যে কারণে পদত্যাগ করলেন এরশাদের উপদেষ্টা
মনোনয়নকে কেন্দ্র করে ক্ষোভে জাতীয় পার্টির সকল পদ পদবি থেকে পদত্যাগ করেছেন পার্টির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা রিন্টু আনোয়ার। বৃহস্পতিবার দুপুরে পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের হাতে পদত্যাগ পত্র পৌঁছে দেন।পদত্যাগপত্রে রিন্টু আনোয়ার বলেন, ‘উদ্ভুত প্রেক্ষাপট ও পরিস্থিতি বিবেচনায় আমাদের এক সাথে মনে হয় রাজনীতি করা সমীচীন হবে না।’ পার্টি থেকে পদত্যাগ করলেও রিন্টু আনোয়ার তার পদত্যাগ পত্রে এরশাদের সুস্বাস্থ্য, সফলতা ও জাতীয় পার্টির মঙ্গল কামনা করেন।জানা গেছে, পদত্যাগী রিন্টু আনোয়ার এরশাদের উপদেষ্টার পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরে ফেনী জেলা জাতীয় পার্টির সভাপতির দায়িত্বে ছিলেন।
দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফেনী-৩ আসনে মহাজোটের হয়ে জাতীয় পার্টির প্রার্থী ছিলেন। এবারও তিনি ছিলেন এই আসনের একমাত্র মনোনয়ন প্রত্যাশী। একাদশ সংসদ নির্বাচনের জন্য মনোনয়নপত্রও সংগ্রহ করেন তিনি। কিন্তু হঠাৎ করে দৃশ্যপটে হাজির হন ওয়ান ইলেভেনের আলোচিত সেনা কর্মকর্তা লে.জে.(অব.) মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী। এই আসনে জাতীয় পার্টির মনোনয়ন পত্র সংগ্রহ করেন তিনি। মুহূর্তেই সেনা কর্মকর্তা মাসুদ উদ্দিনের মনোনয়ন কেনার খবর ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। আর এতে কপাল পুড়ে রিন্টু আনোয়ারের।
জানা গেছে, মহাজোট থেকে জাতীয় পার্টির হয়ে মাসুদ উদ্দিনের মনোনয়ন অনেকটা নিশ্চিত। আর এতে মানসিকভাবে ভেঙ্গে পড়েন রিন্টু আনোয়ার। নির্বাচন করার আশায় তিনি বছরের পর বছর দলকে সুসংগঠিত করেছেন। শেষ মুহূর্তে মনোনয়ন না পাওয়ায় পার্টির চেয়ারম্যানের উপর চরম ক্ষুব্ধ হন রিন্টু ও তার অনুগত ফেনী জেলার নেতাকর্মীরা। এই অভিমানকে কেন্দ্র করে ক্ষোভে-অভিমানে শেষ পর্যন্ত জাতীয় পার্টি থেকে সরে দাঁড়ান রিন্টু আনোয়ার।
পদত্যাগের কথা স্বীকার করে রিন্টু আনোয়ার বলেন, ২০টি বছর এরশাদের সাথে সততা ও বিশ্বস্ততার সাথে নিরলসভাবে কাজ করেছি। কিন্তু আমার প্রতি যে অবিচার ও অসম্মানের ঘটনা ঘটেছে তাতে আমি মর্মাহত। সে বিবেচনায় আমার আর পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের সাথে কাজ করা সমীচীন হবে না মনে করি। এজন্যই আমি পার্টির সকল পদ থেকে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছি।




