243130

নির্বাচন থেকে সরে যাওয়ার বিকল্পপথ বা পরিকল্পনা আছে বিএনপির

বিএনপি ও ঐক্যফ্রন্টের নির্বাচন থেকে সরে যাওয়ার একটা বিকল্প পথ বা পরিকল্পনা আছে বলে মনে করেন নিরাপত্তা বিশ্লেষক মেজর জেনারেল অবসরপ্রাপ্ত মোহাম্মদ আলি শিকদার।এ প্রতিবেদকের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, বিএনপি ও ঐক্যফ্রন্ট মিলে এ পর্যন্ত বলে আসছে তারা জীবন গেলেও নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াবে না। এ কথাটির মধ্যেই একটা লুকায়িত বিষয় রয়ে গেছে, সেটা হচ্ছে বিকল্প পথ। তাদের বিকল্প পথের লক্ষ্যকে বাস্তবায়ন করার জন্যই তারা এসব অনাকাক্সিক্ষত, সভ্যতা বিবর্জিত, অস্থির আচরণ করছেন। রাষ্ট্রের একেবারে মৌলিক জায়গায় আঘাত হেনে রাষ্ট্রকে দুর্বল করার চেষ্টা করছেন। পুলিশের বিরুদ্ধে অনেক অভিযোগ থাকতে পারে। অনেকের বিরুদ্ধেই থাকতে পারে।

তবে একটা রাষ্ট্রের অস্তিত্বই থাকে না পুলিশ যদি দুর্বল হয়ে যায় এবং তাদের মনোবল ভেঙে যায়। ড. কামাল হোসেনের মতো একজন প্রাজ্ঞজন এবং জ্ঞানী ব্যক্তি এসব কথা যখন বলছেন তখন কিন্তু শঙ্কা হয়। আসলেই কী তারা নির্বাচনের শেষ পর্যন্ত থাকবেন? যেসব কথা তারা বলেছেন। এর ওপর ভিত্তি করে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় বলেছেন, বিএনপি যদি সেই আত্মঘাতী পথটা বেছে নেয় যেটা তারা ২০১৪ সালে নিয়েছিলো। তাহলে বাংলাদেশ থেকে চিরতরে তাদের রাজনীতির বিদায় হবে। তারা যে মুক্তিযুদ্ধবিরোধী প্রাতিষ্ঠানিক রাজনীতি করছে। একাত্তরের যুদ্ধাপরাধী, গণহত্যাকারী, গণধর্ষণকারীদের সাথে নিয়ে রাজনীতি করছে সেই রাজনীতির অবসান হবে। এতে করে তাদের পরাজয় হবে কিন্তু বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের জয় হবে। এখন তারা কী করবেন সেটা আমরা নিশ্চিত করে বলতে পারি না। কিন্তু তাদের এসব আচরণ দেখে মনে হচ্ছে, তারা কোনো পথ খুঁজছেন কিনা নির্বাচন থেকে সরে যাওয়ার জন্য।

বিএনপি ও ঐক্যফ্রন্ট সেনাবাহিনীকে পর্যন্ত বিতর্কিত করবার অপচেষ্টা করছেন। ড. কামাল হোসেন স্বয়ং একটি বিবৃতি দিয়েছেন ইংরেজিতে। বাংলাদেশের মানুষের জন্য যদি বিবৃতি দিয়ে থাকেন তাহলে সে বিবৃতি ইংরেজিতে কেন? তিনি বিবৃতিতে বলেছেন, সেনাবাহিনী লেবেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করবে। সেনাবাহিনীর কাজ কী লেবেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করা? সেনাবাহিনীর দায়িত্ব লেবেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করা নয়, আইনশৃঙ্খলা রক্ষার কাজে বেসামরিক প্রতিষ্ঠানকে সহায়তা করা তাদের কাজ। তিনি আগ বাড়িয়ে একথা বলে সেনাবাহিনীকে বিতর্কিত করার একটা প্রেক্ষাপট তৈরি করছেন। এটা বাংলাদেশের মানুষের বুঝতে অসুবিধা হয় না। সুতরাং আশঙ্কা রয়েই যাচ্ছে। তবে আমরা এদেশের নাগরিক হিসেবে প্রত্যাশা করবো ৩০ ডিসেম্বর একটা সুষ্ঠু নির্বাচন হবে।

নির্বাাচনের সময় এলে উত্তেজনা হয়, হুমকি-পাল্টা হুমকি হয় , আক্রমণ হয়। সহিংসতার ঘটনা বিগত সময়েও ঘটেছে, এটা নতুন কিছু নয়। এমন কোনো ঘটনা নেই যেটা পূর্বে ঘটেনি তবে এগুলো অপ্রত্যাশিত। উপমহাদেশীয় রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে এটা ঘটেই থাকে। এগুলো নিয়ে বিএনপি যেন কোনো অজুহাত সৃষ্টি না করে। এসব ঘটনা যেন না ঘটে তারা সে চেষ্টা করতে পারে। আমরা প্রত্যাশা করি, বিএনপি নির্বাচনে থাকবে। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সাধারণ মানুষ যার পক্ষে রায় দেবেন সেটা সবাই মেনে নেবেন। সেটাই হবে গণতন্ত্রের বিজয় এবং সৌন্দর্য। সূত্র: আমাদের সময়.কম

 

ad

পাঠকের মতামত