সাবিরার সঙ্গে ভোটের পথে আটকে গেলেন অন্য দণ্ডিতরাও
ঝিকরগাছা উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান ও যশোর-২ আসন থেকে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী সাবিরা সুলতানার কারাদণ্ড ও সাজা স্থগিত করে হাইকোর্টের দেওয়া আদেশ আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চও স্থগিত করেছেন।আজ রোববার প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বে ৭ বিচারপতির বেঞ্চ আজ এই স্থগিত আদেশ দিয়েছে। ফলে সাবিরা সুলতানাসহ দণ্ডপ্রাপ্ত অন্যান্যদেরও নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ থাকলো না বলে জানিয়েছেন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আইনজীবী খুরশিদ আলম খান।এর আগে বৃহস্পতিবারের যে একক বেঞ্চ সাবিরা ইসলামের দণ্ড স্থগিত করেছিলো, ওই আদেশ শুক্রবারই স্থগিত চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষ ও দুদক দুপক্ষই আবেদন জানায়। গতকাল শনিবার ছুটির দিনে বিশেষভাবে চেম্বার জজ আদালত বসিয়ে ওই আবেদনে শুনানি গ্রহণ করে হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত করেন।
শনিবার ছুটির দিনে আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতির আদালতে সেই আবেদনের ওপর শুনানি হয়। এরপর শুনানি নিয়ে হাইকোর্টের আদেশ একদিনের জন্য স্থগিত করে রাষ্ট্রপক্ষ ও দুদকের আবেদন আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে শুনানির জন্য পাঠিয়েছিলেন।শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। সাবেরা সুলতানার পক্ষে ছিলেন এ জে মোহম্মদ আলী ও জয়নুল আবেদীন।এর আগে মিথ্যা তথ্য ও জ্ঞাত আয়-বহির্ভূত অবৈধভাবে সম্পদ অর্জনের অভিযোগে দুদকের মামলায় সাবিরা সুলতানাকে গত ১২ জুলাই ঢাকার বিশেষ আদালতের বিচারক ছয় বছরের কারাদণ্ড দেন। একইসঙ্গে দুটি ধারায় পাঁচ হাজার টাকা অর্থদণ্ড ও অনাদায়ে আরও তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেন। রায়ে সাবিরা সুলতানার এক কোটি ৭৮ হাজার ১৩৫ টাকা রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করারও আদেশ দেওয়া হয়।
এরপর গত ১৭ জুলাই ঢাকার বিশেষ জজ-৭ এর বিচারক মো. শহিদুল ইসলামের আদালতে আত্মসমর্পণ করে আপিলের শর্তে জামিনের আবেদন করেন তিনি। আদালত শুনানি শেষে জামিনের আবেদন নাকচ করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। পরে ওই রায়ের দণ্ড ও সাজা থেকে খালাস চেয়ে আপিল করলে তা গত ৩০ জুলাই হাইকোর্ট তা শুনানির জন্য গ্রহণ করেছেন।এরপর এ মামলায় তিনি গত ৬ আগস্ট হাইকোর্ট থেকে জামিন পান। পরে গত ১৪ অক্টোবর ফৌজদারি কার্যবিধির ৪২৬ ধারায় দণ্ড ও সাজা স্থগিত চেয়ে হাইকোর্টে একটি আবেদন করেন তিনি। ওই আবেদনের শুনানি নিয়ে শনিবার তার আবেদন মঞ্জুর করা হয়। গত ২০১০ সালের ২০ জুলাই সৈয়দ আহমেদ (দুদকের সহকারী পরিচালক) বাদী হয়ে ধানমন্ডি থানায় মামলাটি দায়ের করেন।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, ২০০৯ সালের ২৪ মে সাবিরা সুলতানা তার ৫৫ লাখ ৭৮ হাজার ১৩৫ টাকা সম্পদের হিসাব জমা দেন দুদকে। পরবর্তী সময়ে দুদকের অনুসন্ধানে দেখা যায় ৪৫ লাখ টাকার সম্পদের বিষয়ে ভিত্তিহীন ও মিথ্যা তথ্য দেওয়াসহ এক কোটি ৭৮ হাজার ১৩৫ টাকার সম্পত্তি অসাধু উপায়ে অর্জন করেছেন সাবিরা সুলতানা। যা তার বৈধ আয়ের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ।




