242844

নির্বাচন কমিশন কারফিউ চালু করে দিয়েছে : ডা. জাফরুল্লাহ

ভোট দেয়া শুধু অধিকার নয় পরিবর্তনের একটি অন্যতম হাতিয়ার। তবে ভোট কেন্দ্রে যাওয়া নিয়ে প্রত্যেক মানুষের মধ্যে সংশয় তৈরি হয়েছে। তবে দেশবাসী পরিবর্তন চাইছে। কিন্তু সরকার ও নির্বাচন কমিশনে কর্মকাণ্ডে মনে হচ্ছে ভোট কেন্দ্রে যাওয়ার দরকার নেই। সরকার ও নির্বাচন কমিশন এক হয়ে গেছে। সিইসি’র পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ আছে। অন্যদিকে বিরোধী দলের প্রার্থীরা মার খাচ্ছেন। তারপরে তরুণদের ভয়কে জয় করে দলে দলে ভোট দিতে যেতে হবে। কারণ তাদের হাতে দেশের অগামী ভবিষ্যত।বুধবার বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্যাটেজিক স্টাডিজ (বিস) মিলনায়তনে ‘ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০১৮: তরুণ, নারী ও সংখ্যালঘুদের কেন ভোট দেওয়া উচিত?’ শীর্ষক সেমিনারে আলোচকরা এসব কথা বলেন। সেন্টার ফর গভর্নেন্স স্টাডিজ (সিজিএস)-এর উদ্যোগে এই সেমিনারের আয়োজন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ পাঠ করেন বাংলাদেশ ইয়ুথ লিডারশিপ সেন্টার-এর প্রেসিডেন্ট ইজাজ আহমেদ।

সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে রাষ্ট্রবিজ্ঞানী অধ্যাপক ড. রওনক জাহান বলেন, এবার ভোট দেয়ার ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও তা অতিক্রম করেই আমাদের ভোট কেন্দ্রে যেতে হবে। শুধু তরুণ, নারী ও সংখ্যালঘু তাদের ভোট দেয়া উচিত কেবল তা নয়, সবারই ভোট দেয়া উচিত। তিনি বলেন, তরুণরা শুধু নিজদের কথা চিন্তা করবেন না, তাদেরকে সবাইকে নিয়েই চিন্তা করতে হবে। দেশ কীভাবে চলবে, তা নিয়ে তাদের ভাবতে হবে। দেশ স্বাধীনতার আগে আমরা এরকম দেখিনি। এখন দুর্ভাগ্যের বিষয় তাদের মধ্যেও বিভক্ত লক্ষ্য করছি। তরুণরা রাজনৈতিক ভূমিকা রাখছে কিন্তু তা বিভিন্ন দলের দলীয় হয়ে। তারা রাজনৈতিক দলের আজ্ঞাবহ হিসেবে কাজ করছে। এই রাষ্ট্রবিজ্ঞানী আরো বলেন, তরুণদের স্বপ্ন থাকলে ভয়েস তুলতে হবে। কেউ ক্ষেত্র তৈরি করে দিবে না।

আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য অ্যাডভোকেট ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন সংখ্যালঘুদের উপরে বিভিন্ন জায়গায় হামলা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ব্যক্তি স্বার্থে অনেক ঘটনা ঘটে। তিনি বলেন, আমাদের সচেতন হতে হবে। আস্থার জায়গা তৈরি করতে হবে। গত মঙ্গলবার বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের উপর হামলা সমর্থনযোগ্য নয় বলে তিনি মন্তব্য করেন।সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনে কমিশন দায়িত্ব পালন করছেন না উল্লেখ করে সাবেক নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এম সাখাওয়াত হোসেন বলেন, নির্বাচন কমিশনের অব্যবস্থা এর আগে কখনও দেখা যায়নি। ইসি যদি সোজা হয়ে থাকতো, হোম টাক্স করতো তাহলে আজ এই সমস্যা তৈরি হতো না। সেনাবাহিনী প্রসঙ্গে ড. এম সাখাওয়াত হোসেন বলেন, আর্মি নামল কিছু করলো না, এটা বলে বিতর্কিত করা ঠিক না। তিনি বলেন, সেনাবাহিনী সেই কাজ করে যা তাকে করতে বলা হয়। এর বাইরে যায় না সেনাবাহিনী। তরুণদের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, আমেরিকায় ১৮ বছর বয়সে ভোট দেয়ার সঙ্গে প্রার্থীও হতে পারে। বাংলাদেশে কেন এই বয়সের প্রার্থী হতে পারবে না। এর পরিবর্তন হওয়া দরকার।

গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, নির্বাচন কমিশন কারফিউ চালু করে দিয়েছে। দেশবাসী একটি পরিবর্তন চাইছে। অভিযোগ করে তিনি বলেন, সরকার ও নির্বাচন কমিশন পদক্ষেপ নিয়েছে ভোট কেন্দ্রে যাওয়ার দরকার নেই। সরকার ও নির্বাচন কমিশন এক হয়ে গেছে। সিইসি বলছে, নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ আছে। অন্যদিকে বিরোধী দলের প্রার্থীরা মার খাচ্ছেন। নারীদের নির্বাচনে সরাসরি অংশগ্রহণ নিয়ে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টে ইশতেহারে উল্লেখ রয়েছে। ১৫ শতাংশ থেকে কমে ১০ শতাংশের কথা বলা হয়েছে। রাজনৈতি দলগুলোতে প্রাথীদের মধ্যে ২০ শতাংশ মনোনয়ন নারীদের দেয়ার বাধ্যমূলক বলে উল্লেখ রয়েছে তাদের ইশতেহারে। তিনি বলেন, তরুণরা বলেছে এই রাষ্ট্রের মেরামত করা প্রয়োজন। সড়ক দুর্ঘটনায় অনেক লোক মারা যাচ্ছে। বিচার বর্হিভূত হত্যা হচ্ছে। তিনি বলেন, সেনাবাহিনীকে টহল দিতে দেন।

সাবেক মন্ত্রী দিলীপ বড়ুয়া সমাজ কাঠামো পরিবর্তন না করলে বরবারই এমন পরিস্থিতি হবে। তিনি বলেন, দেশে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা চালু রাখতে সবাইকে আন্তরিক হতে হবে।ব্যারিস্টার সারা হোসেন বলেন, গণতন্ত্র মানবাধিকারের কথা বললেই বলা হচ্ছে ওমুক ওমুকের সমর্থক। বিরোধী দলের এজেন্ট বলে তাকে কোনঠাসা করার চেষ্টা করা হচ্ছে। তিনি বলেন, দেশের গণতন্ত্র বিপর্যয়ের মুখে পড়লে কারো রেহাই হবে না।ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আইন বিভাগের অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল বলেন, ভোট কেন্দ্রে যাওয়া নিয়ে প্রত্যেক মানুষের মধ্যে সংশয় তৈরি হয়েছে। এখন সররাসরি প্রার্থীর উপরও হামলা হচ্ছে। সেনাবাহিনী নামার পরেও আওয়ামী লীগের গুন্ডারা হামলা করছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। তবে তিনি তরুণদের ভয়কে জয় করে দলে দলে ভোট দিতে যাওয়ার আহবান জানান। সূত্র: নয়া দিগন্ত

ad

পাঠকের মতামত