236898

‘পাকিস্তান দূতাবাসে গোপন বৈঠক করেছেন ফখরুল’

নিউজ ডেস্ক।। পাকিস্তানি গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই’র সঙ্গে লন্ডনে তারেক রহমান এবং ঢাকায় পাকিস্তান দূতাবাসে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর গোপন বৈঠক করেছেন বলে অভিযোগ করেছে আওয়ামী লীগ। রোববার দুপুরে আওয়ামী লীগ সভাপতির ধানমণ্ডির রাজনৈতিক কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে দলটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবদুর রহমান এ অভিযোগ করে বলেন, এ ধরনের ঘটনা নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্রের আভাস। তিনি বলেন, একটি রাষ্ট্রের সঙ্গে আরেকটি রাষ্ট্রের কূটনৈতিক সম্পর্কের কারণে দূতাবাসের সঙ্গে যাতায়াত থাকতে পারে। তবে বিজয়ের এই মাসে আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে পাকিস্তান দূতাবাস কর্মকর্তাদের সঙ্গে মির্জা ফখরুলের বৈঠক জনমনে প্রশ্নের সঞ্চার করেছে। একদিকে লন্ডনে তারেক রহমানের সঙ্গে পাকিস্তানি গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই’র সঙ্গে গোপন বৈঠক, অন্যদিকে পাকিস্তানি দূতাবাসে মির্জা ফখরুলের গোপন বৈঠক ষড়যন্ত্রের আভাস দেয়। দুই বৈঠক একই সূত্রে গাঁথা। সেই জায়গা থেকে আমরা মনে করি, এ ধরনের বৈঠক নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্র।

দলীয় মনোনয়ন নিয়ে বিএনপি কার্যালয়ে হামলা ও ভাংচুর প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের এই নেতা বলেন, শনিবার ও রোববার বিএনপির মনোনয়ন বাণিজ্য নিয়ে নেতাকর্মীরা বিএনপির গুলশান ও পল্টন কার্যালয়ে ভাংচুর চালিয়েছে। এ ধরনের ঘটনা আসন্ন নির্বাচনের পরিবেশকেই বিঘিœত করে না, গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির সুষ্ঠু ধারাকেও ব্যাহত করে। বিএনপিকে কর্পোরেট সংস্থা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এরই মধ্যে গণমাধ্যমে আমরা জানতে পেরেছি, বিএনপি নির্বাচনের মনোনয়ন নিয়ে কী ধরণের বাণিজ্য করেছে। এ থেকে বোঝা যায়, বিএনপি কোনো রাজনৈতিক দল নয়, একটি কর্পোরেট সংস্থা। আবদুর রহমান আরও বলেন, মনোনয়ন বাণিজ্যের জেরে বিএনপির তৃণমূল নেতাকর্মীদের বিক্ষোভ ও ভাংচুরের ঘটনা দলটির নেতৃত্বের ওপর আস্থাহীনতারই বহিঃপ্রকাশ। তিনি বলেন, মনোনয়ন বাণিজ্যের নেতৃত্বে আছেন মির্জা ফখরুল ও রুহুল কবির রিজভী। যার নেপথ্যের নায়ক সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি তারেক রহমান। একটি নীতিভ্রষ্ট, দুর্নীতিগ্রস্ত রাজনৈতিক দলের কাছে দেশের জনগণ এর বেশি কিছু প্রত্যাশা করতে পারে না।

আওয়ামী লীগের এই নেতা বলেন, আমরা বারবার বলে এসেছি, বিএনপির সঙ্গে জামায়াতের জোট কোনো রাজনৈতিক জোট নয়, বরং এটা আদর্শিক। বিএনপির প্রধান শরিক ঐক্যফ্রন্ট নয়, জামায়াত। শনিবার মনোনয়ন ভাগাভাগির মধ্য দিয়েই আবারও সেটা প্রমাণিত। শরিক হিসেবে জামায়াত আসন পেয়েছে ২৩টি এবং ঐক্যফ্রন্ট পেয়েছে ১৭টি। যার মধ্য দিয়ে প্রমাণিত হয় জামায়াতের সঙ্গে বিএনপির সম্পর্ক অবিচ্ছেদ্য। আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থীদের বিষয়ে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলের বিশেষ দায়িত্ব পাওয়া নেতা আবদুর রহমান বলেন, যে কয়জন বিদ্রোহী প্রার্থী ছিলেন, আমাদের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী দুই থেকে তিনজন বাকি আছে মনোনয়ন প্রত্যাহারে। আশা করছি, বাকিগুলো আজ (রোববার) প্রত্যাহার হয়ে যাবে। আমাদের দলীয় সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার খোলা চিঠির আহ্বানে সবাই সাড়া দিয়েছেন। কোনো বিদ্রোহী প্রার্থী থাকবে না।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন দলটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক, সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, তথ্য ও গবেষণাবিষয়ক সম্পাদক আফজাল হোসেন, ত্রাণ ও সমাজকল্যাণবিষয়ক সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী প্রমুখ। উৎস: যুগান্তর।

ad

পাঠকের মতামত