236488

‘মুজিব কোট পরা, জয় বাংলা বলা আমার ব্যক্তিগত ব্যাপার’

জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের অন্যতম শীর্ষ নেতা, সাবেক ডাকসু ভিপি ও সংসদ সদস্য সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহমদ বলেছেন- ‘আমি কি পোশাক পরব, না পরব সেটা আমার ব্যক্তিগত ব্যাপার। মুজিব কোট কেউ বলেও আমাকে পরাতে পারবে না, বলে বন্ধও করতে পারবে না। আমি কখন পরব, কখন না পরব সেটা আমার ব্যাপার। কি পরব, না পরব সেটাও আমার ব্যাপার। আর জয় বাংলা, মুজিব কোটের সাথে কোন রাজনীতি নয়। এটা কারো ব্যক্তিগত সম্পত্তিও না।শনিবার বিকালে কুলাউড়া শহরে একটি বাসায় সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি এ মন্তব্য করেন।সুলতান মনসুর বলেন -‘৭১ সালে কারো সাথে দেখা কিংবা হাত মিলাতে গেলে আমরা ‘জয় বাংলা’ বলেছি। জয় বাংলা কোন দলের স্লোগান নয়। যদিও স্বাধীনতার পূর্বে ছাত্রলীগ প্রথম এ দেশের মানুষকে জয় বাংলা স্লোগানের সাথে পরিচয় করিয়ে দিয়েছে। জয় বাংলা, বঙ্গবন্ধু ও স্বাধীনতা, এটা কোন দলীয় বিষয় হতে পারে না।

ছাত্রলীগের সাবেক এ সভাপতি বলেন-‘আমি কোন রাজনৈতিক দলে যোগদান করিনি। আমি জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার শীর্ষ কর্মকর্তা। এদিকে মুজিব কোট পরা, না পরা আমার নিজের পছন্দের ব্যাপার। স্বাধীনতা ঘোষণা দিয়ে বঙ্গবন্ধু দেশে এসেছেন ২৬ শে মার্চ। স্বাধীন দেশে পা রাখেন ১০ জানুয়ারি। স্বাধীন দেশে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন ১২ জানুয়ারি। ১১ জানুয়ারি পর্যন্ত সংবিধানগতভাবে কারোই কোনো বিতর্ক নেই। ১২ জানুয়ারি থেকে ১৯৭৫ এর ১৫ আগস্ট পর্যন্ত দেশের শাসন ব্যবস্থার প্রধানমন্ত্রী ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। শাসন ব্যবস্থায় থাকাকালীন অবস্থায় সমালোচনা থাকতেই পারে যে কোন ব্যক্তির।

তিনি বলেন- ‘ভারতের মহাত্মা গান্ধী (জাতির পিতা, ভারতীয় রাজনীতিবিদ, ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের অগ্রগামী ব্যক্তিদের একজন), চায়নার মাও সেতুং (জাতির পিতা, চীনা বিপ্লবী মার্কসবাদী তাত্ত্বিক ও রাজনৈতিক নেতা) তেমনি বাংলাদেশের বেলায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান দেশের স্থপতি সেটাও অস্বীকার করার সুযোগ নেই। আর বেগম খালেদা জিয়া বঙ্গবন্ধুর মাজার জিয়ারতের মধ্যে দিয়ে এসবের ফয়সালা হয়ে গেছে।’সুলতান মনসুর ১২ বছরের আক্ষেপ তুলে ধরে বলেন- ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, মাও. আব্দুল হামিদ খান ভাসানী, শেরে বাংলা একে ফজলুল হক, বঙ্গতাজ তাজউদ্দীন, জেনারেল আতাউল ওসমানী, জেনারেল জিয়াউর রহমানসহ যারা মুক্তিযুদ্ধে, মুক্তি সংগ্রামে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন, ভূমিকা রেখেছিলেন তাদের অবশ্যই এ দেশের ইতিহাসে স্ব স্ব স্থানে যার যার পাওনা দেয়া উচিত।’

ডাকসুর সাবেক ভিপি বলেন- দীর্ঘ ১২ বছর একটি গোষ্ঠী, একটি মহল ষড়যন্ত্র করে আমাকে রাজনীতি থেকে দূরে রাখার অপচেষ্টা চালানো হয়েছে। কিন্তু আমি দমে যাইনি। ১২ বছর পরে হলেও আপনাদের কাছে এসেছি।’মুক্তিযোদ্ধা বিরোধী শক্তির (জামায়াত) সাথে ঐক্য করা হয়েছে এমন প্রশ্নের উত্তরে সুলতান মনসুর বলেন- ‘বাংলাদেশের কোনো ভোটার স্বাধীনতা বিরোধী নয়, মুক্তিযোদ্ধা চেতনা বিরোধী হতে পারে, স্বাধীনতা বিরোধী নয়।’সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন সাবেক তিনবারের সাংসদ, জাতীয় পার্টি (কাজী জাফর) দলের অন্যতম নেতা এড. নওয়াব আলী আব্বাছ খান, মৌলভীবাজার জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী এড. এ এনএম আবেদ রাজা।

ad

পাঠকের মতামত