239527

ডিবির হাত থেকে বাঁচতে চান বিএনপি প্রার্থী, নিরাপত্তাহীনতায় আ’লীগ

শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী-ঝিনাইগাতী) আসনের বিএনপি মনোনীত ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট সমর্থিত প্রার্থী জেলা বিএনপির সভাপতি সাবেক এমপি মাহমুদুল হক রুবেল এবং আওয়ামী লীগ ও মহাজোট সমর্থিত প্রার্থী বর্তমান এমপি প্রকৌশলী একেএম ফজলুল হক চান পাল্টাপাল্টি সাংবাদিক সম্মেলন করেছেন।সোমবার দুপুর ও বিকালে করা সাংবাদিক সম্মেলনে তারা দু’জনেই নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন। শেরপুর- ৩ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বী দু’জন পরস্পর চাচা ও ভাতিজা।বিএনপি মনোনীত ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট সমর্থিত প্রার্থী জেলা বিএনপির সভাপতি সাবেক এমপি মাহমুদুল হক রুবেল সাংবাদিক সম্মেলনে বলেন, আমি নিরাপত্তাহীনতার ভুগছি। ইতিমধ্যেই আমার কানে আসছে আগামী ২৪ ডিসেম্বরের মধ্যে ডিবি পুলিশ আমাকে হয়ত অজ্ঞাতস্থানে নিয়ে যাবে। গুম করে ফেলতে পারে অথবা হত্যা করতে পারে। আমি যদি গুম হয়ে যাই। আমাকে যদি হত্যা করা হয়। এর জন্য সব দায়ভার পুলিশ প্রশাসনের এবং ডিবি পুলিশের।

সোমবার দুপুরে শহরের গৃদানারায়নপুরের নিজস্ব বাসভবনে এক সাংবাদিক সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন তিনি। সাংবাদিক সম্মেলনে রুবেল বলেন, আমার সমস্ত পোস্টার পুলিশ গিয়ে ছিঁড়ে ওদের মামলা দেয়ার ব্যবস্থা করছে। আমরা এখন নিরুপায়। ডিবি পুলিশ থেকে বাঁচতে চাই। আমার বাসায় আমাকে সার্বক্ষণিক হুমকির মধ্যে রাখছে। আমাকে যে কোনো সময় উঠিয়ে নিয়ে যাবে।মাহমুদুল হক রুবেল সাংবাদিক সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে আরও বলেন, নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগেই আমার নির্বাচনী এলাকার বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে শ্রীবরদী-ঝিনাইগাতীতে ১৯টি মিথ্যা গায়েবি মামলা দায়ের করে নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ বাধাগ্রস্ত করেছে।

তিনি বলেন, অসংখ্য নেতাকর্মীকে বিনা পরোয়ানায় গ্রেফতার করে ১৭টি মিথ্যা মামলা দেয়া হয়েছে। রুবেল নৌকা প্রতীকের প্রার্থী প্রশাসনকে অবৈভাবে ব্যবহার করে আমার প্রতিটি সভায় ১৪৪ ধারা জারি করে আমার প্রচার কাজ বন্ধ করেছে।সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে রুবেল বলেন, আমি যদি গুম না হই, আমি যদি মৃত্যুবরণ না করি তাহলে নির্বাচনের ফলাফল পর্যন্ত মাঠে থাকব। আমি একা হলেও থাকব।অপরদিকে, শেরপুর-৩ আসনের বিএনপি প্রার্থী মাহমুদুল হক রুবেলের সাংবাদিক সম্মেলনের পর তড়িঘড়ি করে সোমবার বিকালে শেরপুর শহরের সজবরখিলার বাসায় সংবাদিক সম্মেলন করেছেন একই আসনের আওয়ামী লীগের প্রার্থী বর্তমান এমপি প্রকৌশলী একেএম ফজলুল হক চান।

সাংবাদিক সম্মেলনে ফজলুল হক চান বিএনপি প্রার্থী রুবেলকে সন্ত্রাসী বলে আখ্যায়িত করে বলেন, বিএনপি প্রার্থী নিজেও একজন সন্ত্রাসী তার গাড়িতে করে অস্ত্রসহ সন্ত্রাসী নিয়ে চলাফেরা করেন। অপরদিকে তিনি একা নির্বাচনী এলাকায় নির্বাচনী জনসংযোগ চালাচ্ছেন।তিনি অভিযোগ করে বলেন, আমার জীবনের নিরাপত্তা নাই। আমি পুলিশের কাছে আমার জীবনের নিরাপত্তা চাই। তার মতো আমি সন্ত্রাসী লোক নিয়ে চলাফেরা করি না। তিনি পুলিশের কাছে নিরাপত্তা দাবি করেন। সেইসঙ্গে সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে যাদের বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে তাদের অবশ্যই গ্রেফতার করতে হবে বলে পুলিশের প্রতি আহ্বান জানান। এ পর্যন্ত যাদের গ্রেফতার করা হয়েছে তারা সবাই মাদক, সন্ত্রাসী ও নারী নির্যাতন মামলার আসামি।

ফজলুল হক চান সাংবাদিক সম্মেলনে অভিযোগ করে আরও বলেন, ২০১৪ সালের নির্বাচনে নির্বাচনী এলাকার ৩৮টি ভোট কেন্দ্র আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দিয়েছিল সন্ত্রাসী রুবেল। বিএনপি প্রার্থী সাংবাদিক সম্মেলন করে যে সব কথা বলছে সেগুলো সব মিথ্যা ও বানোয়াট। পুলিশকে অভিযুক্ত করে সাংবাদিক সম্মেলনে যে সব কথা বলা হয়েছে সেগুলোর আমরা তীব্র নিন্দা জানাই।তিনি আরও বলেন, সে এ রকম কোনো নেতা না তাকে গুম করে ফেলতে হবে। সে এমন কোনো প্রার্থী না তাকে গুম করে আমাদের রাজনীতি করতে হবে।সাংবাদিক সম্মেলনে, জেলা কৃষক লীগের সভাপতি আব্দুল কাদের, শ্রীবরদী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোতাহারুল ইসলাম লিটন, খড়িয়া কাজীরচর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এডিএম শহিদুল ইসলাম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

শেরপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বিল্লাল হোসেন বিএনপির এমপি প্রার্থী রুবেলের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ডিবি পুলিশের দায়িত্ব হচ্ছে জনমালের নিরাপত্তা বিধান করা। বিএনপি প্রার্থী রুবেলকে গুম ও অপহরণের প্রশ্নই আসে না। আর বিভিন্ন মামলার আসামিদের গ্রেফতারের পর প্রার্থীদের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে সে তাদের দলের লোক। পুলিশ সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ছাড়া কাউকে গ্রেফতার করছে না। সূত্র: যুগান্তর

ad

পাঠকের মতামত