কি চমক দেখাবে ঐক্যফ্রন্ট!
রাষ্ট্র পরিচালনায় অভিন্ন অবস্থান তৈরির ঘোষণা নিয়ে প্রণীত হচ্ছে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নির্বাচনি ইশতেহার। ইশতেহার প্রণয়ন কমিটিতে রয়েছেন বিএনপিপন্থি বুদ্ধিজীবীরা। ইশতেহারে শরিক সব দলের মতামতকে গুরুত্ব দেয়া হবে বলে জানিয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ।
জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নির্বাচনি ইশতেহার তৈরির কাজ মোটামুটি শেষ হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকেলের দিকে ঐক্যফ্রন্টের ইশতেহার ঘোষণা করার কথা রয়েছে। গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা জাফরউল্লাহ চৌধুরী এই ইশতেহার প্রণয়ন কমিটির নেতৃত্ব দিচ্ছেন।তিনটি শ্লোগানকে ভিত্তি করে এই ইশতেহার তৈরি হচ্ছে বলে জানিয়েছেন কমিটির সদস্য সিনিয়র সাংবাদিক মাহফুজ উল্লাহ।
জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক মাহফুজ উল্লাহ বলেন, ‘সামনের যে রাজনীতি হবে, সে রাজনীতি হবে ঐক্যমতের রাজনীতি, সৌহার্দ্যপূর্ণ রাজনীতি, যাতে আমরা সবাইকে নিয়ে পথ চলতে পারি এবং প্রতিহিংসার রাজনীতি নয়। এছাড়া এর বাইরে দুই একটি ক্ষেত্রে চমক থাকবে যেগুলো এখনও অনেকের কল্পনার বাইরে।’নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, ‘জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের ১১ দফার আলোকেই তৈরি হবে ইশতেহার যার মূললক্ষ্য হবে গণতন্ত্র।’
মাহমুদুর রহমান মান্না আরো বলেন, ‘সুশাসন, দুর্নীতিমুক্ত সমাজ, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, বৈষম্য দূরীকরণ বিশেষ করে অর্থ বৈষম্য যেটি আছে, বিনিয়োগ এবং কর্মসংস্থানসহ একটি গণতান্ত্রিক সমাজ বিনির্মাণের যে অঙ্গিকার আছে তারই আলোকে ইশতেহারটি তৈরি করা হচ্ছে।’ইশতেহারে কার্যকর সংসদ, সরকারের জবাবদিহিসহ সুশাসন ফিরিয়ে আনার ওপর জোর দেওয়া হবে বলে জানান বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ।
তিনি বলেন, ‘সকল দলের যেসব প্রস্তাবনা আছে সেগুলো আমরা নিয়েছি। এখন সেগুলো নিয়ে বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। এছাড়া যদি কোনও নতুন কিছু থাকে, যেগুলো মিলে যাবে সেগুলোতে কোনও সমস্যা নেই, আর যেগুলো নিয়ে দ্বিমত আছে সেগুলো নিয়ে আলোচনা করে আমরা নিষ্পত্তি করার চেষ্টা করছি।’
যা থাকতে পারে ঐক্যফ্রন্টের ইশতেহারে-পর পর দু’বার কেউ প্রধানমন্ত্রী হতে পারবেন না, সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ তুলে দিয়ে সংসদ সদস্যদের স্বাধীনভাবে মতামত দেওয়ার সুযোগ (ফ্লোর ক্রসিং) দেওয়া হবে, পুলিশ ও সেনাবাহিনী ছাড়া চাকরিতে ঢোকার ক্ষেত্রে বয়সের কোনো সীমা থাকবে না, রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য আনা হবে, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে নেওয়া সব উন্নয়ন প্রকল্পের ‘দুর্নীতির’ খতিয়ান তুলে ধরে তার বিচারের ব্যবস্থা করা হবে, ইউটিলিটি সার্ভিস, যেমন- গ্যাস, বিদ্যুৎ ও পানির বিল ৫০০ ইউনিট পর্যন্ত কমানো হবে এবং এর ওপরে যাদের তাদের বাড়ানো হবে না, সবার জন্য রেশনিং পদ্ধতি চালু করা হবে, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড হবে না, দ্বি-কক্ষবিশিষ্ট পার্লামেন্ট এবং প্রাদেশিক সরকার ব্যবস্থা চালু করা হবে।
গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর দফতরে অনুষ্ঠিত জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের ইশতেহার কমিটির বৈঠকে বিএনপির প্রতিনিধি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- সাংবাদিক মাহফুজ উল্লাহ। বিএনপির পক্ষে তিন পৃষ্ঠার লিখিত প্রস্তাব তুলে ধরেন তিনি।এ প্রস্তাবের অন্যতম হচ্ছে— পুলিশ ও সেনাবাহিনী ছাড়া চাকরির ক্ষেত্রে বয়সের কোনো সীমা থাকবে না। যে কেউ মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে ঢুকতে পারবেন। বিএনপির লিখিত প্রস্তাবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো- পর পর দুইবার কেউ প্রধানমন্ত্রী হতে পারবেন না।
এছাড়া বিএনপির প্রস্তাবে সাংবিধানিক সংস্কার, প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ, বেকারত্ব কমানো, উন্নয়নের সুষম বণ্টন, সংখ্যালঘু নির্যাতনের বিচার নিশ্চিত, জাতীয় নেতাদের মর্যাদা নিশ্চিত, মেগা প্রকল্পগুলো অব্যাহত রাখা, নিরপেক্ষ পররাষ্ট্রনীতি, কৃষি ও কৃষকের উন্নয়ন, কোটা সংস্কার, সড়কের নিরাপত্তা নিশ্চিত, স্কুল-কলেজের শিক্ষকদের সরকারি চিকিৎসা সুবিধা নিশ্চিত করা, রাজনীতিতে অতীতমুখিতা বা প্রতিহিংসা বাদ দিয়ে নতুন ধারার সৃষ্টি, সংসদকে সব কর্মকাণ্ডে কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করা, প্রশাসনে আমূল পরিবর্তন আনা, সুশাসন, সুনীতি ও সুসরকারের (থ্রিজি) সমন্বয় ও বৃহত্তর জনগণের সম্মিলনের মাধ্যমে ‘ইনক্লুসিভ সোসাইটি’গড়া, প্রশাসন ও বিচার বিভাগে দলীয়করণের অবসান ঘটিয়ে মেধা, যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতাকে অগ্রাধিকার দেওয়া, শিক্ষা ও কৃষিখাতে যুগোপযোগী সংস্কারের মাধ্যমে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনা, বাস্তবমুখী শিক্ষাব্যবস্থা, খেলায় শতভাগ মনোযোগ দেওয়ার লক্ষ্যে খেলোয়াড়দের আর্থিক বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে দেখার প্রতিশ্রুতি রয়েছে এই ইশতেহারে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, উল্লেখিত এ প্রস্তাবগুলোর বেশিরভাগই দেড় বছর আগে দেওয়া খালেদা জিয়ার ভিশন ২০৩০-তে রয়েছে। ৩৭টি অনুচ্ছেদে ভাগ করা ৪১ পৃষ্ঠার ভিশন ২০৩০’তে প্রত্যেকটা বিষয় আলাদা আলাদা করে বলা হয়েছে। জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের ইশতেহার কমিটিতে বিএনপির প্রতিনিধি সাংবাদিক মাহফুজ উল্লাহর প্রস্তাবে ভিশন ২০৩০-ই ঘুরে ফিরে এসেছে।




