241393

নির্বাচন কমিশন নিয়ে যা বললেন এসকে সিনহা (ভিডিও)

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন আয়োজনে নির্বাচন কমিশন (ইসি) তার ক্ষমতার প্রয়োগ করছে না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক বিচারপতি এসকে সিনহা।নির্বাচন উপলক্ষে তিনি সামাজিকমাধ্যমে একটি ভিডিও বার্তা প্রকাশ করেছেন। ওই ভিডিওতে এসকে সিনহা দেশের সামগ্রিক অবস্থা, গণতন্ত্র, আইনের শাসন, যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা ইত্যাদি বিষয় নিয়ে কথা বলেছেন।ভিডিওটির শুরুতে এসকে সিনহা বলেন, আমরা আজ চরম ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছি। দেশের এই ক্রান্তিকাল সম্ভবত ১৯৭১ সালে ছিল, বঙ্গবন্ধু হত্যা হওয়ার পরে হয়েছিল, এরপর দুইটা মার্শাল ল’ জারি হওয়ার পরে। এই ক্রান্তিকালে গণতন্ত্র ও আইনের শাসন; দুটো জিনিস দেশ থেকে চিশ্চিহ্ন হয়ে গিয়েছিল।

এরপর তিনি বিভিন্ন বিষয়ে কথা বলেন। এর মধ্যে তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাতিলের রায় নিয়ে বলেন, রায়টা যখন আপিল বিভাগে রিভিউতে যখন আসল তখন আমরা ৭ জন বিচারক ছিলাম। তখন ৩ জন আপিলটা ডিসমিস করে দিয়েছে। তিনজনের সঙ্গে আমিও বল্লাম দুইটা তত্ত্বাবধায়ক বা তত্ত্বাবধায়ক থাকবে এটা কিন্তু প্রবল হয়ে গেল।তিনি বলেন, কিন্তু সরকার একেবারে সুপ্রিমকোর্টের রায়টাকে পদদলিত করে তারা একেবারে উঠিয়ে দিয়ে একতরফা নির্বাচন সরকার দলীয়ভাবে করছে। এটাতে কী হলো? গত উপজেলা নির্বাচন, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন; যদি আঞ্চলিক সরকারে (উপজেলা ও ইউনিয়ন) নির্বাচনই যদি নিরপেক্ষ না হয়, যে জায়গায় শত শত লোক মারা যায়। দলীয় প্রশাসনের অধীনে, দলীয় নির্বাচনের অধীনে এই নির্বাচনের আলামত তো অলরেডি ক্লিয়ার হচ্ছে।

নির্বাচন কমিশন বিষয়ে সাবেক প্রধান বিচারপতি বলেন, ইলেকশন কমিশন, সংবিধানে কিন্তু নিরপেক্ষ নির্বাচনের কথা বলা হয়েছে। এবং সম্পূর্ণ সক্ষমতা কিন্তু নির্বাচন কমিশনের। নির্বাচন কমিশন কিন্তু সেই ক্ষমতা প্রয়োগ করছে না। সেটা যদি সংবিধান অনুযায়ী পালন করা হয় অথবা ‘রিপ্রেজেন্টেশন অব দ্য পিপলস অর্ডার-১৯৭২’ যদি ফলো করা হয় তাহলে কিন্তু যে আইন আছে এই আইনের মাধ্যমে নিরপেক্ষ নির্বাচন করা সম্ভব।তিনি বলেন, বাংলাদেশের গত প্রত্যেকটা সাধারণ নির্বাচনের আগে … (অস্পষ্ট) শাসনের কথা বলা হয়েছে। এবার শুধু সেটা হলো না। যার কারণে এবার তো মনে হয় ১ জন নাকি ২টা খুন হয়েছে। এমনকি অভিযোগ করা হচ্ছে, পুলিশ নাকি গুলি করেছে। পুলিশ গুলি করেছে এবং বিএনপির একজন কেন্দ্রীয় নেতা দুজন কেন্ডিডেট গুলিবিদ্ধ হয়েছে। এটা তো হল রুল অব ল’ নেই বলে। ইলেকশন কমিশন যদি প্রকৃতপক্ষে রুল অব ল’ কায়েম করতে পারত, নির্বাচন নিরপেক্ষ হওয়ার খাতিরে এটা করতে পারলে আজ এই অবস্থা হত না। বিশৃঙ্খলা হতো না।

বিএনপির অধীনে মাগুরার উপনির্বাচনের সময়ে আওয়ামী লীগের বক্তব্যের উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি বলেন, বিগত বিএনপির আমলে একটা উপনির্বাচন, শুধুমাত্র একটা উপনির্বাচন, মাগুরার একটা উপনির্বাচন; আওয়ামী লীগ তাদের দাবিতে বলেছিল, ভোট ডাকাতি যারা করে তাদের প্রতি মানুষের আস্থা নেই। সেই আওয়ামী লীগ এবারও ভুলে গেল। তারা নিরপেক্ষ নির্বাচনে কথা বলেছিল একটা উপনির্বাচনের ওপর উদাহরণ দিয়ে। সেই জায়গায় একটা জাতীয় নির্বাচন দলীয় সরকারের অধীনে তারা করতে যাচ্ছে। তাদের তো দেখাতে হবে যে, না আমরা নিরপেক্ষে নির্বাচন (দিচ্ছি)।

তিনি বলেন, একাদশ সংসদে যে নির্বাচন ৩০ ডিসেম্বর হতে যাচ্ছে এটা কিন্তু আমাদের অস্তিত্বের লড়াই। আমরা স্বাধীনভাবে একটা সভ্য দেশ হিসেবে টিকতে পারব, না শুধু একটা মানচিত্রের জন্য বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করেছি; এই মানচিত্র বর্তমান যে অবস্থা চলছে, চলতে থাকলে আমরা হারিয়ে যাব।এসকে সিনহা বলেন, এর অনেক কারণ। প্রথম, একটা সভ্য দেশ বলতে প্রথমেই বুঝি আইনের শাসন এবং গণতন্ত্র। এই দুইটা যদি না থাকে তাহলে আমরা সভ্য দেশ হিসেবে পৃথিবীতে মাথাচাড়া দিয়ে কথা বলতে পারব না। মাথা উঁচু করে কথা বলতে পারব না।সূত্র: যুগান্তর

ad

পাঠকের মতামত