বিএনপির কেউ নেই ঐক্যফ্রন্টের সংবাদ সম্মেলনে
রাজধানীর মিরপুরে শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে ঐক্যফ্রন্টের প্রধান ড. কামাল হোসেনের গাড়িতে হামলা চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। শুক্রবার সকালে শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানোর পর ফিরে আসার পথে এ ঘটনা ঘটে। এ নিয়ে বিকেলে সংবাদ করবেন বলে তাৎক্ষনিক জানিয়েছিলেন ঐক্যের নেতারা।সময় মতো সংবাদ সম্মেলন হলেও বিএনপির কোন নেতাকে সেখানে দেখা যায়নি। এনিয়ে ক্ষুব্ধ ঐক্যফ্রন্টের নেতারা। ড. কামালদের উপর এই ঘটনায় বিএনপির পক্ষ থেকে কেউ কোন প্রতিক্রিয়াও জানায়নি। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন- ড. কামাল হোসেন, আ স ম আবদুর রব, মাহমুদুর রহমান মান্না, জগলুল হায়দার আফরিক, রেজা কিবরিয়া প্রমূখ।
এদিকে সংবাদ সম্মেলনে কেউ চিরদিন ক্ষমতায় থাকে না স্মরণ করিয়ে দিয়ে পুলিশ-প্রশাসনের উদ্দেশে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা ও গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন বলেছেন, যেসব পুলিশ গ্রেপ্তার করে চলেছে, তারা কেন এসব করছে? পুলিশ তোমরা বেআইনি আদেশ মানবে না।বিএনপিসহ ঐক্যফ্রন্টের নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে অভিযোগ তুলে ড. কামাল বলেন, যেসব পুলিশ গ্রেপ্তার করছে, তারা কেন এসব করছে? এদেশে কোনো সংবিধান আছে? দেশে কোনো সংবিধান আছে বলেতো মনে হয় না। আসলে তারা বঙ্গবন্ধুর স্বাক্ষরিত সংবিধানকে উপহাসের বস্তু বানিয়েছে। পুলিশ-প্রশাসনের উদ্দেশে তিনি বলেন, জেনে রাখো, চিরদিন কেউ ক্ষমতায় থাকে না। আর কোনো সরকারও অাইনের উর্ধ্বে না। এই সরকার আর ১৬ দিন ক্ষমতায় আছে। সুতরাং বেআইনি আদেশ মানবে না।
বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধ এলাকায় হামলার শিকার হওয়ার বিষয়ে ড. কামাল বলেন, এটা একটি সভ্য দেশ। যারা দেশ শাসন করছে, তাদের লজ্জা পাওয়া উচিত। আজ যারা হামলা করেছে, তাদের বিরুদ্ধে আইনুনাগ ব্যবস্থা নাও।সংবাদ সম্মেলনে মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, আমরা ২৯ তারিখ পর্যন্ত মাটি কামড়ে পড়ে আছি। কিন্তু ৩০ তারিখে এই কামড় অন্যদিকে চলে যাবে। শনিবার এখান থেকে ময়মনসিংহ পর্যন্ত লংমার্চ করব। ১৬ তারিখ বিজয় দিবসে আমরা বিজয় র্যালী করবো। আমরা বিজয় দিবসে দেখিয়ে দেব।আ স ম রব বলেন, সকালে তারা আমাদের ওপর বর্বর হামলা করে। ইট পাটকেল, হকিস্টিক দিয়ে হামলা করে, এটি পরিকল্পিত হামলা। তারা চায় আমরা যেন নির্বাচন করতে না পারি। এ জন্য আমাদের ভয় পাওয়ানো জন্য হামলা করা হয়েছে।
‘তবে আমাদের ওপর যত হামলাই হোক আমরা নির্বাচন থেকে সরে যাব না। আমরা মরব, কিন্তু সরব না। আমরা ৩০ তারিখে ব্যালটের লড়াই করতে চাই। এই স্বৈরাচারকে সরিয়ে দিতে চাই।’রব বলেন, ‘এই জীবনে অনেক হামলার মোকাবেলা করেছি। কামাল হোসেন, রব, মাহমুদুর রহমান মান্না, কাদের সিদ্দিকী ভয় পাওয়ার মতো লোক নয়। আমরা ৭১ সনে নয় মাস যুদ্ধে ছিলাম মাঠে। আমাদেরকে ভয় দেখাইয়া মাঠ থেকে তাড়ানো যাবে না।’হবিগঞ্জ-১ আসনে ধানের শীষ নিয়ে লড়া গণফোরামের নেতা রেজা কিবরিয়া বলেন, ‘ড. কামাল হোসেনের ওপর হামলা করার মতো কোনো মানুষ এদেশে আছে বলে আমার জানা ছিল না। কিন্তু ক্ষমতার জন্য আজকে এ ঘটনা ঘটাল তারা। আমার কথা হলো, তোমরা এমন কী করেছো যে ক্ষমতা হারানোর ভয় পাচ্ছ?’




