নৌকার রশি নিয়ে টানাটানি!
নড়াইল-১ আসনে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নৌকা প্রতিকের মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে আওয়ামী লীগের বর্তমান সংসদ সদস্য কবিরুল হক মুক্তিকে একদিন পরই জাসদ সভাপতি (একাংশ) শরীফ নুরুল আম্বিয়াকে নৌকা প্রতিকে মনোনয়নের চিঠি দেওয়া হয়।মুক্তি চিঠি পেলে তার সমর্থকরা আনন্দ মিছিলসহ মিষ্টি বিতরণ করেন অপরদিকে আম্বিয়া চিঠি পেলে মুক্তি বিরোধীরা আনন্দ মিছিলসহ মিষ্টি বিতরণ করেন। মুক্তি আর আম্বিয়ার মধ্যে চলছে নৌকার রশি নিয়ে টানাটানি! এতে কে জয়ী হতে তা দেখার জন্য অপেক্ষা করতে হবে ৯ ডিসেম্বর মনোনয়ন প্রত্যহার পর্যন্তু।
জানাগেছে, নড়াইল সদরের ৫টি ইউনিয়ন ও কালিয়া উপজেলা নিয়ে নড়াইল-১ আসন গঠিত। এ আসনে নৌকা প্রতিকের প্রার্থী কে থাকছেন ? এ প্রশ্ন জেলা-উপজেলার অফিস পাড়া থেকে চায়ের দোকান সবখানেই চলছে, আর রাজনৈতিক মহলে তো আলোচনা-সমালোচনার শেষ নেই। এ আসনে নৌকার মনোনয়ন পেয়েছেন দু’জন। তারা হলেন আওয়ামী লীগ নেতা ও সংসদ সদস্য কবিরুল হক মুক্তি এবং জাসদ নেতা শরীফ নুরুল আম্বিয়া। এ দু’জনের একজনের মনোনয়ন প্রত্যাহার করা হবে। অপরজন নৌকার প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে লড়বেন।কবিরুল হক মুক্তি দলীয় সভানেত্রী স্বাক্ষরিত মনোনয়ন পত্র হাতে পান ২৬ নভেম্বর ওই রাতেই তিনি এলাকায় ফিরলে কয়েক হাজার দলীয় নেতা-কর্মীরা ফুলেল শুভেচ্ছা জানান। পরদিন ২৭ নভেম্বর সকাল থেকে দলীয় নেতা-কর্মীরা তার বাড়িতে ভীড় করতে থাকেন। শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানাতে লম্বা লাইন পড়ে যায়। নড়াইল-১ আসনের নির্বাচনী এলাকার প্রত্যন্ত এলাকা হতে দলীয় নেতা-কর্মীরা ছুটে যান তাকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানাতে।
আনন্দঘন পরিবেশে শুভেচ্ছা ও কুশলাদি বিনিময় নিয়ে যখন ব্যস্ত ঠিক এমন সময় খবর আসে শরীক দলের জাসদ নেতা শরীফ নুরুল আম্বিয়াকেও নৌকা মার্কার মনোনয়ন দেয়া হয়েছে। মুহুর্তের মধ্যে আনন্দ ম্লান হয়ে যায়। এমপি মুক্তি ও তার সমর্থকদের চোখে মুখে হাতাশার ছাপ লেগে যায়। অনেকে বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠেন। স্বভাব সুলভভাবে এমপি মুক্তি তাদের শান্ত থাকার অনুরোধ জানান। এমনকি সকলের উদ্দেশ্যে বলেন, জননেত্রী শেখ হাসিনার সিদ্ধান্তই চুাড়ান্ত। তিনি যাকে দিবেন, সকলে তার জন্য কাজ করতে হবে। এখন নড়াইল-১ আসনের নির্বাচনী এলাকাসহ গোটা নড়াইল জেলায় একটাই আলোচনার বিষয় কে হবেন নৌকার মাঝি।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, উভয় পক্ষই জোর তৎপরতা ও তদবীর চালাচ্ছেন মনোনয়ন ঠিক রাখার জন্য। তবে জনপ্রিয়তার জরিপে এগিয়ে আছেন কবিরুল হক মুক্তি। মুক্তির পিতা শহীদ এখলাস উদ্দিন আহম্মেদ বঙ্গবন্ধু ঘনিষ্ঠ সহযোগী ছিলেন, বীর মুক্তিযোদ্ধা সাবেক কালিয়া পৌরমেয়র ও নড়াইল-১ আসনের সংসদ সদস্য।মুক্তি নিজে কালিয়া পৌরসভার দুই বারের মেয়র, দুই বারের সংসদ সদস্য তিনি। নিজ নির্বাচনী এলাকায় সেতু-কালভাট, সড়ক, স্কুল-কলেজ, মসজিদ-মন্দির নির্মানসহ ব্যাপক উন্নয়ন করেন। আর শরীফ নুরুল আম্বিয়া পক্ষে রয়েছে নড়াইল-২ আসনের মুক্তির রাজনৈতিক বিরোধীরা এবং নড়াইল-১ আসনে মুক্তির রাজনৈতিক বিরোধীরা।
নড়াইল-১ নির্বাচনী এলাকার বিছালী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আজিজুর রহমান বলেন, এমপি কবিরুল হক মুক্তি দীর্ঘকাল যাবত এই অঞ্চলের মানুষের সাথে আন্তরিকভাবে মিশে আছেন তার পরিবার।গণমানুষের নেতা কবিরুল হক মুক্তিই এ আসনে মনোনয়ন পাবার অন্যতম দাবিদার। আর তাকে মনোনয়ন দিলে খুব সহজেই তিনি এ আসনটি শেখ হাসিনাকে উপহার দিতে পারবেন। এ আসনে এমপি মুক্তির কোন বিকল্প নেই। দলের অধিকাংশ নেতা-কর্মী তার পক্ষে। এলাকার মানুষের প্রাণের দাবি রক্ষার্থে তাকেই নৌকা দেয়া উচিত।
শেখ হাটি ইউনিয়নের ছাত্রলীগ নেতা আরাফাত হোসেন বলেন, নড়াইল-১ আসন আওয়ামী লীগের ঘাঁটি হিসেবে চিহ্নিত। নড়াইলসহ সারা দেশেই একটি কথা প্রচলিত আছে নৌকা মার্কা পেলে এ আসনে বিজয়ী হওয়া সহজ। তবে শরীফ নুরুল আম্বিয়া এলাকার মানুষের মাঝে তার কোন গ্রহণ যোগ্যতা নেই মুক্তি বিরোধাকারীরাই তার পক্ষে আছে।কালিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক কৃষ্ণপদ ঘোষ বলেন, জননেত্রী শেখ হাসিনা আগেই বলেছেন যাকে দিলে নৌকা প্রতিক জয়ী হবে তাকেই দলের মনোনয়ন দেওয়া হবে। আমরা শেখ হাসিনার প্রতি আস্থাশীল অবশ্যই কবিরুল হক মুক্তিকে নড়াইল-১ আসনে চুড়ান্ত ভাবে মনোনিত করবেন।
কালিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হারুন আর রশিদ বলেন, প্রধানমন্ত্রী জনপ্রিয়তার জরিপের মাধ্যমেই কবিরুল হক মুক্তিকে দলের মনোনয়ন দিয়েছেন। আশা করি এ অঞ্চলের গণমানুষের প্রিয় নেতা মুক্তিকেই নৌকা প্রতিক দিবেন প্রধানমন্ত্রী।জেলা জাসদ নেতা অ্যাডভোকেট হেমায়েত উল্লাহ হিরু বলেন, জোটের সিদ্ধান্ত মোতাবেক শরীফ নুরুল আম্বিয়া মনোনয়ন পেয়েছেন। জোট নেতৃবৃন্দ তার পক্ষে কাজ করলে তিনি বিজয়ী হবেন।তবে সবাই তাকেই আছেন শেষ সিদ্ধান্তের দিকে। কে হচ্ছেন নৌকার প্রকৃত মাঝি ? আওয়ামী লীগের কবিরুল হক মুক্তি নাকি জাসদ নেতা শরীফ নুরুল আম্বিয়া ?




