232630

সিইসি নিজে না উঠে ভাগ্নেকে নৌকার মাঝি করলেন : রিজভী

নিউজ ডেস্ক।। এস এম শাহজাদা সাজুকে মনোনয়ন দেয়া সরকার কর্তৃক সিইসিকে ভেট দেয়ার একটি পরিস্কার উদাহরণ বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। সোমবার রাজধানীর নয়াপল্টন বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন।

রুহুল কবির রিজভী বলেন, সংসদ নির্বাচনে পটুয়াখালী-৩ (গলাচিপা-দশমিনা) সংসদীয় আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনারের ভাগ্নে (আপন বোনের ছেলে) এস এম শাহজাদা সাজু। আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী হিসেবে রোববার তিনি চিঠি পান। সেখানে আওয়ামী লীগের আর এক মনোনয়ন প্রত্যাশী আ খ ম জাহাঙ্গীর হোসেন বলেছেন-আমাকে মনোনয়ন না দেবার কারণ একটি, সেটি হলো শাহজাদা সিইসি’র ভাগ্নে। সিইসিকে ক্ষমতাসীনদের পক্ষে কাজে লাগানোর জন্যই তার ভাগ্নেকে আওয়ামী লীগ মনোনয়ন দিয়েছে। সাজুকে মনোনয়ন দেয়া সরকার কর্তৃক সিইসি-কে ভেট দেয়ার একটি পরিস্কার উদাহরণ।

তিনি বলেন, আমরা মনে করি-এই মনোনয়ন সিইসি’র জন্য স্বার্থের সংঘর্ষের একটি সুষ্পষ্ট ক্ষেত্র তৈরি করেছে। যার কারণে সিইসি স্বীয় পদে অব্যাহত থাকার নৈতিক অধিকার সম্পূর্ণভাবে হারিয়েছেন। তার পক্ষে একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন পরিচালনা করা কোনভাবেই সম্ভব নয়। প্রধান নির্বাচন কমিশনার যে আওয়ামী লীগের অঘোষিত নেতা তা তার কর্মকাণ্ডে প্রমাণিত। সিইসি নির্বাচন কমিশনের প্রধান হওয়ার কারণে নিজে নৌকায় না উঠে ভাগ্নেকে নৌকার মাঝি করলেন। ভাগ্নে সাজুর মনোনয়নের প্রেক্ষিতে সিইসি অনুরূপ উচ্চ নৈতিক মান প্রদর্শন করে অবিলম্বে স্বীয় পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর জন্য আহ্বান জানান রিজভী।

রিজভী বলেন, আওয়ামী লীগ নেতাদের ভাষায় কথা বলে আসছেন ইসি সচিব হেলাল উদ্দিন সাহেব। দ্রুত দলবাজ ইসি সচিবকে নির্বাচন কমিশন থেকে প্রত্যাহারের দাবি জানাচ্ছি। কারণ আওয়ামী লীগ নেতারদের বক্তব্যের সাথে সুর মিলিয়ে বিরামহীন রাজনৈতিক বক্তব্য-বিবৃতি দিয়ে যাচ্ছেন তিনি। একতরফা ও নীলনকশার পাতানো নির্বাচনের মূল ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছেন ইসি সচিব। সরকার পরিকল্পিতভাবে সাজানো ভোটারবিহীন আরেকটি নির্বাচন করার জন্য দীর্ঘদিনের পরিকল্পনার অংশ হিসাবে নির্বাচন কমিশনে হেলাল উদ্দীন সাহেবকে নিয়োগ দিয়েছে। ইসি সচিব মুলত নির্বাচন কমিশন পরিচালনা করছে। বাকি পাঁচ সদস্যের কমিশনারদের ওপর প্রভাব বিস্তাার করতে তোড়জোড় চালাচ্ছেন তিনি।

বিএনপির এই মুখপাত্র বলেন, আমরা বিশ্ববস্ত সূত্রে জেনেছি যে, ফেনীসহ কিছু কিছু জেলার পুলিশ সুপারগণ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের (ওসি) ডেকে নিয়ে সভা করে তাদেরকে সরকারের পক্ষে কাজ করার চাপ দিচ্ছেন এবং বিএনপি নেতাকর্মীদের হয়রানির বিষয়ে ব্রিফ করছেন। তারা বলছেন, এসিআর আমাদের হাতে, নির্বাচনের রেজাল্ট আমাদের হাতে দিবেন, এসিআর নিয়ে যাবেন। ইতোমধ্যে আমরা ফেনীসহ অন্যান্য জেলার বেশ কিছু পুলিশ সুপারকে প্রত্যাহারের ব্যাপারে নির্বাচন কমিশনে পত্রের মাধ্যমে অবহিত করেছি। সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ড. সুকোমল বড়ুয়া, একরামুজ্জামান, যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, সহদপ্তর সম্পাদক মুনির হোসেনসহ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। উৎস: বিডি-জার্নাল।

ad

পাঠকের মতামত