নির্বাচনে না দাঁড়ানো নিয়ে যা বললেন আলাল
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে বরিশাল-৫ আসন থেকে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছিলেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও যুবদলের সাবেক সভাপতি অ্যাড. সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল।কিন্তু, বরিশাল-২ (বাবুগঞ্জ) আসনে দল তাকে মনোনয়ন দিয়েছে। এ আসন থেকে নির্বাচন করে একবার জয়ী হয়েছিলেন মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল।এবার এ আসনে আলালের পাশাপাশি বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা সারফুদ্দিন সান্টুকে মনোনয়ন দেয়া হয়েছে। আর বিএনপির আরেক যুগ্ম মহাসচিব মজিবর রহমান সরোয়ার এবার আলালের কাঙ্ক্ষিত আসনে মনোনয়ন পেয়েছেন।
মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল- ছাত্রদল, যুবদল ও বিএনপিতে গুরুত্বপূর্ণ পদে থেকে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি কেন্দ্রীয় যুবদলের সাধারণ সম্পাদক ও সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন দীর্ঘ সময়। এরপর বিএনপির সর্বশেষ কাউন্সিলে যুগ্ম মহাসচিব হন। মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল ইতিপূর্বে বরিশাল-২ আসন থেকে ধানের শীষ নিয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন।তিনি ঢাকার রাজনীতিতেও সক্রিয় বহুদিন ধরে। ২০০৮ সালের নির্বাচনে মোহাম্মদপুর-আদাবর আসনে নির্বাচন করেন।বহুদিন ধরেই তিনি বলে আসছিলেন বিএনপি জনগণের ভোটের অধিকার রক্ষায় এবার নির্বাচন করবে। এবং শেষ পর্যন্ত ভোটের মাঠে থাকবে। সবসময় যিনি নির্বাচনের পক্ষে, অথচ তিনিই শেষ পর্যন্ত ভোট করছেন না।
বুধবার (২৮ নভেম্বর) মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার শেষ দিনেও তিনি কোনো আসনেই মনোনয়ন জমা দেননি।এ নিয়ে নানা প্রশ্ন জেগেছে। আলালের ভোটে না থাকার রহস্য কি? দলীয় মনোনয়ন পেয়েও কেন তিনি নির্বাচন করছেন না তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে নানা কথা হচ্ছে।এ বিষয়ে কেউ কেউ বলছেন, মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল তার কাঙ্ক্ষিত আসন বরিশাল-৫ (সদর) আসনে মনোনয়ন না পাওয়ায় নাখোশ হয়েছেন। কারণ তিনি নাকি আগেই বলে রেখেছিলেন যে, ওই (বরিশাল-৫) আসনে দলীয় মনোনয়ন না পেলে ভোট করবেন না।আবার কেউ কেউ বলছেন, মোয়াজ্জেম হোসেন আলালের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী সরোয়ার বরিশাল-৫ আসনে মনোনয়ন পেয়েছেন। মনোনয়ন দৌড়ে রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী সরোয়ারের কাছে হেরে যাওয়া টাকে কোনো ভাবেই মেনে নিতে পারছেন না আলাল। তাই হাইকমান্ডের সিদ্ধান্তে নাখোশ হয়ে ভোট থেকেই সরে দাঁড়িয়েছেন তিনি।
তবে এ বিষয়ে ভিন্ন কথা বলছেন মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল। তিনি বুধবার (২৮ নভেম্বর) একটি গণমাধ্যমকে বলেন, বিএনপির দুই শীর্ষ নেতা খালেদা জিয়া ও তারেক রহমান নির্বাচন করতে পারছেন না। তাদের একজন কারাবন্দি, অন্যজন নির্বাসিত। এমতাবস্থায় জাতীয়তাবাদী আদর্শের একজন কর্মী হিসেবে তিনি নির্বাচন করতে পারেন না।আলালের ভাষ্যমতে, ‘বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান তারা আমাদের জাতীয়তাবাদী শক্তির মূল অনুপ্রেরণার উৎস ও উজ্জীবনী শক্তি। তারা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে না পারলে আমিও সে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে আগ্রহী নই। এ জন্যই আমি মনোনয়নপত্র দাখিল করিনি।’উল্লেখ্য, মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বিএনপির রাজনীতিতে একজন ত্যাগী ও পরিশ্রমী নেতা হিসেবে পরিচিত। প্রায় শতাধিক রাজনৈতিক মামলা রয়েছে তার নামে। গত এক দশকে প্রতিকূল রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে তিনি বহুবার কারাবরণ করেছেন।




