১৪ দলের ভাগে ১৩ নৌকা
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এরইমধ্যে ২৩০ জন দলীয় মনোনয়নপ্রত্যাশীকে নৌকা প্রতীক বরাদ্দ দিয়েছে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ। এখন চলছ শরিকদের আসন বণ্টন নিয়ে যাচাই-বাছাই, বিশ্লেষণ। তবে ভাগবাটোয়ারা যেভাবেই হোক, আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক আরও আগেই জানিয়েছেন, তারা শরিকদের জন্য বড়জোর ৬০-৬৫টি আসন বরাদ্দ দেবেন। সেই অনুযায়ী আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় মহাজোটের মনোনয়নপ্রত্যশীদের মধ্যে থেকে এখন পর্যন্ত ১৩ জন প্রার্থীকে নৌকা প্রতীকে মনোনয়ন বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার সকাল থেকে ধানমন্ডিস্থ আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে এ মনোনয়ন বরাদ্দ দেয়া শুরু হয়। ফোনে ডাক পেয়ে ১৪ দলের নেতারা একে একে এসে আওয়ামী লীগে উপ-দফতর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়ার কাছে থেকে নৌকার চিঠি বুঝে নেন।মঙ্গলবার পর্যন্ত ১৪ দলের জন্য ছাড় দেয়া আসন সংখ্যা ১৩টি। আওয়ামী লীগের দলীয় সূত্র বলছে, জাসদ (ইনু) ৩টি আসন, জাসদ (আম্বিয়া) ২টি আসন, ওয়ার্কার্স পার্টি ৫টি আসন, জেপি মঞ্জু ১টি ও তরিকত ফেডারেশন ২টি আসনে মনোনয়ন পেয়েছে।
এর মধ্যে, আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয় থেকে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করছেন শরীফ নুরুল আম্বিয়া। তিনি নড়াইল-১ (কালিয়া) আসনে নৌকায় নির্বাচনে অংশ নেবেন।আম্বিয়ার পর তাদের দল থেকে চট্টগ্রাম-৮ আসনে নৌকার প্রার্থী হওয়ার প্রত্যয়নপত্র নেন মাইনুদ্দিন খান বাদল। জাসদের এই নেতা ওই আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য।১৪ দলীয় জোটের আরেক শরিক তরিকত ফেডারেশনকে যে ২টি আসন দেয়া হয়েছে তার মধ্যে দলের চেয়ারম্যান সৈয়দ নজিবুল বাশার মাইজভাণ্ডারীর জন্য চট্টগ্রাম-২ এবং তরিকত ফেডারেশনের সদস্য আনোয়ার হোসেন খানকে লক্ষ্মীপুর-১ আসন দেয়া হয়েছে।
১০ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী হয়েছেন ১৪ দলের এমন ১১ জন নেতাকে মনোনয়নের চিঠি সংগ্রহের জন্য ডেকেছে আওয়ামী লীগ। এখানে একটি নতুন মুখ আসার সম্ভবনা রয়েছে।তবে এখন পর্যন্ত চূড়ান্ত এ তালিকায় নেই সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক দিলীপ বড়ুয়ার নাম। ছাড় দেয়া আসন সংখ্যা বাড়ার কোনও সম্ভাবনা আছে কিনা, জানতে চাইলে নাম না প্রকাশ করার শর্তে আওয়ামী লীগের দায়িত্বশীল পর্যায় থেকে বলা হয়েছে, জাতীয় পার্টির মতো ১৪ দল থেকে আসন ছাড় বিষয়ে বিশেষ চাপ নেই।
এখন পর্যন্ত ১৩টি আসন ১৪ দলের শরিকদের দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। দিন শেষে সব বিবেচনার এ সংখ্যা বাড়া বা কমার সম্ভাবনাও রয়েছে। তবে সেটা কোনোভাবেই ১-২’র বেশি ব্যবধানে নয়।সোমবারই জাতীয় পার্টি (জাপা), ১৪ দলের অন্যান্য শরিক ও যুক্তফ্রন্টের মধ্যে আসন বণ্টন শেষ করার কথা থাকলেও আওয়ামী শেষ সময়ে বলেছে ২৮ নভেম্বরের মধ্যে প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত করা হবে। সে অনুযায়ী বুধবার শেষ হচ্ছে মহাজোটের প্রার্থী বাছাই প্রক্রিয়া।এরপরই ৩০০ আসনে আওয়ামী লীগ ও লাঙ্গলের চূড়ান্ত মনোনয়ন তালিকা প্রকাশ করা হবে। একাদশ জাতীয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগের সঙ্গে জোটবদ্ধ হয়ে নির্বাচনী লড়াইয়ে অংশ নিলেও জাতীয় পার্টির প্রার্থীদের প্রতীক হবে লাঙল।জাতীয় পার্টির জন্য ছেড়ে দেয়া আসনগুলোতে নৌকা প্রতীকে কোনও প্রার্থী থাকবে না বলেও দলীয় সূত্র জানিয়েছে।




