডিসপোজাল ইউনিট

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে ঢাকা মহানগর এলাকা সংঘাতমুক্ত রাখতে মাঠে থাকবে সোয়াট-বোমা ডিসপোজাল ইউনিট।শুক্রবার (২৮ ডিসেম্বর) বিকেলে রাজধানীর কাকরাইলে উইলস লিটল ফ্লাওয়ার স্কুল ভোটকেন্দ্র পরিদর্শনে এসে ডিএমপি কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া এ কথা বলেন।তিনি বলেন, নির্বাচন আনন্দমুখর করতে সুদৃঢ় নিরাপত্তা বলয়ের অংশ হিসেবে নগরীজুড়ে চারটি কন্ট্রোলরুম স্থাপন করা হয়েছে, যার মাধ্যমে সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। সার্বক্ষণিক প্রস্তুত থাকবে সোয়াট-বোমা ডিসপোজাল ইউনিট।

ডিএমপি কমিশনার বলেন, সুস্পষ্ট নিরাপত্তাজনিত কোনো হুমকি না থাকলেও অতীত অভিজ্ঞতার আলোকে নিরাপত্তা ছক সাজানো হয়েছে। ভোটের পরিবেশ সংঘাতমুক্ত ও আনন্দমুখর রাখতে নগরীজুড়ে সুসংগঠিত সুদৃঢ় নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হয়েছে। নগরীর প্রতিটি কেন্দ্রে পর্যাপ্ত সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন থাকবে। ৪-৫টি কেন্দ্র মিলিয়ে একটি করে টিম মোবাইল ডিউটিতে থাকবে।নিরাপত্তা বলয়সহ সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও নিয়ন্ত্রণ করার নিমিত্তে মিরপুর, আব্দুল গণি রোড, গুলশান ও রাজারবাগ পুলিশ লাইনে স্থাপন করা হয়েছে অস্থায়ী কন্ট্রোল রুমসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

রাজধানীজুড়ে পুলিশের পাশাপাশি সেনাবাহিনী, বিজিবি, নৌ বাহিনী, র‌্যাব সদস্যরা টহল ডিউটিতে রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, সব সংস্থা মিলে ভোটের নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা হবে, যেন কোনো ধরনের সংঘাত না হয়। ভোটাররা ভোটকেন্দ্রে যাবেন এবং ভোট শেষে বাড়ি ফিরবেন, তাদের নিরাপত্তায় যা যা ব্যবস্থা নেয়া প্রয়োজন তার সবই করা হয়েছে।গোয়োন্দা বিভাগের কর্মকর্তারা কাজ করে যাচ্ছেন। আগাম তথ্যের ভিত্তিতে নিরাপত্তাজনিত কোনো হুমকি থাকলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও জানান তিনি।সাইবার সিকিউরিটি বিভাগ সার্বক্ষণিক তৎপর রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ভার্চুয়াল জগতে যে কোনো ধরনের হুমকি, গুজব প্রতিরোধে তারা সবসময় সচেষ্ট রয়েছে।

নির্বাচনের প্রতিটি প্রার্থী ও এজেন্টদের নিরাপত্তায় বিশেষ ব্যবস্থা থাকবে। নির্বাচন কমিশনের কর্তৃক অর্পিত সকল দায়িত্ব অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে পালন করা হবে। সব ধরনের ভীতির ঊর্ধ্বে থেকে সমগ্র নগরজুড়ে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে চেকপোস্ট বসানোর পাশাপাশি টহল টিম কাজ করবে।সোয়াট, বোমা ডিসপোজাল ইউনিট ও ডগ স্কোয়াড সার্বক্ষণিক প্রস্তুত থাকবে। যে কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি মোকাবেলায় পরিপূর্ণ প্রস্তুতির কথাও জানান তিনি।ডিএমপি কমিশনার বলেন, লাইসেন্সকৃত সব অস্ত্র আমরা বিভিন্ন থানায় জমা নিয়েছি।

প্রার্থী ব্যতীত কেউ কোনো বৈধ অস্ত্র বহন বা প্রদর্শন করতে পারবে না। যেসব স্থানে পেশীশক্তি প্রয়োগ হতে পারে বা বাধা আসতে পারে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে আমরা সেসব জায়গায় কাজ করে যাচ্ছি। বাধাহীন সুষ্ঠুভাবে ভোটাধিকার প্রয়োগে সকল প্রস্তুতি চলমান আছে।১৪টি পয়েন্ট থেকে ব্যালট পেপার বিতরণ ও জমা নেয়া হবে। সেসব স্থানে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকবে। যে কোনো ধরনের গোলযোগ কঠোর হস্তে নিয়ন্ত্রণসহ সব বাহিনীর সমন্বয়ে সুষ্ঠুভাবে অর্থবহ ভোট অনুষ্ঠানে আমরা বদ্ধ পরিকর।সুস্পষ্ট নিরাপত্তার কোনো হুমকি নেই জানিয়ে তিনি বলেন, বিগত নির্বাচনের বিভিন্ন সংঘর্ষের অভিজ্ঞতা মাথায় রেখে আমরা ছক সাজিয়েছি। কোনো ভোটারের নিরাপত্তায় কোনো হুমকি থাকলে ৯৯৯ কন্ট্রোলরুম বা যে কোনোভাবে পুলিশকে জানালে আমরা তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেব।

নির্বাচনের দিন যান চলাচল বন্ধ থাকলেও বিদেশগামী যাত্রী, রোগী বা অন্যান্য যাত্রীদের ক্ষেত্রে বৈধ কাগজপত্র প্রদর্শন করতে পারলে তার ক্ষেত্রে এ নির্দেশনা শিথিল করা হবে। এ জন্য ট্রাফিক বিভাগকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।বিএনপি ও ঐক্যফ্রন্টের পক্ষ থেকে পুলিশের পক্ষপাতমূলক আচরণ প্রসঙ্গে ডিএমপি কমিশনার বলেন, এটি একেবারেই তথ্য নির্ভর নয়। আমরা প্রজাতন্ত্রের কর্মী হিসেবে আইনের আলোকে কাজ করে থাকি। চ্যালেঞ্জ করে বলতে পারি ঢাকায় বিনা ওয়ারেন্ট বা সুস্পষ্ট অভিযোগ ছাড়া কাউকে গ্রেফতার করা হয়নি। পক্ষপাতের এই অভিযোগ সত্য নয়।

ad

পাঠকের মতামত