243246

মান্না অবরুদ্ধ

নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক ও বগুড়া-২ আসনের ধানের শীষের প্রার্থী মাহমুদুর রহমান মান্নাকে বগুড়ায় অবরুদ্ধ করে রেখেছে গোয়েন্দা পুলিশ। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পর থেকে হোটেল নাজ গার্ডেনে তাকে অবরুদ্ধ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন নাগরিক ছাত্র ঐক্যের আহ্বায়ক নাজমুল হাসান।তিনি জানান, বৃহস্পতিবার নির্বাচনী প্রচারণা শেষে হোটেলে অবস্থান করছিলেন মান্না। সেখানে বিকালের পর থেকে পোলিং এজেন্টদের সঙ্গে সাক্ষাত করছিলেন তিনি। সন্ধ্যায় হঠাৎ করে ডিবি পুলিশের কয়েকটি টিম হোটেলের রিসিপশনে অবস্থান নেয়। তারা কোনো নেতাকর্মীকে হোটেলে ঢুকতে বা বের হতে দিচ্ছে না। ডিবি পুলিশের পাশাপাশি থানা পুলিশের দুটি গাড়ি হোটেলের বাইরে অবস্থান করছে।

বিএনপি-জামায়াতের শক্ত অবস্থান বগুড়া-২ (শিবগঞ্জ) আসনে। এ আসনে ধানের শীষ প্রতীকে প্রার্থী করা হয়েছে নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্নাকে। ভোটের আর মাত্র দুইদিন বাকি। কিন্তু এ আসনে ধানের শীষের কোনো আমেজ নেই বলে জানিয়েছেন ভোটাররা। এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, এলাকায় মান্না গিয়েছেন মাত্র তিন দিন। অন্যদিকে মহাজোট প্রার্থী জাপার বর্তমান সংসদ সদস্য শরিফুল ইসলাম জিন্না লাঙ্গল প্রতীক নিয়ে জোরকদমে প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন।শিবগঞ্জ সদরের রিকশা চালক আজিজ জানান, ‘ভোটের খবর নাই, ভোটের যে উৎসব হয় সেই উৎসবও নেই। মাইক, মিছিল-সমাবেশ তেমন কিছুই হচ্ছে না। ধানের শীষের প্রার্থীকে মাত্র একদিন এলাকায় দেখা গেছে।’

পুলিশি হয়রানি ও মামলার কারণে বিএনপির নেতাকর্মীরা এলাকায় নামতে পারছেন না বলে অভিযোগ করেছেন শিবগঞ্জ থানা বিএনপির সভাপতি মীর শাহে আলম। নিজেও জামিনের জন্য হাইকোর্টে গেছেন বলে জানান। ধানের শীষ প্রার্থী মান্নার নির্বাচনী এজেন্ট শাহে আলম বলেন, ‘আমরা এলাকায় প্রচারণার কাজ করতে পারছি না। ভোট কীভাবে করবো! প্রতিদিন ৭-৮জন করে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। বিভিন্ন ভয়ভীতির কারণে প্রায় সব নেতাকর্মী এখন এলাকা ছাড়া।’বগুড়া-২ আসনে বরাবরই বিএনপির প্রার্থীরা নির্বাচিত হয়ে আসছেন। এর মধ্যে ২০১৪ সালে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বীতায় জয়ী হয়ে গত পাঁচ বছর সংসদে প্রতিনিধিত্ব করে আসছেন জাতীয় পার্টির শরিফুল ইসলাম জিন্নাহ। লাঙ্গলের এই প্রার্থীর উপর এবারও আস্থা রেখেছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোট। ১৯৯১ সালের নির্বাচনে বিএনপি প্রার্থীকে হারিয়ে জয় পাওয়া জামায়াতেরও ‘ভোট ব্যাংক’ রয়েছে এখানে।

এই আসনে এর আগে তিনটি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করলেও সুবিধা করতে পারেননি মাহমুদুর রহমান মান্না। ১৯৯১ সালে জনতা মুক্তি পার্টি থেকে কাস্তে প্রতীকে লড়ে মাত্র দুই হাজার ১৮০ ভোট পেয়েছিলেন তিনি। এরপর আওয়ামী লীগ থেকে নৌকা প্রতীকে ১৯৯৬ ও ২০০১ সালের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করলেও জিততে পারেননি ক্ষমতাসীন দলের সাবেক এই নেতা।

ad

পাঠকের মতামত