239677

টেলিভিশন অনুষ্ঠান ‘ক্রাইম প্যাট্রল’ দেখে শিশু রাকিনকে হত্যা

নিউজ ডেস্ক।। অপরাধবিষয়ক নাটক-সিনেমা, বিশেষ করে ভারতীয় টেলিভিশন অনুষ্ঠান ‘ক্রাইম প্যাট্রল’-এর অপরাধকাণ্ড দেখে দ্রুত বড়লোক হতে চায় কিশোর পারভেজ শিকদার (১৭) ও ফয়সাল আহমেদ (১৬)। ছয় মাস আগ থেকে করা পরিকল্পনা অনুযায়ী শিশু সাদমান ইকবাল রাকিনকে (১০) অপহরণ করে তারা। এর পর মুক্তিপণ দাবি করে ১০ লাখ টাকা। তা না পেয়ে দুজনে মিলে শিশুটির বুকের ওপর বসে গলাটিপে হত্যা করে; কিন্তু মোবাইল রিচার্জের এক টুকরো কাগজই তাদের অপরাধের সাক্ষী হয়ে দাঁড়ায় বলে জানান র‌্যাব ১-এর অধিনায়ক লে. কর্নেল সারোয়ার-বিন-কাশেম। গতকাল কারওয়ানবাজারের র্যাব মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে শিশু রাকিন হত্যার মূল রহস্যের বিস্তারিত তুলে ধরেন তিনি।

গত ৫ ডিসেম্বর বিকালে শিশু রাকিনকে অপহরণ করা হয়েছিল। এর পাঁচদিন পর তার অর্ধগলিত লাশ পাওয়া যায় গাজীপুরের শ্রীপুর এলাকার শিশুটির নিজ বাড়ির বাঁশঝাড়ের ভেতর। অপহরণের পর শিশুর বাবা সৈয়দ শামীম ইকবাল গত ৭ ডিসেম্বর শ্রীপুর থানায় একটি মামলা করেন। নির্মম এই হত্যাকাণ্ডের তদন্ত শুরু করে র‌্যাব-১। এর ধারাবাহিকতায় তদন্ত শেষে মূল রহস্য উদ্ঘাটন করতে সক্ষম হয় তারা।

হত্যাকারী পারভেজ শিকদার শ্রীপুরের ফাউগান এলাকার আলীম শিকদারের ছেলে। সে গতবছর এলাকার ফাউগান উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাস করে কৃষি প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে এগ্রিকালচার ডিপ্লোমায় ভর্তি হয়। তার বাবা মানসিক ভারসাম্যহীন, মা গৃহিণী এবং দুই ভাইয়ের মধ্যে সে বড়। তার পড়াশোনার খরচ চালাত নিহত শিশু রাকিনের পরিবার। বিনিময়ে গত দুবছর ধরে রাকিনকে প্রাইভেট পড়াত পারভেজ। আর ফয়সাল একই স্কুলের নবম শ্রেণির ছাত্র। তারা দুজনই বিভিন্ন নেশায় জড়িয়ে পড়েছিল।

জানা যায়, ক্রাইম পেট্রোল দেখে নিজের ছাত্র রাকিনকে ফাঁদে ফেলে পারভেজ মুক্তিপণ আদায়ের পরিকল্পনা করে ছয় মাস আগেই। প্রথমে রাকিনের বাবার মুঠোফোনটি তাদের বাসা থেকে চুরি করে সে। পরে সেটি বন্ধ রেখে পরিকল্পনা সাজাতে থাকে। একা সেই কাজ করতে পারবে না ভেবে সঙ্গে নেয় ফাউগান উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী ফয়সালকে। দুজনের বাড়িই শিশু রাকিনের বাড়ির পাশে।

অপহরণের দিন সকালে মক্তব থেকে এসে বাড়ির পাশেই বন্ধুদের সঙ্গে খেলছিল রাকিন। এ সময় অভিযুক্ত ফয়সাল তাকে পাখির বাসা দেখাবে বলে বাড়ির পাশেই একটি জঙ্গলে নিয়ে যায়। সেখানে আগে থেকেই ছিল মূল পরিকল্পনাকারী পারভেজ। শিশুটি তাদের ফাঁদ বুঝতে পেরে শুরু করে দেয় কান্নাকাটি। ঘটনা ফাঁস হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় পরে দুজন মিলে তাকে গলাটিপে হত্যা করে। পরে রাকিনের বাবার চুরি যাওয়া সেই পুরনো মুঠোফোনের মাধ্যমে কল দিয়ে ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ চেয়ে সেটি আবার বন্ধ রাখে তারা। সারাদিন ছেলেকে কোথাও খুঁজে না পেয়ে এবং মুক্তিপণের বিষয়টি নিয়ে শ্রীপুর থানায় পরদিন গত ৬ ডিসেম্বর অভিযোগ করেন বাবা সৈয়দ শামীম ইকবাল। গত ১১ ডিসেম্বর বাড়ির পাশেই বাঁশঝাড়ে রাকিনের মরদেহ পাওয়া যায়।

র‌্যাব প্রথমে ঘটনার কোনো কূল-কিনারাই করতে পারছিল না। পরে মুক্তিপণ চাওয়ার কাজে ব্যবহৃত মুঠোফোনে টাকা রিচার্জের সূত্র ধরে স্থানীয় বাজারের একটি রিচার্জের দোকান থেকে ওই নম্বর লেখা একটি কাগজের টুকরো উদ্ধার করে। সেই কাগজ এবং লাশের পাশে ফেলে রাখা সিগেরেটের প্যাকেটের অংশ দেখে অভিযুক্তদের শনাক্ত করা হয়। গত ১৬ ডিসেম্বর শ্রীপুর ও গাজীপুর শহর থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। র‌্যাব ১-এর অধিনায়ক লে. কর্নেল সারওয়ার-বিন-কাশেম জানান, এ ঘটনায় আসামিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন। জিজ্ঞাসাবাদে তারা হত্যার কথা স্বীকার করে বর্ণনা দিয়েছে। উৎস: দৈনিক আমাদের সময়।

ad

পাঠকের মতামত