233235

আপিল চলাকালে দণ্ডিতদের ভোটের পথ বন্ধই থাকছে

দণ্ডিত কোনো ব্যক্তি পুরোপুরি খালাস না পাওয়া পর্যন্ত ভোটের পথ বন্ধ জানিয়ে হাইকোর্টের দেওয়া আদেশ বহাল রেখেছেন আপিল বিভাগ। বিচারকি আদালতের দেওয়া দণ্ড ও সাজা (কনভিকশন অ্যান্ড সেন্টেন্স) স্থগিত চেয়ে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান এজেডএম জাহিদ হোসেনের আবেদনের শুনানি শেষে বুধবার প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন সাত বিচারকের আপিল বেঞ্চ ‘নো অর্ডার’ দিয়েছে।

এর ফলে হাইকোর্টের দেওয়া আগের আদেশই বহাল থাকছে এবং বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াসহ দুই বছরের বেশি সাজায় দণ্ডিত কারও আসন্ন নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ থাকছে না বলে জানিয়েছেন দুদকের আইনজীবী।দুর্নীতির দায়ে বিচারকি আদালতের দেওয়া দণ্ড ও সাজা (কনভিকশন অ্যান্ড সেন্টেন্স) স্থগিত চেয়ে হাইকোর্টে আবেদ করেছিলেন বিএনপি নেতা আমান উলাহ আমান, ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন, ওয়াদুদ ভূঁইয়া, মো. মশিউর রহমান ও মো. আব্দুল ওহাব।

বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি কে এম হাফিজুল আলমের হাইকোর্ট বেঞ্চ মঙ্গলবার ওই আবেদন খারিজ করে দেয়।রায়ের পর্যবেক্ষণে বলা হয়, বিচারিক আদালতে কারও বিরুদ্ধে দুই বছরের বেশি সাজা বা দণ্ড হলে সেই দণ্ড বা সাজার বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল বিচারাধীন থাকা অবস্থায় নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে না। যতক্ষণ না, আপিল বিভাগ ওই রায় বাতিল বা স্থগিত করে জামিন না দেয়।

এ আদেশ স্থগিত চেয়ে মঙ্গলবারই আপিল করেন বিএনপি নেতা ডা. জেড এম জাহিদ। পরে চেম্বার আদালত আবেদনটি শুনানির জন্য পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ পাঠিয়ে দেন।মঙ্গলবার আদেশে আদালত বলেছেন, সংবিধানের ৬৬ (২) (ঘ) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী কারওে দুই বছরের বেশি দণ্ড হলে, আপিল বিভাগ সম্পূর্ণভাবে তার সাজা বাতিল না করা পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি নির্বাচনে অযোগ্য হবেন। দণ্ডের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল বিচারাধীন থাকাবস্থায়ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না।

আদেশের পর দুদকের আইনজীবী খুরশীদ আলম খান সাংবাদিকদের বলেন, হাইকোর্টের আদেশই বহাল আছে। নির্বাচন কমিশন আদালতের এ আদেশ মানতে বাধ্য। ফলে বিএনপির ওই পাঁচ নেতা, খালেদা জিয়া, ব্যারিস্টার নাজমুল হুদাসহ দুই বছরের বেশি সাজায় দণ্ডিত কেউ এবার নির্বাচন করতে পারবেন না।অন্যদিকে জাহিদ হোসেনের আইনজীবী খায়রুল আলম চৌধুরী বলেন, এখন দণ্ডিতরা নির্বাচন করতে পারবে কি না- সেটা নির্ভর করছে রিটার্নিং কর্মকর্তার ওপর। কারণ কেউ নির্বাচন করতে পারবে কি পারবে না, সেটা পুরোপুরি রিটার্নিং কর্মকর্তার এখতিয়ার।

ad

পাঠকের মতামত