নির্বাচনে নেই জিয়া পরিবারের কেউই
শুরু হয়েছে একাদশ নির্বাচন-উৎসব। দেশের বড় দুই দল তাদের প্রার্থীর নাম ঘোষণা করছে। নির্বাচনী উৎসবের ভাব এসেছে সারাদেশের সব দলের নেতাকর্মী, সমর্থক ও সাধারণ মানুষের মাঝে। দেশের সকল রাজনৈতিক দলই নির্বাচনমুখী এবং সব দলের নেতাকর্মীদের মধ্যেই নির্বাচনী আমেজ। দেশের রাজনীতিতে গত কয়েক দশকে বড় ফ্যাক্ট জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের পরিবার।
তবে এবারই যেন ব্যতিক্রম, এবারের নির্বাচনে নেই জিয়া পরিবারের কেউই। যদিও আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে খালেদা জিয়ার পক্ষ থেকে বগুড়া ৬, ৭ এবং ফেনী ১ আসন থেকে মনোনয়নপত্র নেওয়া হয়েছিল। তবে শেষ পর্যন্ত তিনি নির্বাচনে লড়তে পারছে না। মঙ্গলবার হাইকোর্ট রায় দিয়েছেন বিচারিক আদালতে দুই বছরের বেশি সাজা হলে এবং আপিলে মামলাটি বিচারাধীন থাকা অবস্থায় কোন ব্যক্তি নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না। আদালত পর্যবেক্ষণে বলেছে, সংবিধানের ৬৬ (২) (ঘ) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী কারও দুই বছরের বেশি সাজা বা দণ্ড হলে, সেই দণ্ড বা সাজার বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল বিচারাধীন থাকা অবস্থায় তিনি নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না, যতক্ষণ না আপিল বিভাগ ওই রায় বাতিল বা স্থগিত করে তাকে জামিন দেয়। রায়ের ফলে আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া বলে জানিয়েছেন অ্যাটর্নি জেলারেল মাহবুবে আলম।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বিরুদ্ধে একাধিক মামলার রায়ে শাস্তি হয়েছে। আইন-আদালতের দৃষ্টিতে তিনি পলাতক। এরসঙ্গে যোগ হয়েছে তার বাংলাদেশি পাসপোর্ট ‘সারেন্ডার’ করে ইংল্যান্ডের ‘রাজনৈতিক আশ্রয়’ নেওয়ার আবেদন। যুক্তরাজ্যে রাজনৈতিক আশ্রয়ের বিষয়টির নিষ্পত্তির খবর এখনও না এলেও তিনি যে বাংলাদেশে সহসা ফিরছেন না সেটা নিশ্চিত। একইসঙ্গে এও নিশ্চিত, প্রচলিত আইনে তিনিও নির্বাচনের অযোগ্য। এরবাইরে আছে বাংলাদেশের ভোটার তালিকায় তার নাম না থাকা।
খালেদা জিয়া আগামী নির্বাচনে অংশ নিতে পারছেন না, তারেক রহমানও একইভাবে নির্বাচনে অযোগ্য। মাঝখানে আলোচনায় এসেছিলেন তারেকের স্ত্রী জোবাইদা রহমানও। যদিও শেষ পর্যন্ত তার দেশে ফেরার কেনো সম্ভাবনই নেই। এছাড়া দেশে জাতীয় পরিচয়পত্র প্রচলন ও ভোটার তালিকা প্রণয়নের সময়ে তিনিও ছিলেন অনুপস্থিত। সে হিসেবে ভোটার তালিকার তার নাম থাকার কথা নয়। দেশের ভোটার না হলে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার এবং ভোট প্রয়োগের সুযোগ থাকছে না তার। তাই এবার জোবাইদা রহমানের নির্বাচন করার সম্ভাবনা আছে বলে মনে হয়না।মোট কথা রহমানসহ জিয়া পরিবারের কেউই এবারের নির্বাচনে অংশ নিতে পারছে না। সেক্ষেত্রে এই নির্বাচন বিএনপির জন্যে অনেকটাই যেন জিয়া পরিবারকে ‘মাইনাস’ করার নির্বাচন।




