239326

‘মৃত্যুর আগেই ফেসবুকে হত্যা-আত্মহত্যার কথা লিখেন মাঈনুদ্দিন’

‘ফেসবুকে মাঈনুদ্দিন মরে যাবেন এবং তার কবর দেয়ার কথা লেখেন। তিনি স্ত্রী, সন্তানদের ভিডিও করে ফেসবুকে আপলোড করেন। ’সোমবার ভোর ৪টার দিকে মাঈনুদ্দিনের প্রবাসী বড়ভাই জসিম উদ্দিন এ তথ্য জানান।রোববার গভীর রাতে চাঁদপুর সদর উপজেলায় রামপুর ইউনিয়নে পারিবাবারিক কলহের জের ধরে স্ত্রী ও দুই সন্তানকে শ্বাসরোধে হত্যার পর আত্মহত্যা করেছেন স্বামী মো. মাঈনুদ্দিন (৩২)। সোমবার ভোরে উপজেলার দেবপুর গ্রামের সরদারবাড়ি থেকে নিহত চারজনের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।নিহতরা হলেন-মো. মাঈনুদ্দিন (৩২), তার স্ত্রী ফাতেমা আক্তার (২৫), কন্যা মিথিলা ফারজানা (৫) ও ছেলে সিয়াম (০১)। নিহত মাঈনুদ্দিন ওই বাড়ির মিয়াজী সরদারের ছেলে। তিনি চট্টগ্রাম একটি বিস্কুট ফ্যাক্টরিতে কাজ করতেন।

মালয়েশিয়া থেকে জসিমউদ্দিন তার মা ফিরোজা বেগমকে ফোনে জানান, ফেসবুকে মাঈনুদ্দিন মরে যাবেন এবং তার কবর দেয়ার কথা লেখেন। তিনি স্ত্রী, সন্তানদের ভিডিও করে ফেসবুকে আপলোড করেন। প্রবাসী জসিম মা ও ভাইকে মাঈনুদ্দিনের ঘরে গিয়ে খোঁজ নেয়ার কথা বলেন।পরে মা ফিরোজা বেগম ও ভাই কালাম সরদার ঘরে গিয়ে দরজা খুলে প্রথমে দুই শিশুকে লেপের নিচে মৃত পড়ে থাকতে দেখেন এবং মাঈনুদ্দিনকে ঘরের আড়ার সঙ্গে ফাঁস দেয়া ঝুলন্ত অবস্থায় দেখেন। তাদের চিৎকারে বাড়ির লোকজন আসে এবং পরে খোঁজাখুঁজি করে বাড়ির পুকুরে খুঁটির মধ্যে ফাতেমার মরদেহ বাঁধা অবস্থায় দেখতে পান। তবে ধারণা করা হচ্ছে-ফাতেমাকে বিষপান করিয়ে হত্যা করা হয়েছে।

নিহত মাঈনুদ্দিনের মা ফিরোজা বেগম জানান, গত কয়েক দিন আগে মাঈনুদ্দিনের স্ত্রীর কানের দুল হারিয়ে যায়। এ নিয়ে তাদের মধ্যে কলহ দেখা দেয়। এর পরে মাঈনুদ্দিন চট্টগ্রামে তার কর্মস্থলে চলে যায়। পরে ফাতেমাকে তার বাবা এসে মতলব দক্ষিণ উপজেলার করবন্দ গ্রামে পিত্রালয়ে নিয়ে যান। স্ত্রী কেন শ্বশুরবাড়িতে চলে গেছেন এ নিয়েও মাঈনুদ্দিন ও স্ত্রীর ফোনে কথাকাটকাটি হয়।মাঈনুদ্দিনের বড় ভাই কালাম সরদার জানান, শনিবার সকালে চট্টগ্রাম থেকে বাড়িতে আসে এবং শ্বশুরবাড়িতে গিয়ে স্ত্রীকে নিয়ে আসেন। সেখানেও স্ত্রী ও শ্বশুর পরিবারের সঙ্গে কথাকাটাকাটি হয় হারিয়ে যাওয়া স্বর্ণের গহনা নিয়ে।চাঁদপুর মডেল থানার ওসি মো. নাছিমউদ্দিন জানান, মরদেহগুলোর সুরতহাল করা হয়েছে এবং উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ মুহূর্তে হত্যার কারণ বলা যাচ্ছে না; তদন্ত শেষে ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটন করা হবে।

ad

পাঠকের মতামত