ধানের শীষে বিএনপি-জামায়াতের নাটক
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে নানান নাটকিয়তার জন্ম দিয়েছে ঐক্যফ্রন্ট। বিশেষ করে জামায়াত ইসলামকে নিয়ে শুরু থেকেই ঐক্যফ্রন্ট আপত্তি জানালেও সময়ের সাথে ঐক্যের শর্তগুলো থেকে সরে দাঁড়িয়েছে বিএনপি। নিবন্ধন বাতিল হলেও শেষ পর্যন্ত ধানের শীষ প্রতীকেই নির্বাচন করবে জামায়াত। মঙ্গলবার মধ্যরাতে বিএনপির সঙ্গে দফায় দফায় অনুষ্ঠিত বৈঠকে সিদ্ধান্ত এই সিদ্ধান্ত হয়।বিষয়টি নিশ্চিত করে বুধবার জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদের সদস্য অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, আমাদের ২৫ জন প্রার্থীকে ধানের শীষে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। আরও ৪-৫টি আসন নিয়ে আলোচনা অব্যাহত আছে। তবে নির্বাচনি প্রতীক ধানের শীষই থাকছে।
ঐক্যফ্রন্ট গঠনের আগেও আলোচনায় ছিল—জামায়াতের সঙ্গে কোনও ঐক্য হচ্ছে না। এমনকি জোটের অন্যতম প্রধান নেতা ড. কামাল হোসেন, মাহমুদুর রহমান মান্না, কাদের সিদ্দিকী, আসম রবসহ প্রগতিশীল রাজনীতিকরা জামায়াতের সঙ্গে কোনও ঐক্য হচ্ছে না, এমনটি বলে এসেছেন। ঐক্যফ্রন্টের প্রত্যেকটি সভা ও সমাবেশে জোর দিয়েই নেতারা বলেছেন, ঐক্যে জামায়াত নেই। যদিও শেষ পর্যন্ত শরিকদের কথার তোয়াক্কা না করে বিএনপি তার জোটসঙ্গী জামায়াতকে ধানের শীষে নির্বাচনের সুযোগ করে দিয়েছে। এসব বিষয়ে প্রকাশ্যে কিছু না বললেও এই নাটকিয়তায় ক্ষুব্ধ ঐক্যের শরিকরা।
ঐক্যের নেতারা বলছেন, আমরা জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট করেছি বিএনপি এবং আরও কয়েকটি দলের সঙ্গে। বিএনপি তাদের শরিক দলের সঙ্গে কী করবে, এটা তাদের ব্যাপার। আর জামায়াত বলতে যেটা বুঝাতে চাচ্ছেন, তা হলো এখন আর জামায়াত নামে কোনও দল নির্বাচন করতে পারবে না। এই দলটিকে কোনও না কোনও মার্কা নিয়ে নির্বাচন করতে হবে। তারা যে দলের মার্কা নিয়ে নির্বাচন করবে, তখন তারা সেই দলের সদস্যও হয়ে গেলো। সুতরাং জামায়াতের সঙ্গে বিএনপি কী করবে এটা তাদের বিষয়, এখানে আমাদের কিছু করার নেই।
এ প্রসঙ্গে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু বলেন, বিএনপি ২০ দলীয় জোটকে রেখেই জাতীয় ঐক্যফন্ট গঠন করেছে। ফলে ২০ দলীয় জোটের নেতারা নির্বাচনের জন্য ধানের শীষ প্রতীক বেছে নিয়েছেন। আর জামায়াতের যেহেতু কোনও নিবন্ধন নেই, তাই তারা ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করতে চায়। আমি মনে করি এতে বিএনপির সঙ্গে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের কোনও সমস্যা হবে না। কারণ, জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের ঐক্য হয়েছে বিএনপির সঙ্গে, জামায়াতের সঙ্গে নয়।যে ২৫টি আসনে জামায়াতের জোটগত মনোনয়ন চূড়ান্ত হয়েছে। আরও চারটি আসনে জোটগত মনোনয়নের চেষ্টায় আছে জামায়াত।
অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের জানান, ২৫টি আসনে জামায়াতের প্রার্থী হলেন—আবু সাঈদ মুহাম্মদ শাহাদত হোসাইন (যশোর-২), আব্দুল ওয়াদুদ (বাগেরহাট-৩), আবদুল আলীম (বাগেরহাট-৪), মিয়া গোলাম পরওয়ার (খুলনা-৫), আবুল কালাম আযাদ (খুলনা-৬), রবিউল বাশার (সাতক্ষীরা-৩), আব্দুল খালেক (সাতক্ষীরা-২), গাজী নজরুল ইসলাম (সাতক্ষীরা-৪), শামীম সাঈদী (পিরোজপুর-১), ফরিদ উদ্দিন চৌধুরী (সিলেট-৫), হাবিবুর রহমান (সিলেট-৬), শফিকুর রহমান (ঢাকা-১৫), আব্দুল হাকিম (ঠাকুরগাঁও-২), মোহাম্মদ হানিফ (দিনাজপুর-১), আনোয়ারুল ইসলাম (দিনাজপুর-৬), মনিরুজ্জামান মন্টু (নীলফামারী-২), আজিজুল ইসলাম (নীলফামারী-৩), গোলাম রব্বানী (রংপুর-৫), মাজেদুর রহমান সরকার (গাইবান্ধা-১), রফিকুল ইসলাম খান (সিরাজগঞ্জ-৪), ইকবাল হুসেইন (পাবনা-৫), মতিউর রহমান (ঝিনাইদহ-৩), সৈয়দ আবদুল্লাহ মো. তাহের (কুমিল্লা-১১), হামিদুর রহমান আজাদ (কক্সবাজার-২), শামসুল ইসলাম ( চট্টগ্রাম-১৫)।




