ইসির কথা মতো চলছে পুলিশ: সিইসি
প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নূরুল হুদা বলেছেন, বিনা কারণে কাউকে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে না। পুলিশ ইসির কথা মতো চলছে।শনিবার আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে ম্যাজিস্ট্রেটদের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন তিনি।সিইসি বলেন, ‘পুলিশ প্রশাসন নির্বাচন কমিশনে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। নির্বাচনে প্রিজাইডিং অফিসারদের সহায়তা করতে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।’
লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরির বিষয়ে তিনি বলেন, লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড আছে। পুলিশ আমাদের কথা মান্য করে। আমাদের কথার বাইরে বিনা কারণে পুলিশ কাউকে গ্রেপ্তার করে না, করছে না। আইন অনুযায়ী যেভাবে এগোনোর কথা সেভাবেই এগোচ্ছে। পুলিশ কমিশনের নিয়ন্ত্রণে আছে। পুলিশকে কমিশন নির্দেশনা দিয়েছে। তারা আমাদের কথা দিয়েছে এবং সে অনুযায়ী তারা কাজ করছে। সরকারের কোনো নির্দেশ নেই। নির্বাচন সংক্রান্ত বিষয়ে আমাদের নির্দেশ মাঠে যায় এবং সেটাই প্রতিফলিত হয়।’
সিইসি বলেন, ‘নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড (সমতল ক্রীড়াভূমি) বজায় রয়েছে। সেটি থাকবে।’নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের ব্রিফিং অনুষ্ঠান থেকে গণমাধ্যম কর্মীদের বের করে দেয়ার ব্যাপারে সিইসি বলেন, ‘সাংবাদিকদের বের করে দেয়ার সিদ্ধান্তটি সঠিক হয়নি।অপেক্ষমাণ সাংবাদিকদের কাছে ভুল স্বীকার করে সিইসি বলেন, ‘আজকের সিদ্ধান্ত সঠিক হয়নি। গণমাধ্যম কর্মীদের অনুষ্ঠানের প্রথম অংশজুড়ে থাকতে দিলে ভালো হতো। আগামীকালও একই ধরনের বৈঠক আছে। সেখানে গণমাধ্যম কর্মীদের থাকতে দেয়া হবে।’
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে সিইসি বলেন, ‘নির্বাচন পরিচালনা করা নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব। এ নির্বাচন পরিচালনার জন্য রিটার্নিং অফিসারদের জেলা-উপজেলা ও নির্বাচনী এলাকাভিত্তিক দায়িত্ব প্রদান করে থাকি। রিটার্নিং অফিসাররা আবার সহকারী রিটার্নিং অফিসার এবং প্রিজাইডিং অফিসারদের মাঠ পর্যায়ে নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্ব দিয়ে থাকেন। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা মাঠপর্যায়ে কর্মকর্তাদের সহযোগিতা করবেন। এসব বিষয়সহ আইনের বিভিন্ন বিধি-বিধান সম্পর্কে তাদের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।
এর আগে শনিবার সকাল ১০টায় নির্বাচন ভবনের অডিটোরিয়ামে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অবাধ ও সুষ্ঠু করতে দায়িত্বপ্রাপ্ত ম্যাজিস্ট্রেটদের নিয়ে রুদ্ধদ্বার বৈঠকে বসে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন নির্বাচন কমিশন সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কেএম নূরুল হুদা। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার, মো. রফিকুল ইসলাম, কবিতা খানম ও ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) মো. শাহাদাত হোসেন চৌধুরী।
আজকের বৈঠকে ঢাকা, ময়মনসিংহ, কুমিল্লা, নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর, কিশোরগঞ্জ, শেরপুরসহ কয়েকটি জেলার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা যোগ দেন। এ ছাড়া রোববার ও সোমবারও এ সংক্রান্ত বৈঠক রয়েছে।অনুষ্ঠান শুরু হওয়ার পর নির্বাচন প্রশিক্ষণ ইনিস্টিটিউটের (ইটিআই) মহাপরিচালক মোস্তফা ফারুক স্বাগত বক্তব্য দেন। এর পরই গণমাধ্যম কর্মীদের অনুষ্ঠানস্থল ত্যাগ করার নির্দেশ দেয়া হয়।সাধারণত এসব বৈঠকে সিইসির বক্তব্য পর্যন্ত গণমাধ্যম কর্মীরা সভার ভেতরেই থাকেন। আজও এ দাবি জানালেও তাতে সায় দেয়নি কমিশন। এ সময় নির্বাচন কমিশনারদের একে অন্যের সঙ্গে কানাকানি করে কথা বলতে দেখা যায়। পরবর্তীতে গণমাধ্যম কর্মীদের অনুষ্ঠানস্থল ত্যাগ করতে বাধ্য করা হয়।
প্রসঙ্গত, এর আগে রিটার্নিং কর্মকর্তা, সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা, স্থানীয় পর্যবেক্ষক, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর বিশেষ সভাসহ সকল ব্রিফিং অনুষ্ঠানেই সিইসি ও ইসি সচিবের বক্তব্য ধারণ করতে পেরেছে গণমাধ্যম কর্মীরা। তাদের বক্তব্যের পর দিনের মূল কার্যসূচি শুরুর আগে সাংবাদিকদের বের করে দেয়া হতো। তবে আজ প্রথমবারের মতো রীতি ভেঙে অনুষ্ঠানের শুরুতেই সাংবাদিকদের বের করে দেয়া হয়।




