242416

স্বামীর মৃত্যুর পর সংসারের হাল ধরেছেন, এবার অটোর হ্যান্ডেল

স্বামীর মৃত্যুর পর সংসারের হাল ধরতে হয়েছিল তাকেই। এবার সেই হাতেই ধরলেন অটোর স্টিয়ারিং। তার অটোতে প্রথম যাত্রী হিসেবে উঠলেন ভারতের পুরুলিয়ার জেলাশাসক।তিনি পুতুল রাজোয়াড়। পুরুলিয়া শহরের স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন রেওয়া তাকে দিয়েছে একটি অটো। শহরে হিন্দি ভাষাভাষীদের সঙ্গে সভা করতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বিষয়টি শুনেছিলেন।তার হাত দিয়েই প্রতীকীভাবে টোটো দেওয়া হয় পুতুলকে। আজ নিজের অফিস চত্বরে ফিতে কেটে সেই অটোর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন পুরুলিয়ার জেলাশাসক অলকেশ প্রসাদ রায়।পুরুলিয়া শহরের গোশালা এলাকার বাসিন্দা পুতুল। স্বামী কর্মজীবী ছিলেন। বছর তিনেক আগে মৃত্যু হয় তার। নাবালক দুই ছেলে আর এক মেয়েকে নিয়ে অথৈ জলে পড়েছিলেন ওই নারী। বাড়ি বাড়ি পরিচারিকার কাজ নিতে হতো। ইতি টানতে হয় সন্তানদের লেখাপড়ায়।

‘রেওয়া’-র সদস্য রুবি সুলতানিয়া, কবিতা আগরওয়াল, শিপ্রা লাট, সুনীতা আগরওয়ালেরা বলেন, আমাদের কারো কারো বাড়িতেই গৃহস্থালির কাজে সাহায্য করতেন পুতুল। তার অসহায় অবস্থা দেখে মনে হয়েছিল কিছু একটা করা দরকার।তারা জানান, অটো চালানোর প্রস্তাব শুনে প্রথমে চমকে উঠেছিলেন পুতুল। ভরসা দেওয়া হয় তাকে।এলাকার অটো চালকদের সঙ্গে কথা বলে তাদের অটোতেই মাঠে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয় পুতুলকে। ব্যাপারটা রপ্ত হয়ে গেলে অটো কেনার উদ্যোগ হয়। সংগঠনের সদস্যরা জানান, জেলাশাসক প্রথম থেকেই এই উদ্যোগে প্রয়োজনীয় প্রশসানিক সাহায্য করেছেন।

সংস্থাটি পুতুলকে দিয়েছে নীল রঙের পোশাক। সেটি পরেই মঙ্গলবার অটোর চালকের আসনে বসেছিলেন তিনি। ফিতে কেটে উদ্বোধনের পরে যাত্রী হিসেবে ওঠেন ডিএম। ভাড়াও দেন। তিনি বলেন, শহরে তো বটেই, জেলাতেও নারী অটো চালক এই প্রথম।কিন্তু একটা মুশকিল রয়েছে। পুতুলের বাড়িতে বিদ্যুৎ নেই। অটোতে চার্জ দেবেন কী করে? ‘রেওয়া’-র সদস্যরা জানান, তাদের কারো বাড়ি থেকেই আপাতত সেটা করে নেবেন পুতুল। তার বাড়িতে যাতে বিদ্যুৎ সংযোগ আনানো যায়, সেটাও দেখছেন তারা।

ad

পাঠকের মতামত