নড়াইল-২ আসনে মাশরাফির মূল প্রতিদ্বন্দ্বী ফরহাদ
নড়াইল-২ আসনে নৌকার প্রার্থী ক্রিকেট তারকা মাশরাফি বিন মুর্তজার মূল প্রতিদ্বন্দ্বী ধানের শীষের প্রার্থী এ জেড এম ফরিদুজ্জামান। মাশরাফি বিভিন্ন জনসভায় বক্তব্যকালে বলেন, ‘কোনোভাবেই যেন আমার প্রতিপক্ষ কষ্ট না পায়।’মাশরাফির এ বক্তব্যকে সাধারণ মানুষসহ বিরোধীরা স্বাগত জানালেও আওয়ামী লীগের কয়েকজন অতি উৎসাহী নেতাকর্মী,সমর্থক বিচ্ছিন্ন কিছু অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটিয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। ধানের শীষের প্রার্থী ফরিদুজ্জামান বিভিন্ন সময় সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে অভিযোগ করে বলেন, নির্বাচনী গণসংযোগে প্রতিপক্ষের লোকজন তাঁকে বাধা প্রদানসহ নেতাকর্মীদের মারপিট করেছে। নির্বাচনী অফিস ভাঙচুর করেছে।
খোঁজখবর নিয়ে জানা গেছে, দলীয় মনোনয়ন পেলেও খেলা নিয়ে ব্যস্ত থাকায় মাশরাফি মূলত নড়াইলে নির্বাচনী কার্যক্রম শুরু করেন ২০ ডিসেম্বর প্রধানমন্ত্রীর পাশে থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ভোট চেয়ে। মাশরাফি সরাসরি নড়াইলে আসেন ২২ ডিসেম্বর। তিনি তখন থেকেই গ্রামপর্যায়ে গণসংযোগ, জনসভা শুরু করেন।অবশ্য, মাশরাফির এলাকায় আসতে দেরি হলেও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী ও মাশরাফির পরিবারের সদস্যরা আগেই নির্বাচনী কার্যক্রম চালিয়ে গেছেন। বিএনপির প্রার্থী মনোনয়নপ্রাপ্তির পরই এলাকায় আসলেও তিনি বিভিন্ন কারণে প্রচারণা ,গণসংযোগে পিছিয়ে ছিলেন।
নড়াইল জেলা আওয়ামী লীগের বন ও পরিবেশবিষয়ক সম্পাদক মো. নাজমুল করিম বাবু এ বলেন, ‘আমাদের মাশরাফি বিএনপির প্রার্থী থেকে এক লাখেরও বেশি ভোট পেয়ে বিজয়ী হবেন।’লোহাগড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শেখ সাজ্জাদ হোসেন মুন্না বলেন, ‘সাধারণ মানুষ একচেটিয়া মাশরাফিকে ভোট দেবে। প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর চেয়ে কত লাখ ভোট বেশি পাবেন তা এখন দেখার বিষয়।’অপরদিকে, নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক বিএনপির স্থানীয় কয়েকজন নেতা বলেন, ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিতে দিলে ফরহাদই জিতবেন। বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এ আসনে ভোটে মাশরাফির প্রভাবই বেশি।নড়াইল-২ আসনে ভোটার সংখ্যা তিন লাখ ১৭ হাজার ৫১১।
নড়াইল-২ আসনে অন্য প্রার্থীরা হলেন এনপিপির (ছালু) জেলা সভাপতি মনিরুল ইসলাম, ইসলামী আন্দোলন জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক এস এম নাসির উদ্দীন, ইসলামী ঐক্যজোটের প্রার্থী মাহাবুবুর রহমান, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (রব) কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ফকির শওকত আলী। জাতীয় পার্টির (এরশাদ) প্রার্থী অ্যাডভোকেট ফায়েকুজ্জামান ফিরোজ আগেই নৌকার প্রার্থীকে সমর্থন দিয়েছেন।










