সেই ‘চকোলেট বয়’ জঙ্গি হিসেবে গুলিতে নিহত
তিনি নাট্যশালায় অভিনয় করতেন। এমনকি বলিউডের একটি চলচ্চিত্রের ছোট্ট ভূমিকাতেও তাকে দেখা গিয়েছিল। এসব ছিল গত আগস্টে আরেক যুবকের সঙ্গে তার নিখোঁজ হয়ে যাওয়ার আগের ঘটনা।বলা হচ্ছে-ভারতনিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের হাজিন বান্দিপোড়া এলাকার দশম শ্রেণির ছাত্র সাকিব বিলালের কথা।গত ৯ ডিসেম্বর শ্রীনগরের উপকণ্ঠে মুজগুন্দ এলাকায় নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে ১৮ ঘণ্টার বন্দুকযুদ্ধে তিনি নিহত হন।ভারতীয় সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমস বলছে-পাকিস্তানি লস্কর-ই-তৈয়বার এক জঙ্গির সঙ্গে কৈশোর পার হওয়া সাকিবও মারা গেছেন।গত ৩১ আগস্ট নিজেদের বাড়ি থেকে বের হয় সাকিব ও তার সঙ্গী। এর পর তার পরিবার নানা জায়গায় তাকে তন্ন তন্ন করে খুঁজেছে। এমনকি সে যাতে ফিরে আসে, সে জন্য তাবিজ-কবজেরও দারস্থ হয়েছিল তার পরিবার।
সাকিবের মামা আসিম আজিজ বলেন, গত মাসখানেক ধরে তাদের খুঁজে বের করতে এমন কোনো জায়গা নেই, যেখানে যাইনি। আমাদের কাছে সব কিছু অচিন্তনীয় মনে হয়েছে।আজিজ বলেন, প্রকৌশল বিদ্যার প্রতি তার আগ্রহ ছিল। কাজেই সে কেন জঙ্গিবাদে গেল, তা আমাদের বুঝে আসছে না। মুদির দোকানে যাওয়ার কথা বলে সে বাসা থেকে বের হয়েছিল।তৃতীয় একজনের বাইকে চড়ে তারা দুজন যাচ্ছে বলে স্থানীয় লোকজন দেখতে পেয়েছে।দশম শ্রেণির পরীক্ষায় সাকিব ভালো ফল করেছিল। একাদশ শ্রেণিতে তার পদার্থ, রসায়ন ও গণিত নিয়ে পড়ার কথা ছিল। ফুটবলের প্রতি তার ব্যাপক আগ্রহ ছিল। তায়েকান্দো ও কাবাডিও খেলত সে।
এক ধনাঢ্য কৃষি পরিবারে জন্মগ্রহণ করেছিল সাকিব। অভিনয়ের প্রতি তার আগ্রহ ছিল তুখোড়। ভিশাল ভদ্বরাজের হায়দার সিনেমাতে ছোট্ট একটি চরিত্রে অভিনয় করেছিল সে।আজিজ বলেন, ষষ্ঠ শ্রেণিতে থাকাকালে হায়দার সিনেমার দুটি শটে অভিনয় করেছে সাকিব। একটিতে তাকে চকোলেট বয় হিসেবে দেখা গেছে। অন্যটিতে সে ছিল বাস দুর্ঘটনায় বেঁচে যাওয়া একটি শিশু। এ ছাড়া বিভিন্ন মঞ্চনাটকেও দেখা গেছে তাকে।




