234810

পিলার আছে সেতু নেই!

রূপগঞ্জের বালু নদীতে সেতু নির্মাণ হলে ঢাকার সঙ্গে রূপগঞ্জের সেতুবন্ধন তৈরি হতো। পাশাপাশি কাচঁপুর ও সুলতানা কামাল সেতুতে কমে যেতো যানজট। খুলে যেতো হাজারো মানুষের ভাগ্যের চাকা। সৃষ্টি হতো কর্মসংস্থানের সেতুটির অভাবে কয়েক লাখ মানুষের যাতায়াতের সুবিধা অধরাই থেকে গেছে।নারায়নগঞ্জ সড়ক ও জনপথ বিভাগের সূত্র জানায়, প্রস্তাবিত রামপুরা-রূপগঞ্জ সড়কের বালু নদীতে তৃতীয় সেতুর প্রকল্প অনুমোদন হয় ২০০১সালে। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের অধীনে ৬ কোটি ১০ লাখ টাকা ব্যয়ে এ সেতুর নির্মাণ কাজ শুরু হয় ২০০৩ সালে। সড়ক ও জনপথ বিভাগের তত্বাবধানে ১ বছরের মধ্যে সেতুর নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করার দায়িত্ব পান ঠিকাদার জাহিদ ভুইয়া।

২০০৪-২০০৫ অর্থবছরে বরাদ্দ মেলে মাত্র ৫০ লাখ টাকা। এর পর আর কোনো বরাদ্দ দেওয়া হয়নি। ফলে ২টি স্প্যান নির্মাণের পর সেতুর কাজ থমকে যায়। সড়ক ও জনপথ বিভাগ সূত্রে জানা যায়, নির্মাণ ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় সেতুর অসমাপ্ত কাজ সম্পন্ন করতে এখন অতিরিক্ত অর্থের প্রয়োজন।সূত্র জানায়, সেতুর জন্য নতুন করে সাড়ে ৭ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। তবে কবে নাগাদ নির্মাণ কাজ শুরু হবে তা অনিশ্চত। সেতুটির দৈর্ঘ্য ৭৫ দশমিক ৫ মিটার ও প্রস্থ ১০ মিটার। স্প্যান রয়েছে ৪টি । ২টি স্প্যান ঠায় দাড়িয়ে আছে। বাকি ১টির শুধু রড খাড়া আছে। আরেকটি স্প্যান নির্মাণ হয়নি। সেতুর নির্মাণ প্রকল্প অনুমোদন হওয়ার আগেই দরপত্র আহ্বান করা হয়েছিল।

স্থানীয়রা জানান, সেতু নির্মাণে প্রয়োজনীয় জমি হুকুম দখল করা হয়নি। জমি মালিকদের পরপর দুটি নোটিশ দেয়াও হয়েছে। প্রস্তাবিত সেতুর দুপাশের জমির মালিকরা ক্ষতিপূরণ না পাওয়ায় সেতু নির্মাণে বিরোধিতা করছে। এ নিয়ে হাইকোর্টে মামলাও চলছে বলে জানা যায়।স্থানীয়রা জানান, সেতুটি নির্মিত হলে রূপগঞ্জসহ ঢাকার পূর্বাঞ্চলের খিলগাও, সবুজবাগ, ডেমরা ও এর আশপাশের কয়েক হাজার মানুষের ভাগ্যের চাকা খুলে যাবে। তৈরি হবে নতুন নতুন শিল্প-কারখানা ও গার্মেন্টস শিল্প। সৃষ্টি হবে কর্মসংস্থান। সেতুটি নির্মিত হলে কাঁচপুর ও সুলতানা কামাল সেতুর যানজট কমে যাবে। সিলেট, ভৈরব, কিশোরগঞ্জ, নরসিংদীসহ ১০ জেলার যানবাহন সহজে ভুলতা হয়ে কায়েতপাড়া দিয়ে রাজধানীর রামপুরায় প্রবেশ করতে পারবে।

নগরপাড়া এলাকার সমাজকর্মী রাসেল আহমেদ বলেন, এ সেতু নির্মাণ হলে ঢাকার সঙ্গে কয়েকটি জেলার যোগাযোগ ব্যবস্থা ভালো হবে। কলকারখানা গড়ে ওঠবে। ইছাখালী এলাকার সমাজসেবক শফিকুর রহমান বাদল বলেন, রামপুরা-কায়েতপাড়া সড়ক এলাকাবাসীর স্বপ্নের রাস্তা। এ সেতু দ্রুত নির্মাণ না হলে এলাকাবাসী আন্দোলন-সংগ্রাম করবে। ইতিমধ্যে প্রস্তাবিত রামপুরা-কায়েতপাড়া সড়কের শীতলক্ষ্যা নদের উপড় সেতুর নির্মাণ কাজ উদ্ভোধনের অপেক্ষায়।ঠিকাদার জাহিদ ভূইয়ার সঙ্গে যোগাযোগ করতে বহুবার চেষ্টা করেও পাওয়া যায়নি। নারায়নগঞ্জ-১ ( রূপগঞ্জ ) আসনের সংসদ সদস্য গোলাম দস্তগীর গাজী ( বীরপ্রতিক ) বলেন, শীতলক্ষ্যা নদীর উপর সেতুর নির্মাণ কাজ শেষের পথে। অচিরেই বালু নদীর সেতু নির্মাণে উদ্যোগ নেয়া হবে।

রাস্তা যে একেবারে নেই তা নয়। রামপুরা থেকে নগরপাড়া গ্রামের দুরত্ব মাত্র ৭ কিলোমিটার। বালু নদীর পূর্ব পাশে নগরপাড়া বাজার র্পযন্ত পিচঢালা রাস্তা রয়েছে। রামপুরা হতে আফতাব নগর দিয়ে বাঘাপুর পর্যন্ত পীচ ঢালা রাস্তা ইতিমধ্যে তৈরি আছে। বাঘাপুর হতে একটি বালুর তৈরি রাস্তা প্রায় বালু নদীর কাছে এসে ঠেকেছে। বালু নদীতে একটি অসমাপ্ত ব্রিজের কাজও ১৫ বছর ধরে আটকে আছে। মাঝখানে প্রায় ৩ কিলোমিটার রাস্তা ও বালু নদীতে একটি ব্রিজ হলেই এ এলাকার চিত্র পাল্টে যাবে।মানুষের দুর্ভোগ অনেকটা কমে যেত। বিএনপি থেকে মনোনিত এ্যাড. তৈমুর আলম খন্দকার বলেন, শুনেছি এ রাস্তা নিয়ে অনেক আন্দোলন, মিটিং, মিছিল, সভা-সমাবেশ হয়েছে। জনগণ পাশে পাশে থাকলে আমরা ক্ষমতায় আসলে প্রথমেই বালুনদীর এ ব্রিজ ও রামপুরা-ভুলতা রাস্তার কাজ করব। খামার পাড়া এলাকার কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ার মুরাদ হাসান বলেন, বাড়ি থেকে এসে প্রায়ই অফিস মিস হয়ে যায়। তাই অতিরিক্ত খরচে ঢাকায় বাসা নিয়ে থাকতে হচ্ছে। ব্যাচেলর হিসেবে বাসা পেতেও অনেক কষ্ট। যোগাযোগের অব্যবস্থাপনার কারণে নিন্ম ও মধ্যবিত্ত পরিবারের অভিভাবকরা ছেলে মেয়েদের লেখাপড়া থেকে বিরত রাখেন। আর এভাবেই ঝরে পড়ে এক একটি মেধাবী শিক্ষার্থীর শিক্ষা জীবন।

বলা হয়ে থাকে যোগাযোগ ব্যবস্থাই আধুনিক যুগে উন্নয়নের চাবিকাঠি। রাজধানী ঢাকার পূর্বাঞ্চলসহ রূপগঞ্জের শীতলক্ষ্যা নদীর পূর্বাঞ্চলের মানুষের প্রাণের দাবি রামপুরা-নগরপাড়া-ভুলতা সড়ক। স্বাধীনতার ৪৭ বছর পরও এই সড়কের বাস্তবায়ন আজও সম্ভব হয়নি কেন, তা আজও স্থানীয় জনগণের কাছে রহস্যই রয়ে গেল। উচ্চ শিক্ষার কোনো ব্যবস্তা না থাকায় ছাত্রছাত্রীদের পড়ালেখার জন্যে প্রতিনিয়ত ঢাকা শহরে দৌড়াতে হয়।তাই এলাকাবাসীর দাবি, অন্যকিছু চাই না, সব সমস্যার একমাত্র সমাধান রামপুরা-নগরপাড়া-ভুলতা রাস্তা।এ ব্যাপারে স্থানীয় সাংসদ গোলাম দস্তগীর গাজী (বীরপ্রতিক) বলেন, এখনতো নির্বাচন এসে গেছে। সামনে জনগণের ভোটে ক্ষমতায় আসতে পারলে আগামীতে অবশ্যই রামপুরা-ভুলতা সড়ক ও বালুনদীর ব্রিজ করে দিব। তখন এলাকাবাসির দুঃখ-র্দুদশা অনেক কমে যাবে।

ad

পাঠকের মতামত