234298

কঠোর আন্দোলনের কর্মসূচি দেবে ঐক্যফ্রন্ট

গায়েবি মামলায় জোটের নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার বন্ধ করা না হলে নির্বাচনী পরিবেশকে সুষ্ঠু করার জন্য বৃহত্তর কর্মসূচি ঘোষণা করবে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। শনিবার বিকেলে জাতীয় প্রেসক্লাবে ঐক্যফ্রন্ট আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ক্ষমতাসীনদের প্রতি এ হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।তফসিল ঘোষণার পর বিএনপির নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তারের বিষয়ে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের মুখপাত্র মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, গ্রেপ্তারকৃতদের অবিলম্বে মুক্তি দিয়ে মামলা প্রত্যাহার করা হোক। তা না হলে নির্বাচন জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্য হবে না। আমরা আশা করবো, ড. কামাল হোসেনের সংবাদ সম্মেলনের পর থেকে গ্রেপ্তার বন্ধ করা হবে। অন্যথায় নির্বাচনী পরিবেশকে সুষ্ঠু করার জন্য বৃহত্তর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট।

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, গণতন্ত্র, মানুষের অধিকার ফিরে ও বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত জন্য আমরা এ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছি। কিন্তু নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার পরও গায়েবি মামলায় নেতাকর্মীদেরকে আটক করা হচ্ছে। এটা চলতে থাকলে নির্বাচনের লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড কোন মতেই হবে না।ঐক্যফ্রন্ট ক্ষমতায় আসলে বর্তমান ধারাবাহিক রাজনীতির রক্ষা করবেন, না কি নতুন ধারার রাজনীতি শুরু করা হবে- এ প্রশ্নের জবাবে সংবাদ সম্মেলনে ফ্রন্টের আহ্বায়ক কামাল হোসেন বলেন, আমাদের সংবিধানে আমরা যে নীতিগুলো লেখেছি, অধিকার সংরক্ষিত, গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র, গণতন্ত্র, শাসন ব্যবস্থা হবে গণতান্ত্রিক। সুতরাং আমাদের সংবিধানের মূল যে কাঠামো, তারই মধ্যেই আমরা রাজনীতি করতে চাই।

ঐক্যফ্রন্ট ক্ষমতায় আসলে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ফিরিয়ে আনা হবে কি না- এই প্রশ্নের পরিপ্রেক্ষিতে তিনি বলেন, আমরা যারা আছি, আমরা বিশ্বাস করি যে- জনগণ হলো ক্ষমতার মালিক। আর রাষ্ট্র হবে জনগণের মতামত নিয়ে এবং জনগণের ওপরে শ্রদ্ধা রেখে। তাই আমরা আশা করি, আমরা ক্ষমতায় গেলে- সংবিধানে যেসব প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, সেগুলো ১০০ ভাগই পালন করতে হবে।ফ্রন্ট ক্ষমতায় আসলে সংবিধান সংশোধন করা হবে কি না- এবিষয় দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে ড. কামাল বলেন, আপনারা যদি মনে করেন, কিছু বিষয় সম্পৃক্ত করে সংবিধান সংশোধন করতে হবে তাহলে সেটা অবশ্যই করা যাবে। আর এই আলোচনা আপনারা শুরু করে দিতে পারেন যে, সংশোধনের কি কি আছে?

দুই-একদিনের মধ্যে ঐক্যফ্রন্টের ইশতেহার ঘোষণা করা হবে বলেও জানান কামাল হোসেন।নির্বাচন না করা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এখানে কোন রহস্যের ব্যাপার না। আমার বয়স হলো ৮০। আমার সাথে সংসদে যারা ছিল, তাদের মধ্যে এখন মাত্র একজন বেঁচে আছেন। কিন্তু অনেকেই বয়স হলেও সরে যেতে চান না। তবে আমি ওই অর্থে সরে যাচ্ছি না। কারণ দায়িত্ব সবার নেওয়া সময় এসেছে। আর আমার না করার সিদ্ধান্ত আজকের নয়। ২০০৮ সালেও আমি নির্বাচন করি নাইগণফোরামের সভাপতি কামাল হোসেন বলেন, এখন এতগুলো যোগ্য ব্যক্তি রাজনীতি করে বের হয়ে সামনে এসেছেন। অনেকেই বলেন- তাদের নেতৃত্বের ঘাটতি আছে, আমি মনে করি যে- এটা ভুল ধারনা।

জনগণ তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে না পারেন তাহলে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বই হুমকির মুখে পড়বে- তার এই বক্তব্যের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে কামাল হোসেন বলেন, জনগণ এটা হতে দেবে না। কিন্তু হুমকির মুখে তো পড়তে পারে।ড. কামাল বলেন, আমরা বিভিন্ন জায়গায় কথা বলেছি। চট্রগ্রাম, সিলেট এবং রাজশাহীতে গিয়েছি। সকলে বলেছেন যে, দেশের মানুষ পরিবর্তন চায়। দেশের মানুষ অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন চায়। আর এটা দোয়া ও মায়ার ব্যাপার না। এটা সংবিধানের প্রতিশ্রুতি।তিনি বলেন, নির্বাচন যাতে সুষ্ঠু হয়, সেজন্য ভোট কেন্দ্রগুলো মালিক হিসেবে জনসাধারণকে পাহারা দিতে হবে। যেই বাধা দেবে, সরকার হোক বা যে কেউ হোক না কেনো- সেখান থেকে নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে আমাদেরকে রক্ষা করতে হবে।

এসময় তিনি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য আজ থেকে ৩০ ডিসেম্বর পর্যন্ত গণমাধ্যমের সহযোগিতা কামনা করেন।পরে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেরর তফসিল ঘোষণার পর বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা ও গ্রেপ্তারের তালিকা তুলে ধরেন কামাল হোসেন। তিনি বলেন, যদি গ্রেপ্তার করা হয় তাহলে নির্বাচনী পরিবেশকে সুষ্ঠু বলা যায় না। তফসিল ঘোষণা পর থেকে এ পর্যন্ত বিএনপির ৬৮১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর মধ্যে ৩ জন প্রার্থীও রয়েছে। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী ও নির্বাচন কমিশনার বলেছিলেন যে, কাউকে গ্রেপ্তার করা হবে না! আমারর কথা, সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশের জন্য গ্রেপ্তার বন্ধ করা হোক।এরআগে ড. কামালের পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমাস মান্না। তিনি বলেন, যাচাই বাছাইয়ের পর দেশের সব আসনেই জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের একক প্রার্থী নির্ধারিত হবে।

সংবাদ সম্মেলনে কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী, গণস্বাস্থ্য বোর্ডের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, ঐক্যফ্রন্ট নেতা মাহমুদুর রহমান মান্না, মোস্তফা মহসিন মন্টু, সুব্রত চৌধুরী, আবদুল মালেক রতনসহ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

ad

পাঠকের মতামত