নির্বাচনের ৫ দিন আগে সেনা মোতায়েন: ইসি
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পাঁচ দিন আগে সারাদেশে সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হবে বলে নির্বাচন কমিশন থেকে জানানো হয়েছে। সেনাবাহিনী স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে দায়িত্ব পালন করবে।বুধবার দৈনিক ডেইল স্টারে নির্বাচন কমিশনার রফিকুল ইসলাম এই কথা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ভোটগ্রহণের দুদিন পর ১ জানুয়ারি পর্যন্ত সেনাবাহিনী মোতায়েন থাকবে।দেশজুড়ে বিএনপির নেতা-কর্মীদরা ক্ষমতাসীন দলের দ্বারা নির্যাতের মুখে রয়েছে- উল্লেখ করে সারাদেশে অবিলম্বে সেনা মোতায়েনের জন্য দলের পক্ষ থেকে দাবি জানানোর পর বুধবার সন্ধ্যায় নির্বাচন কমিশন থেকে এই সিদ্ধান্ত এলো।বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ আজও সংবাদ সম্নেলনে বলেছেন, সহিংসতা রুখতে সেনাবাহিনী মোতায়েনের কোনো বিকল্প তারা দেখছেন না। তবে বেশ কিছুদিন আগেই নির্বাচনী দায়িত্ব পালনের সময় সেনাবাহিনীর হাতে বিচারিক ক্ষমতা দেওয়ারও দাবি জানিয়েছিলেন তারা।
এদিকে ইসি সূত্রে জানা গেছে, সংসদ নির্বাচনে ভৌগোলিক অবস্থান বিবেচনায় সাধারণ এলাকা, মেট্টোপলিটন এলাকা এবং উপকূলীয়, দুর্গম ও পার্বত্য এলাকার ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তার জন্য পৃথক সংখ্যক আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন থাকবে। দশম জাতীয় নির্বাচনের আদলে এবারও আইন-শৃঙ্খলায় থাকবে তিনস্তরের নিরাপত্তা ছক।সূত্র জানায়, ভোটকেন্দ্র পাহারার ক্ষেত্রে সাধারণ কেন্দ্রে একজন পুলিশসহ ১৪ জন, মেট্টোপলিটন এলাকার কেন্দ্রে তিনজন পুলিশসহ ১৫ জন এবং দুর্গম ও উপকূলীয় এলাকার কেন্দ্রে দুইজন পুলিশসহ ১৪ জন ফোর্স রাখার বিষয়ে প্রাথমিক পরিকল্পনা রেখেছে ইসি। তবে, ভোটকেন্দ্র সুরক্ষিত রাখতে বাইরে থাকবেন সামরিক-আধা সামরিক বাহিনীর সদস্যরা।
এর মধ্যে স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে মাঠে থাকবেন সেনা ও নৌবাহিনীর সদস্যরা। আর র্যাপিড অ্যাকশান ব্যাটালিয়ান (র্যাব), বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি), কোস্টগার্ড ও আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের সদস্যরা ভ্রাম্যমাণ ও স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে টহল দেবেন। কিন্তু কেন্দ্রে প্রবেশে অনুমতি লাগবে রিটার্নিং বা প্রিসাইডিং কর্মকর্তার। এ ছাড়া নির্বাচনের বিধি-ভঙ্গ, প্রতিহিংসামূলক বক্তব্য, চরিত্রহনের অপচেষ্টা প্রতিরোধে মাঠে থাকবেন নির্বাহী ও বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেটরা।তথ্যনুযায়ী, এবার একাদশ জাতীয় নির্বাচনে সবমিলিয়ে প্রায় সাত লাখের কাছাকাছি মোতায়েন হবে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারীর বাহিনী। এসব বাহিনী ৩০০ সংসদীয় আসনের ৪০ হাজার ১৮০টি কেন্দ্র পাহারা এবং ১০ কোটি ৪২ লাখ ৩৮ হাজার ৬৭৩ জন ভোটারের নির্বিঘ্নে ভোটদানে সহায়তা দিতে কাজ করবেন।




