232142

পিতার আসন ‘দখলে’ নিতে চান কন্যারা

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রামের তিনটি আসন ‘দখলে’ নিতে চান সাবেক তিন এমপির কন্যারা। তিনটির মধ্যে দুটি আসনে আওয়ামী লীগ ও একটিতে বিএনপির হয়ে নির্বাচন করতে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন তারা। দলের মনোনয়ন পাওয়ার বিষয়েও আশাবাদী। নিজের আসনে নির্বাচন করতে প্রস্তুত এই তিন রাজনৈতিক কন্যা।
আওয়ামী লীগের হয়ে চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি) আসনে নির্বাচন করতে চান চট্টগ্রাম উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য খাদিজাতুল আনোয়ার সনি। তিনি সাবেক এমপি প্রয়াত রফিকুল আনোয়ারের মেয়ে। তার বাবা এ আসন থেকে আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়নে ১৯৯৬ ও ২০০১ সালে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০১৪ সালের নির্বাচনে এ আসন থেকে তাকে দলীয় মনোনয়ন দেয় আওয়ামী লীগ। কিন্তু জোটগত কারণে শেষ পর্যন্ত সেখানে নজিবুল বশর মাইজভাণ্ডারীকে মনোনয়ন দেওয়া হয়। এ আসন থেকে তার চাচা ফখরুল আনোয়ার দলীয় মনোনয়ন চান। বর্তমানে এ আসনের এমপি হলেন নজিবুল বশর মাইজভাণ্ডারী।

এবারও জোটগত সমস্যার কারণে মনোনয়ন হাতছাড়া হবে কিনা জানতে চাইলে খাদিজাতুল আনোয়ার সনি আমাদের সময়কে বলেন, বিষয়টি একান্তই প্রধানমন্ত্রীর। দল চাইলে নির্বাচন করব, নাহলে দলের হয়ে কাজ করব। তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, ফটিকছড়ির মানুষ এবার দল থেকেই প্রার্থী চায়। আমার পরিবার ফটিকছড়ির মানুষের জন্য কাজ করেছে। এখন পারিবারিক ঐতিহ্য এবং তৃণমূলের সঙ্গে আমার যোগাযোগ রয়েছে। সে কারণে দলীয় মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছি।চট্টগ্রাম-৫ (হাটহাজারী) আসনে সাবেক হুইপ ও বিএনপি চেয়ারপারসনের সাবেক উপদেষ্টা প্রয়াত সৈয়দ ওয়াহিদুল আলম চারবার সংসদ সদস্য ছিলেন। এবার এ আসন থেকে নির্বাচনে লড়তে চান তার মেয়ে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের যুগ্ম সম্পাদক ও চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার শাকিলা ফারজানা।

বিএনপির মনোনয়ন পাওয়ার ব্যাপারে আশা প্রকাশ করে ব্যারিস্টার শাকিলা ফারজানা বলেন, আমি এক দশক ধরে মাঠে অনেক অত্যাচার সহ্য করে আসছি। এ ছাড়া দলের নেতাকর্মীদের আইনগত সহায়তা দিয়ে আসছি। আমার বিশ্বাস, দল আমার পরিবারের ত্যাগ ও আমার কর্মকা- বিবেচনা করে মনোনয়ন দেবে।এ দুই আসনের চেয়ে চট্টগ্রাম-১৩ (আনোয়ারা-কর্ণফুলী)-এর সমীকরণটা আরও জটিল। এ আসনে বর্তমান এমপি হচ্ছেন সাবেক এমপি ও আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য প্রয়াত আখতারুজ্জামান চৌধুরী বাবুর ছেলে সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ। এবারও মনোনয়ন দৌড়ে এগিয়ে আছেন জাবেদ। এখান থেকে মনোনয়ন চান আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও সাবেক এমপি প্রয়াত আতাউর রহমান খান কায়সারের মেয়ে বর্তমান সংরক্ষিত আসনের নারী সংসদ সদস্য ও মহিলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ওয়াসিকা আয়েশা খান।

আনোয়ারা-কর্ণফুলী আসন থেকে সরাসরি লড়াইয়ের জন্য আমিও মনোনয়ন চাইব দল থেকে, বললেন ওয়াসিকা আয়েশা খান। তবে কেন্দ্র যাকে মনোনয়ন দেবে, তার পক্ষেই কাজ করার কথাও জানালেন ওয়াসিকা আয়েশা খান।
বলিউডের বিখ্যাত নায়ক শাহরুখ খানের সেই উক্তি আবার ফিরে এলো, ‘রৌপ্য জিতেছ মানে স্বর্ণটি দিয়ে এসেছো’ ফ্রান্সও তাই। রানার্সআপ নয়। চ্যাম্পিয়ন হতে এসেছে ১৯৯৮ সালের শিরোপাধারীরা। ২০১৬ সালে ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে ফ্রান্স হেরেছিল। অবশ্য এই বিশ্বকাপে ওই দলের অনেকে আসেনি। সেন্ট ডেনিস ফিরে আসবে না মস্কোয়, এমন ধারণা ফরাসি অধিনায়ক হুগো লরিসের। আর কোচ দেশম চান দুর্দান্ত খেলবে ক্রোয়েশিয়া। তবে ফ্রান্স আরেকটি ফাইনাল হারতে চায় না।

লরিস জানেন দেশের মানুষ আগ্রহ নিয়ে তাকিয়ে আছে। হুগো গতকাল সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, আক্রমণভাগ ও রক্ষণভাগে বেশ বদলে যাচ্ছে। এটা কোচের সিদ্ধান্ত। আর কোচ এসব ভালো বুঝবেন এটাই স্বাভাবিক। আমিও তাই মনে করি। আমরা কোচ ও স্টাফদের সঙ্গে ভালো কাজ করেছি। আমরা আগামীকাল একটি সুযোগ পেয়েছি। এটা দারুণ খেলে সফল হতে চাই। আমরা জানি না কাল কী হবে। বেলজিয়ামের ম্যাচে বেশি ভাবিনি। আর ক্রোয়েশিয়া মানসম্পন্ন দল। তাদের মানসিক ও শারীরিক দিক ভালো। তাই আমাদের খেলাটি সহজ হবে না। আমি আগেও বলেছি ক্রোয়েশিয়া মানসিকভাবে এগিয়ে রয়েছে। তারা অতিরিক্ত সময়ে জিতেছে আগের ম্যাচে। আর প্রতিটি খেলোয়াড় মেধাবী।

ক্রোয়েশিয়াকে হালকাভাবে নেওয়ার কোনো পথ নেই, মনে করেন লরিস। তিনি বলেন, আমরা ক্রোয়েশিয়াকে সমীহ করছি। আমরা মানসিক আর শারীরিকভাবে ফিট আছি। আমরা ফাইনালে কীভাবে বাধাগুলো সামলাই তার ওপর অনেক কিছু নির্ভর করছে। আমার জীবনের সেরা মুহূর্ত এটা। আমার এটা তৃতীয় বিশ্বকাপ। তবে দেশের হয়ে খেলা অন্যরকম ব্যাপার। আমরা মানসিকভাবে এগিয়ে। ফাইনালের পর বলতে পারব এটা আমার সেরা ম্যাচ কিনা। আর ফাইনাল যদি টাইব্রেকে যায় তাহলেও আমি মনোযোগ ধরে রাখব। আর সুবাসিচ ভালো গোলরক্ষক। সেও টাইব্রেকে ভালো করবে। মানসিক শক্তি এ ধরনের প্রতিযোগিতায় জরুরি। ২০১৬ সালে আমরা ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপে হেরেছিলাম। আরেকটি ফাইনাল আমরা হারতে চাই না।

কোচ দেশম আসেন সংবাদ সম্মেলনে লরিস চলে গেলে। ২০১৬ সালেও তার অধীনে ফ্রান্স ইউরোতে ফাইনাল খেলেছিল। তিনি বলেন, প্রত্যেক খেলোয়াড়ের স্বপ্ন থাকে। ফাইনালে খেলা অন্যরকম ব্যাপার। আমরা চাইব এটা কাজে লাগাতে। আগামীকাল সেরাটা দিতে চাই। আমাদের সবকিছু এক একটি জায়গায়। আর সেটা হচ্ছে কাইলিয়ান এমবাপ্পেই খালি নন। সবাই সমান মানসিক জায়গায়। এমবাপ্পে ভালো খেলছে। আর এটা আমাদের ইতিবাচক ব্যাপার। আমি ওকে চাপ দিইনি। আর দেব না। ও ফাইনালটা মজা করে খেলুক।
দেশম এই ফাইনালের দলের সঙ্গে ২০১৬ ইউরোর ফাইনালের দলের মধ্যে পার্থক্য দেখেন। দেশম বলেন, আমার এই দলের খেলোয়াড়ের সঙ্গে পার্থক্য রয়েছে ওই দলটির। ওই দলের অনেকে নেই। আর এই দলের গুণ রয়েছে অনেক। আশা করি ভালো কিছু পাব আমরা। আমাদের এই দলটির খেলোয়াড়দের সবকিছুই আলাদা। মানসিক দিক থেকেও তারা আলাদা।
১৯৯৮ সালে দেশমের অধীনে বিশ্বকাপ জিতেছিল। এ ব্যাপারে দেশম বলেন, খেলোয়াড় হিসেবে আর কোচ হিসেবে এটা জেতার স্বাদ আলাদা। সফলতা আলাদা। আমি নিজেকে ভাগ্যবান মনে করি। কারণ কোচ হিসেবে মানসিকভাবে নিজেকে আত্মনিয়োগ করে এই জায়গায় আসতে পেরেছি। আমি সৌভাগ্যবান।’

ফ্রান্স দলে আফ্রিকান খেলোয়াড় রয়েছেন। এ ব্যাপারে দেশম বলেন, আমি এই প্রশ্নে একটু বিব্রত। আফ্রিকান দলের খেলোয়াড়রাও ভালো করেছে। আর এটা ফ্রান্স ফুটবলের বড় অর্জন। আফ্রিকানরা ফরাসি ফুটবলকে গড়ে দিয়েছে। আশা করি ফাইনালে আফ্রিকানরা ফরাসি হয়েই থাকবে। আমরা সেভাবে প্লেয়ারদের ট্রিট করি না। আফ্রিকার অনেক সেরা ফুটবলার আছে। কোনো কোচ খেলোয়াড় হিসেবে কে আফ্রিকার আর কে না, এটা দেখেন না। আসল কথা ১১ জনকে এক কাতারে রাখা কঠিন ব্যাপার। আমি সেই চেষ্টা করেছি।’১৯৯৮ সালের অভিজ্ঞতা থেকে কী প্রেরণা নেওয়া যায়। দেশম বলেন, আসলে সেখান থেকে এই দলটির পার্থক্য রয়েছে। আমরা অনেক দূরে যেতে চেয়েছি। সেটা পেরেছি। সে দলের সঙ্গে মিল নেই। আর ইউরো ২০১৬ সালের দলের সঙ্গে এই দলেরও কোনো মিল নেই। সবাই আপনারা ফলের কথা বলছেন। আসলে আমি মনে করি এটা আলাদা টুর্নামেন্ট ও আলাদা ফাইনাল হতে যাচ্ছে।

প্রতিপক্ষ নিয়েও কথা বলেন দেশম। তিনি বলেন, মদ্রিচ বড় খেলোয়াড়। সে মাঝমাঠের শিল্পী। টেকনিক্যালভাবে ও আর রাকিটিচ অবিশ্বাস্য। আপনারা খালি মেসি ও হ্যাজার্ডের কথা বলেন। মদ্রিচ গোল করেনি। সে মিডফিল্ডার। আর যা করেছে সেটা অবিশ্বাস্য। মেসি ও হ্যাজার্ড স্ট্রাইকার। আর স্ট্রাইকারের কাজ গোল করা। মিডফিল্ডার আপনার খেলাটা তৈরি করে দেয়।

ad

পাঠকের মতামত