১৬ বছর ধরে বন্ধ হয়ে আছে বঙ্গবন্ধু চেয়ার
নিউজ ডেস্ক।। ১৬ বছর ধরে বন্ধ হয়ে আছে জার্মানির হাইডেলবার্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গবন্ধু প্রফেসরিয়াল চেয়ার৷ প্রতিষ্ঠার দুই বছর পর বিএনপি নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট সরকারের আমলে বন্ধ হয়ে যায় এ চেয়ার৷ তারপর ১০ বছর আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় থাকলেও তা চালু করার কোনো উদ্যোগ নেয়া হয়নি৷ বাংলাদেশের রাজনীতি, অর্থনীতি, শিল্প, সাহিত্যসহ নানা বিষয়ে গবেষণা, বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে বাংলাদেশ বিষয়ে পড়তে আসা ছাত্র-ছাত্রীদের মাঝে বাংলাদেশের ইতিহাস, রাজনীতি, অর্থনীতিসহ বিভিন্ন বিষয়ে জ্ঞান ছড়িয়ে দেয়ার উদ্দেশ্যে ১৯৯৯ সালে হাইডেলবার্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের দক্ষিণ এশিয়া ইনস্টিটিউটে প্রতিষ্ঠিত হয় ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান প্রফেসরিয়াল ফেলোশিপ’ চেয়ার৷
চালু হওয়ার প্রথম দুই বছর বাংলাদেশ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শিক্ষকরা এ ফেলোশিপের আওতায় যোগদান করেন এবং বিভিন্ন দেশ থেকে আসা শিক্ষার্থীদের বাংলাদেশ বিষয়ে পাঠ দান করেন৷ তবে ২০০২ সালের পর আর কোনো শিক্ষক এ ফেলোশিপের আওতায় যোগদান করেননি৷ ফলে বন্ধ হয়ে যায় বাংলাদেশের বাইরে জাতির জনকের সম্মানে প্রতিষ্ঠিত প্রফেসরিয়াল চেয়ারটির কার্যক্রম৷ কাজে লাগানো যাচ্ছে না বাংলাদেশ বিষয়ে গবেষণার ও বাংলাদেশেকে বহির্বিশ্বে ছড়িয়ে দেয়ার গুরুত্বপূর্ণ এ সুযোগটি৷
হাইডেলবার্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের দক্ষিণ এশিয়া ইন্সটিটিউটে বাংলাদেশ থেকে পড়তে আসা শিক্ষার্থীরা বলছেন, এ ‘চেয়ারটির’ কার্যক্রম বন্ধ থাকার কারণে ইনস্টিটিউটের অ্যাকাডেমিক কারিকুলামে বাংলাদেশ আর ততটা স্থান পাচ্ছে না৷
এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়টির শিক্ষকরা বলছেন, এমন উদ্যোগ বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণে বিশ্ববিদ্যালয়টিতে বাংলাদেশ বিষয়ে গবেষণা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে৷ দক্ষিণ এশিয়া ইন্সটিটিউটের শিক্ষক, মডার্ন ইন্ডোলজি বিভাগের প্রধান প্রফেসর ড. হান্স হারডার বাংলা ভাষা ও সাহিত্যসহ নানা বিষয় নিয়ে গবেষণা করছেন৷ শিক্ষার্থীদের বাংলা ভাষা বিষয়ে পাঠদানও করেন তিনি৷ ডয়চে ভেলেকে জানান, এ প্রফেসরিয়াল চেয়ারটি বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণে বাংলাদেশ বিষয়ে এ ইন্সটিটিউটে আর ততটা কাজ হচ্ছে না৷
তিনি বলেন, ‘‘বাংলাদেশ নিয়ে আমাদের আগ্রহ আছে৷ এই ইনস্টিটিউটে দক্ষিণ এশিয়ার সব দেশের প্রতিনিধিত্ব থাকা উচিত৷’’ ইনস্টিটিউটটে বাংলাদেশের প্রতিবেশী দেশ ভারতের অবস্হান উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘‘এ ইনস্টিটিউটের শিক্ষা কার্যক্রমে ভারতের অনেক বড় ভূমিকা আছে৷ তাদের দেশের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তারা কাজ করছে৷ বাংলাদেশের এ প্রফেসরিয়াল চেয়ারটি চালু হলে বাংলাদেশ বিষয়ে গবেষণা কার্যক্রম জোরদার হবে৷’’
এদিকে চেয়ারটি চালু করার কোনো উদ্যোগ আছে কিনা এ বিষয়ে জানতে চাইলে জার্মানিতে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ইমতিয়াজ আহমেদ জানান, তিনি রাষ্ট্রদূত হিসেবে জার্মানিতে যোগদানের পর এ বিষয়ে অবগত হয়েছেন এবং হাইডেলবার্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের দক্ষিণ এশিয়া ইন্সটিটিউট কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করেছেন৷ তবে চেয়ারটি চালুর সাথে যেহেতু অর্থনৈতিক বিষয় জড়িত, তাই বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগের পর এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হবে বলে জানিয়েছেন তিনি৷ উৎস : ডয়েচে ভেলে




