‘ডিগবাজী’ খন্দকার
ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বাধীন নবগঠিত জাতীয় ঐক্যফ্রন্টে যোগ দিচ্ছেন সেক্টর কমান্ডার্স ফোরামের নেতা ও সাবেক পরিকল্পনা মন্ত্রী এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) এ কে খন্দকার। এটা নিয়ে আবারও আলোচনায় এসেছেন তিনি। একে খন্দকারের রাজনৈতিক দলবদল অবশ্য এই প্রথম নয়। এর আগেও বেশ কয়েকবার দলবদল করেছেন তিনি।এ কে খন্দকার বিমানবাহিনী থেকে অবসর গ্রহণের পর রাজনীতিতে সম্পৃক্ত হন। তিনি স্বাধীনতা বীরত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। এম এ জি ওসমানীর পরেই উপপ্রধান সেনাপতির দায়িত্ব পালন করেন। বিমানবাহিনীর প্রথম প্রধান ছিলেন এ কে খন্দকার।
জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঘনিষ্ঠ হলেও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সুদৃষ্টি ছিল তার ওপর। ১৯৭৭ সালে জিয়াউর রহমানের সরকারের সময় ভারতে বাংলাদেশের হাইকমিশনার হিসেবে নিয়োগ পান।এরপর এরশাদ ক্ষমতায় এলে জাতীয় পার্টিতে ভিড়েন তিন। ১৯৮৬ সালের অক্টোবর থেকে ১৯৯০ সালের মার্চ পর্যন্ত তিনি এরশাদ সরকারের পরিকল্পনামন্ত্রী ছিলেন। এর আগে তিনি অস্ট্রেলিয়ায় বাংলাদেশের হাইকমিশনার ছিলেন। বাংলাদেশ সেক্টর কমান্ডারস ফোরামের চেয়ারম্যান হিসেবে দুই বছর দায়িত্ব পালন করেন তিনি।
২০০৮ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলে মুক্তিযুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা এ কে খন্দকারকে মন্ত্রী করা হয়। তাকে দেয়া হয় সরকারের গুরুত্বপূর্ণ পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়।একটি বই প্রকাশ নিয়ে এ কে খন্দকারের সঙ্গে আওয়ামী লীগের দূরত্ব বাড়ে। বইটির নাম ১৯৭১: ভেতরে বাইরে। বইটি প্রকাশ হওয়ার পর আওয়ামী লীগ ও ১৪ দল নেতাদের তোপের মুখে পড়েন এ মুক্তিযোদ্ধা। এরপর থেকেই তিনি রাজনীতিতে নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েন।
এরপর সম্প্রতি তিনি যোগ দিচ্ছেন ড. কামাল হোসেনের গণফোরামে। তার যোগদানের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন গণফোরামের প্রশিক্ষণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম পথিক।নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক গণফোরামের এক নেতা জানান, রাজনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় তারা গণফোরামে যোগ দেয়ার বিষয়ে আগে থেকে কিছু বলতে রাজি হচ্চেন না। তবে গণফোরাম তথা জাতীয় ঐক্যফ্রন্টে আরও গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি ও রাজনীতিবিদ যোগ দেবেন। তাদের বেশিরভাগই আগামী নির্বাচনে অংশ নিতে পারেন।




