‘আমি ৭১ দেখিনি ২০১৮ দেখেছি’
নাম সায়মা ফেরদৌস। পেশায় একজন অধ্যাপক। প্রাচ্যের অক্সফোর্ড খ্যাত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ান তিনি। রাজনীতিতে বেশ অপরিচিত মুখ। তবে রাজনৈতিক পরিবারের সন্তান হওয়ায় রাজনীতির অলিগলি বেশ পরিচিত তার। পিতা মনিরুল হক চৌধুরী স্বনামধন্য মুক্তিযোদ্ধা ও কুমিল্লা ১০ আসনের ধানের শীষের প্রার্থী। পিতা জেলে থাকায় নির্বাচনী মাঠে হাজারো নেতাকর্মীর শেষ ভরসার স্থল তিনি।বুধবার (১৯ ডিসেম্বর) বিকালের মনিরুল হক চৌধুরীর সুয়াগাজীর ফুলতলার নির্বাচনী জনসভায় নেতাকর্মী ও তার পরিবারের ওপর বয়ে যাওয়া নানা নির্যাতনের কথা উল্লেখ নিজে কাঁদলেন, নেতাকর্মীদেরও কাঁদালেন তিনি।তিনি বলেন, ‘আমি ৭১ দেখিনি ২০১৮ দেখেছি। কিভাবে মানুষকে গুম খুন করা হচ্ছে। গভীর রাতে বাসায় গিয়ে হাত পা ভেঙ্গে দিচ্ছে। নাঙ্গলকোট বিএনপির নেতাকর্মীদের ওপর নির্যাতনের স্টীম রোলার চালাচ্ছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমি রাজনীতির কেউ নই তারপরও আমাকে আজ বাধ্য হয়ে রাজনীতির মাঠে আসতে হয়েছে। এখানে থাকার কথা ছিলো আমার পিতা মনিরুল হক চৌধুরীর। তিনি আজ কারাগারে। তার অপরাধ তিনি জনগণকে ভালোবাসের। আর জনগনও তাকে ভালবাসে।’নেতাকর্মী ও তার পরিবারের ওপর নানা নির্যাতনের কথা উল্লেখ করে তিনি কেঁদে দেন। এ সময় মঞ্চের সামনে থাকা হাজারো নেতাকর্মীকে কাঁদতে দেখা যায়।সায়মা ফেরদৌস বলেন, ‘আমি কথা দিয়েছিলাম নির্যাতিন মানুষের পাশে দাড়াবো। আজ দাড়িয়েছি, আপনাদের কোন ভয় নেই। আমাদের জয় সুনিশ্চিত, জনগণের জয় হবেই।’
মির্জা ফখরুল ও কাঁদের সিদ্দিকীকে প্রশ্ন করে তিনি বলেন, ‘আজকের এই দিনের জন্য কি আপনারা যুদ্ধ করেছেন?’তিনি আরও বলেন, এবারের সংগ্রাম গনতন্ত্রের মুক্তির সংগ্রাম। এবারের সংগ্রাম মানবতার মুক্তির সংগ্রাম।জনসভায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর কাঁদের সিদ্দিকী, কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল আউয়াল খান, কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের মেয়র মনিরুল হক সাক্কু, নির্বাহী কমিটির সদস্য মোস্তফা খান সফরী, মো: সালাহ্উদ্দিন ভুইয়া শিশির ও বিএনপির চেয়ারপারসনের প্রেস উইং সদস্য শামসুদ্দিন দিদার প্রমুখ।




