243631

বিএনপি জামায়াতের মদদে ছয় হাজার পর্যবেক্ষক

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি-জামায়াতের মদদে সাড়ে ৬ হাজার ক্যাডারকে পর্যবেক্ষক হিসেবে নামিয়ে হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে আওয়ামী লীগ। শুক্রবার (২৮ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় রাজধানীর ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে দলের সম্পাদকমণ্ডলীর সভা শেষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে জাহাঙ্গীর কবির নানক এ অভিযোগ করেন।তিনি বলেন, বিএনপি-জামায়াতের সাড়ে ৬ হাজার ক্যাডারকে পর্যবেক্ষক হিসেবে নামিয়ে নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা হতে পারে। এরা পর্যবেক্ষক হিসেবে কাজ করলে নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার অপকৌশল চালাবে। বিএনপি-জামায়াত-ঐক্যফ্রন্ট অন্ধকারের শক্তি। এরা ক্ষমতায় এলে দেশ আইয়ামে জাহিলিয়াতে নিপতিত হবে। তাই দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানাই, আসুন দেশবিরোধী সব ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধ ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিরোধ গড়ে তুলি।

তিনি বলেন, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মঈন খানের সংস্থা খান ফাউন্ডেশন, খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা শফিক রেহমানের স্ত্রী তালেয়া রেহমানের ডেমোক্রেসি ওয়াচ, তারেক রহমানের পৃষ্ঠপোষকতায় পরিচালিত বগুড়া ভিত্তিক লাইট হাউস, বিতর্কিত আইনজীবী আদিলুর রহমানের বাংলাদেশ মানবাধিকার পরিষদ এবং বিদেশি লবিস্ট ফার্ম ‘এনফ্রেল’ নামের একটি সংস্থাকে পর্যবেক্ষণের সুযোগ দেওয়া হয়েছে।জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেন, বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ভোটকেন্দ্র দখলের নির্দেশনা দিয়েছেন। তারা সংঘবদ্ধভাবে গেরিলা কায়দায় ভোট কেন্দ্র দখলের হুমকি দিয়েছেন। একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ ভোট উৎসবকে বিনষ্ট করার ষড়যন্ত্রে রয়েছে। তিনি বলেন, পাকিস্তানি গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই ব্যাপক সহিংসতা, অরাজক পরিস্থিতির সৃষ্টি করতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গুজব রটিয়ে এরই মধ্যে ভীতি সৃষ্টির চক্রান্ত চালাচ্ছে। ভুয়া ব্যালট পেপার ছাপিয়ে ও নকল বুথ বানিয়ে সিল মারা নকল ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার মাধ্যমে গুজব ছড়ানোর নীলনকশা করছে।

আরেক প্রশ্নের উত্তরে নানক বলেন, আমরা নির্বাচন কমিশনকে এসব বিষয়ে জানিয়েছি। নির্বাচন কমিশন কথা দিয়েছে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে। এগুলো আমাদের প্রতিরোধ বা প্রতিহত করার বিষয় না, আমরা সবাইকে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করতে বলছি।এক প্রশ্নের উত্তরে নানক বলেন, বিএনপি-জামায়াত শুধু ভোটকেন্দ্র দখলের চেষ্টাই করছে না, তারা আওয়ামী লীগের ব্যাজ পরে, নৌকার ব্যাজ পরে, আওয়ামী লীগ ও নৌকার ছবি সম্বলিত শীতকালীন মাফলার ও টি-শার্ট পরে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আওয়ামী লীগের ওপর দোষ চাপানোর চেষ্টা চালাচ্ছে। আশা করি নির্বাচন কমিশন ও প্রশাসন এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।

তিনি বলেন, উৎসবমুখর পরিবেশে নির্বাচনের প্রচার-প্রচারণা শেষ হয়েছে। এই প্রচার-প্রচারণায় সর্বস্তরের মানুষ উৎসবমুখর পরিবেশে অংশ নিয়েছে। নৌকার পক্ষে গণজোয়ার তৈরি হয়েছে। এই গণজোয়ার সৃষ্টি হওয়ায় নিশ্চিত পরাজয় বুঝতে পেরে সহিংসতা ও নাশকতায় লিপ্ত হয়েছে বিএনপি-জামায়াত। আওয়ামী লীগের কর্মীদের ওপর ও নির্বাচনী কার্যালয়ে হামলা করছে তারা। আজ পর্যন্ত বিএনপি-জামায়াতের সন্ত্রাসীরা আওয়ামী লীগের ছয় কর্মীকে হত্যা করেছে এবং তাদের হামলায় ৪৪৫ জন আহত হয়েছে। ৮৮টি যানবাহনে ভাঙচুর এবং অগ্নিসংযোগ করেছে তারা। নির্বাচন কমিশন ও প্রশাসনকে এই ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেফতারের দাবি জানাচ্ছি। সূত্র: বাংলাদেশ জার্নাল

ad

পাঠকের মতামত