241252

সুষ্ঠু নির্বাচনে বিশিষ্টজনদের ৫ দাবি

গণমাধ্যমের ওপর ‘আরোপিত নিষেধাজ্ঞা’র বিরুদ্ধে জোরালো আওয়াজ তোলার আহবান জানিয়েছেন সদ্য মুক্তিপ্রাপ্ত আলোকচিত্রী শহিদুল আলম। শনিবার দুপুরে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনি মিলনায়তনে ‘অনিশ্চয়তা, ভয়ভীতি আর সহিংসতার বিরুদ্ধে জনগণের শক্তি গড়ে উঠুক, নির্বাচনে জনগণের ঢল নামুক; ভোটকেন্দ্র হোক ভোটারের’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ আহবান জানান।শহীদুল আলম বলেন, ‘রিপোর্টার-ফটো সাংবাদিকদের দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে এখন অনেক নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। সরকারের যদি ভয় না থাকে তাহলে এই নিষেধাজ্ঞার প্রয়োজন কী?সুষ্ঠুভাবে যদি নির্বাচন হয় তাহলে সকলে ছবি তুলবে, সবাই রিপোর্ট করবে, সকলে জানাবে, অংশগ্রহণ করবে। সেটার ব্যাপারে সরকারের ভয় পাওয়াটাই ইঙ্গিত করে এই নিষেধাজ্ঞাগুলি।’

তিনি আরো বলেন, এই অবস্থায় আমাদের জোরালো দাবি জানানো প্রয়োজন, সাংবাদিক হিসেবে আমাদের দায়িত্ব পালনের অধিকার রয়েছে৷ জনগণের জানার অধিকার রয়েছে এবং জনগণকে জানানোর অধিকার থেকে যাতে আমরা বঞ্চিত না হই সেই জায়গাটা নিশ্চিত করতে হবে।আলোকচিত্রী শহীদুল বলেন, নাগরিক হিসেবে অন্যায়ের প্রতিবাদ করা প্রয়োজন। তার সাথে আরেকটি জরুরি প্রয়োজন সবাইকে সাহস যোগানো।জনগণের হাতে যেসব ক্ষমতা সেটা সব রাজনৈতিক দলকে বোঝাতে হবে। দেশ পরিচালনার জন্য আমরা যাদের দায়িত্ব দিচ্ছি তাদেরও এটা বোঝাতে হবে।সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে ৫টি দাবি জানায় সুশীল সমাজ। এগুলো হলো- ১. নির্বাচন কমিশনকে নির্বাচন আয়োজনের জন্য শেষ সময়টুকুতে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষতা, স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে; নির্বাচনের কাজে সম্পৃক্ত প্রশাসন যাতে নিরপেক্ষভাবে কাজ করতে পারে তা নিশ্চিত করতে হবে।

২. স্বাধীনভাবে দেশি ও বিদেশি পর্যবেক্ষক এবং সাংবাদিকদের যথাযথ ভূমিকা পালন করতে দিতে হবে।৩. হামলা, মামলা, ভয়ভীতি প্রদর্শন, সহিংসতা বন্ধ করতে হবে। এসবে জড়িতদের বিরুদ্ধে সক্রিয় ব্যবস্থা নিতে হবে। অবিলম্বে হয়রানিমূলক মামলা দায়ের ও ধরপাকড় বন্ধ করতে হবে। হয়রানিমূলক মামলায় গ্রেফতারদের মুক্তি দিতে হবে।৪. সকল প্রকার যোগাযোগে বাধা সৃষ্টির বদলে তা উন্মুক্ত করে দিতে হবে।৫. নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘু এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মানুষদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। তাদেরকে ভয়ভীতি প্রদর্শনকারী এবং তাদের ওপর হামলাকারীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে হবে।লিখিত এই বক্তব্যে দেশের ২৯ জন সুশীল নাগরিক একাত্মতা প্রকাশ করেন।

সংবাদ সম্মেলনে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ বলেন, নির্বাচনের আগে আমরা দেখছি, বিচার বিভাগ, পুলিশ প্রশাসন, নির্বাচন কমিশন, দুর্নীতি দমন কমিশনসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান সরকারকেন্দ্রিক হয়ে গেছে। যে কারণে মানুষ গুম, খুন, নির্যাতন, হামলা, মামলার শিকার হচ্ছে। এমন অবস্থায় দেশে ভয়ের রাজত্ব কায়েম হয়েছে।

তিনি বলেন, জনগণের অধিকার অর্জন না হলে দেশে রাজতন্ত্র কায়েম হবে। স্বাধীনতার পর থেকে এখন পর্যন্ত দেশের সব কয়টি নির্বাচনই হিসেবে দলীয় সরকারের অধীনে ও প্রশ্নবিদ্ধ নির্বাচন হয়েছে।অথচ বর্তমান সরকার দাবি করছে, তারা সুষ্ঠু নির্বাচন করবে। এটা সরকারের জন্য একটা চ্যালেঞ্জ। অথচ এই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় সরকারের যা যা করণীয় তা তারা করছে না।আনু মুহাম্মদ আরো বলেন, দেশ-বিদেশের বিভিন্ন পত্র-পত্রিকার খবর ও আমাদের অনুসন্ধানে দেখা গেছে, সরকারদলীয়রা ছাড়া কোনো প্রার্থীই নির্বিঘ্নে প্রচার-প্রচারণা চালাতে পারছেন না। তারা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।আশা করি, নির্বাচনের আর মাত্র যে কয়েকটা দিন রয়েছে সেই কয়দিনে সরকার এসব না করে সুষ্ঠু নির্বাচনের ব্যবস্থা করে দেবে। ইসি ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বর্তমানে যে ভূমিকা পালন করছে তা সুষ্ঠু নির্বাচন পরিপন্থি। নির্বাচনী প্রক্রিয়া সঠিকভাবে সম্পন্ন না হলে গোটা দেশ বিপর্যয়ের মুখে পড়বে।

দেশের এমন অবস্থায় সুশীল সমাজের কী করণীয়- এমন প্রশ্নের জবাবে সুপ্রিম কোর্টের অ্যাডভোকেট শাহদীন মালিক বলেন, আমাদের ভূমিকা মসজিদের মুয়াজ্জিনের মতো।মুয়াজ্জিনের দায়িত্ব আজান দেয়া, কিন্তু আজান শুনে মানুষ যদি নামাজ পড়তে না আসে সেক্ষেত্রে তার কিছু করার নাই। ঠিক তেমনি আমরা সার্বিক পরিস্থিতি সবার সামনে তুলে ধরে সকলকে সোচ্চার হওয়ার আহবান জানাতে পারি এবং সেটাই করে আসছি।সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে সুপ্রিম কোর্টের অ্যাডভোকেট সারা হোসেন বলেন, আমরা দেখছি, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিরোধী দলীয়রা প্রচারণায় নেমে হামলা-মামলার শিকার হচ্ছেন।অন্যদিকে, সরকারদলীয়রা রাষ্ট্রীয় প্রটোকল ব্যবহার করে নির্বাচনী প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন, যা অত্যন্ত দুঃখজনক। এর মাধ্যমে আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখানো হচ্ছে।তিনি আরো বলেন, সরকারদলীয়রা নিজেদের আইনের উর্ধ্বে ভাবতে শুরু করেছেন। নির্বাচনে সরকারদলীয়দের পক্ষে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে ব্যবহার করা হচ্ছে। অথচ নির্বাচন কমিশন দাবি করছে, তাদের অধীনে রয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী৷ ইসির কি চোখ-কান নেই! এগুলো কি তাদের চোখে পড়ে না? এগুলো শুধু আচরণবিধি লঙ্ঘন নয়, আইনের শাসন ও নীতি নৈতিকতার প্রতি অশ্রদ্ধা প্রকাশও বটে।

ad

পাঠকের মতামত