সর্বকনিষ্ঠ প্রার্থী ডা. সানসিলার ওপর হামলা
শেরপুর-১ সদর আসনে দেশের সর্বকনিষ্ঠ এবং বিএনপির প্রার্থী ডা. সানসিলা জেবরিন প্রিয়াংকার গাড়িবহরে হামলার অভিযোগ উঠেছে। হামলার সময় ১০ নেতা-কর্মী আহত হয়েছেন বলে দাবি করেছেন ডা. সনিসিলা। শেরপুর জেলা কার্যালয়ের সামনে সাংবাদিকদের উদ্দেশে দেয়া বক্তব্যে তিনি এ অভিযোগ করেন।এসময় ডা. সানসিলা জানান, সোমবার বিকেল ৪ টার দিকে সদর উপজেলা ঘুঘুরাকান্দি এলাকায় পাজারো গাড়িতে করে মাসহ অন্যান্য আত্মীয়-স্বজন ও দলের নেতা-কর্মীদের নিয়ে গণসংযোগে বের হয়। পরে বেলা সাড়ে ৪ টার দিকে ঘুঘুরাকান্দি গ্রামে পৌঁছালে সেখানে প্রতিপক্ষের কর্মীরা গণসংযোগে বাধা দিয়ে গাড়িটি ফিরিয়ে দেয়। ফিরে আসার সময় পেছন থেকে লাঠিসোটা নিয়ে হামলা করে গাড়ির পেছনের ও দুই পার্শ্বের কাঁচ ভেঙে ফেলে। এবং গাড়িতে থাকা লোকজনের ওপর হামলা করে। এসময় খালা-ভাইসহ ১০ জন আহত হন বলে তিনি জানান।
পরে প্রিয়াংকা গাড়িটি নিয়ে শহরে ফিরে এসে বিষয়টি জেলা রিটানিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক আনারকলি মাহবুবের কার্যালয়ে দেখা করতে চাইলে প্রথমে তার সঙ্গে রিটার্নিং কর্মকর্তা দেখা করতে না চাইলে তার দরজার সামনে বসে প্রায় ৪০ মিনিট অবস্থান নেন ডা. প্রিয়াংকা। এক পর্যায়ে প্রশাসনের অন্যান্য কর্মকর্তারা এসে পরিস্থিতি শান্ত করে রিটার্নিং কর্মকর্তার সাক্ষাত দেন। ওইসময় ডা. প্রিয়াংকা আবেগতাড়িত হয়ে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তাকে ঘটনার বিবরণ খুলে বলেন এবং তার বিচার ও নিজের নিরাপত্তার দাবি জানান। জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ওইসময় প্রার্থীকে শান্ত হয়ে বিষয়টি খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাসসহ ঘটনাটি নির্বাচনী ইলেক্ট্ররিয়াল সেলে লিখিত অভিযোগ দেওয়ার পরামর্শ দেন।
এদিকে কার্যালয়ের নিচে উত্তেজিত নেতা-কর্মী ও আত্মীয়রা ক্ষোভ জানালে সেখানে অবস্থানরত আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পুলিশ সদস্যরা প্রার্থীর আত্মীয়-স্বজন ও বিএনপি নেতা হাতেম আলীসহ ১১ জনকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।এদিকে শেরপুর-১ সদর আসনের বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী ডা. সানসিলা জেবরিন প্রিয়াংকাতার দলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা ও গ্রেপ্তার এবং নির্বাচনী এজেন্টদের হুমকি দেয়ার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছেন। সোমবার শহরের মাধবপুরের প্রার্থীর নির্বাচনী কার্যালয়ে এ সংবাদ সম্মেলন করেন।ডা. সানসিলা জেবরিন প্রিয়াংকা অভিযোগ করেন, তিন দিন আগে ১০৭ জনের নামে বিস্ফোরক আইনে মামলা দেয়া হয়েছে। এই ১০৭ জনের মধ্যে আমার স্টিয়ারিং কমিটির সদস্যরাও আছেন। গাজীরখামার খরখরিয়া ও ধলা বাকেরকান্দা এলাকায় নৌকা প্রতীক নিজেরাই পুড়িয়ে আমার নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা দেয়া হয়েছে।
এ সময় বিএনপি প্রার্থী প্রিয়াংকা আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকা প্রতীকের প্রার্থী ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হুইপ মো. আতিউর রহমান আতিককে উদ্দেশ করে বলেন, আমি আপনার সন্তানের মতো। আমি আপনার থেকে রাজনৈতিকভাবে কম জ্ঞানের অধিকারী। কিন্তু আমি যেহেতু আপনার সন্তানের মতো আপনি আমাকে আমার কাজ করতে দিন।প্রিয়াংকা বলেন, আমি জানি আপনি আমাকে গণনায় ধরছেন না। যদি তাই হয়ে থাকে তাহলে আমি মনে করব আমার নেতাকর্মীদের ধরার মাধ্যমে বোঝা যাচ্ছে আপনি ভয় পাচ্ছেন। কাজেই আপনি আমার নেতাকর্মীদের ধরবেন না। দয়া করে তাদেরকে হেরেজমেন্ট করবেন না এবং আমার ওপর আক্রমণ চালাবেন না।
তিনি আরও বলেন, একটি নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড থাকা দরকার। যেটা হচ্ছে না। আমি জানি পুলিশ প্রশাসন নিরপেক্ষভাবে কাজ করতে চায় কিন্তু প্রেসারের কারণে করতে পারছে না। তাদের কাছে আমার অনুরোধ আপনারা আমাদের দিকে দয়া করে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি করে দেবেন। আগামী ৩০ ডিসেম্বর আমরা একটি সুন্দর সুষ্ঠু নির্বাচন কামনা করছি।এ সময় তার মা এবং দলের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।ডা. প্রিয়াংকা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কারাবন্দি হযরত আলীর পরিবর্তে বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছেন। হযরত আলী ঋণখেলাপিসহ একাধিক মামলার আসামি হয়ে প্রায় ৪ মাস ধরে কারাভোগ করায় তার বদলে প্রার্থী হয়েছেন তার ২৫ বছর ৬ মাস বয়সের চিকিৎসক মেয়ে প্রিয়াংকা।




