১১ নীতিমালা নির্বাচনী প্রচারণায়, যা না মানলে কঠিন শাস্তি
নিউজ ডেস্ক : নির্বাচনী প্রচারণার ক্ষেত্রে বেশ কয়েকটি নীতিমালা রয়েছে। নির্বাচন কমিশন ২০০৮ সালে ‘সংসদীয় নির্বাচনে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালা, ২০০৮’ প্রণয়ন করে। এইসব নীতিমালা না মানলে কিংবা আইন ভঙ্গ করলে কঠিন শাস্তির বিধান রয়েছে। সম্প্রতি জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে সারাদেশে নির্বাচনী প্রচারণায় মাঠে নেমেছেন প্রার্থীরা। প্রচারণাকালে যাতে কোনও নীতিমালা ভঙ্গ না হয় সেই সুবিধার্থে জুমবাংলার আজকের এই আয়োজন। নির্বাচনী প্রচারণায় নামার আগে ১২টি গুরুত্বপূর্ণ নীতিমালা সম্পর্কে জেনে রাখুন:
চাঁদা দেয়া যাবে না: কোনও প্রার্থী বা তাঁর পক্ষ থেকে অন্য কেউ নির্বাচনের আগে উক্ত প্রার্থীর নির্বাচনী এলাকায় বসবাসকারী কোনও ব্যক্তি, গোষ্ঠী কিংবা উক্ত এলাকা বা অন্যত্র অবস্থিত কোনও প্রতিষ্ঠানে প্রকাশ্যে বা গোপনে কোনও চাঁদা বা অনুদান দেয়া বা দেয়ার অঙ্গীকার করতে পারবেন না৷ ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন চলবে না: নির্বাচনপূর্ব সময়ে কোনো সরকারি, আধা-সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে রাজস্ব বা উন্নয়ন তহবিলভুক্ত কোনও প্রকল্পের অনুমোদন, ঘোষণা বা ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন বা ফলক উন্মোচন করা যাবে না৷
পোস্টারের আকার: সাদা-কালো রংয়ের ও আয়তন অনধিক ৬০X৪৫ সেন্টিমিটার এবং ব্যানার সাদা-কালো রংয়ের ও আয়তন অনধিক ৩X১ মিটার হতে হবে এবং পোস্টারে বা ব্যানারে প্রার্থী তাঁর প্রতীক ও নিজের ছবি ব্যতীত অন্য কোনও ব্যক্তির ছবি বা প্রতীক ছাপাতে পারবেন না৷ তবে প্রার্থী কোনো নিবন্ধিত দলের মনোনীত হলে সেক্ষেত্রে তিনি কেবল তাঁর বর্তমান দলীয় প্রধানের ছবি পোস্টারে ছাপাতে পারবেন ন৷
যেখানে পোস্টার লাগানো যাবে না: কোনও প্রার্থী কিংবা তাঁর পক্ষে অন্য কোনো ব্যক্তি সিটি কর্পোরেশন ও পৌর এলাকায় অবস্থিত দালান, দেয়াল, গাছ, বেড়া, বিদ্যুৎ ও টেলিফোনের খুঁটি, সরকারি বা স্থানীয় কর্তৃপক্ষের স্থাপনাসমূহ এবং বাস, ট্রাক, ট্রেন, স্টিমার, লঞ্চ, রিক্সা কিংবা অন্য কোনও প্রকার যানবাহনে পোস্টার, লিফলেট বা হ্যান্ডবিল লাগাতে পারবেন না। তবে দেশের যেকোনও স্থানে এসব ঝুলানো বা টাঙানো যাবে।
অন্যের পোস্টারে নয়: কোনও প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর পোস্টার, লিফলেট, হ্যান্ডবিল ইত্যাদির উপর অন্য কোনও প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর পোস্টার, লিফলেট, হ্যান্ডবিল ইত্যাদি লাগানো যাবে না এবং উক্ত পোস্টার, লিফলেট ও হ্যান্ডবিলের কোনও প্রকার ক্ষতিসাধন তথা বিকৃতি বা বিনষ্ট করা যাবে না।
হেলিকপ্টার নয়: কোনও দল বা তার মনোনীত প্রার্থী বা স্বতন্ত্র প্রার্থী কিংবা তার পক্ষে অন্য কোনো ব্যক্তি ট্রাক, বাস, মোটর সাইকেল, নৌযান, ট্রেন কিংবা অন্য কোনও যান্ত্রিক যানবাহন নিয়ে মিছিল বের করতে পারবেন না কিংবা কোনও শোডাউন করতে পারবেন না। প্রচারণাকাজে হেলিকপ্টার বা অন্য কোনও আকাশযান ব্যবহার করা যাবে না। তবে দলীয় প্রধানরা যাতায়াতের জন্য তা ব্যবহার করতে পারবে ন৷
ভয় দেখানো চলবে না: কোনও দল বা তার মনোনীত প্রার্থী বা স্বতন্ত্র প্রার্থী কিংবা তাদের পক্ষে অন্য কোনো ব্যক্তি প্রচারণার ক্ষেত্রে সমান অধিকার পাবে। তবে প্রতিপক্ষের সভা, শোভাযাত্রা এবং অন্যান্য প্রচারাভিযান পন্ড বা তাতে বাধা প্রদান বা ভীতিসঞ্চারমূলক কিছু করতে পারবে না৷
দেয়াললিখন নয়: দেয়ালে লিখে প্রচারণা চালানো যাবে না। কালি বা রং দিয়ে বা অন্য কোনোভাবে দেয়াল ছাড়াও কোনো দালান, থাম, বাড়ি বা ঘরের ছাদ, সেতু, সড়কদ্বীপ, রোড ডিভাইডার, যানবাহন বা অন্য কোনো স্থাপনায় প্রচারণামূলক কোনও লিখন বা অংকন করা যাবে না। প্রতীক হিসাবে জীবন্ত প্রাণী ব্যবহার করা যাবে না। উপরের ছবিটি প্রতীকী অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।
খাবার দেয়া যাবে না: নির্বাচনী ক্যাম্পে ভোটারদের কোনোরকম কোমল পানীয় বা খাদ্য পরিবেশন বা কোনও উপঢৌকন দেয়া যাবে না।
মসজিদ, মন্দিরে নয়: মসজিদ, মন্দির, গির্জা বা অন্য কোনো ধর্মীয় উপাসনালয়ে কোনো নির্বাচনি প্রচারণা চালানো যাবে না। প্রচারণার সময় ব্যক্তিগত চরিত্র হনন করে বক্তব্য দেয়া বা কোনও ধরনের তিক্ত বা উসকানিমূলক বা মানহানিকর কিংবা লিঙ্গবৈষম্যমূলক, সাম্প্রদায়িক বা ধর্মানুভূতিতে আঘাত লাগে এমন বক্তব্য দেয়া যাবে না।
মাইক ব্যবহারের নিয়ম: নির্বাচনী এলাকায় মাইক বা শব্দের মাত্রা বর্ধনকারী কোনো যন্ত্রের ব্যবহার দুপুর দুইটা থেকে রাত আটটার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে হবে।
নিয়ম না মানলে: কোনেও প্রার্থী বা তাঁর পক্ষে অন্য কোনও ব্যক্তি কোনও নিয়ম ভঙ্গ করলে সর্বোচ্চ ছয় মাসের কারাদণ্ড অথবা সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন। দলের ক্ষেত্রেও এই শাস্তি প্রযোজ্য হবে।




